শরীয়তপুর হাসপাতালে ডায়রিয়া রোগীর চাপ, স্যালাইন-ওষুধ সংকট - জনতার আওয়াজ
  • আজ বিকাল ৩:২১, বৃহস্পতিবার, ১৪ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩১শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৭শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

শরীয়তপুর হাসপাতালে ডায়রিয়া রোগীর চাপ, স্যালাইন-ওষুধ সংকট

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: রবিবার, এপ্রিল ১০, ২০২২ ১২:০২ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: রবিবার, এপ্রিল ১০, ২০২২ ১২:০২ অপরাহ্ণ

 

শরীয়তপুর প্রতিনিধি ॥ শরীয়তপুরে হঠাৎ ডায়রিয়ার প্রকোপ বেড়েছে। চাপ বাড়ছে হাসপাতালগুলোতে। গড়ে প্রতিদিন ভর্তি হচ্ছেন ৫০ জন রোগী। জেলা সদর হাসপাতালে রোগী বেড়েছে কয়েক গুণ। বিছানা খালি না থাকায় মেঝেতে রেখেও চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া হাসপাতালে আইভি স্যালাইন, রাইস স্যালাইনসহ অন্য ঔষধের সংকট দেখা দিয়েছে। ফলে বাইরে থেকে ঔষধ কিনতে হচ্ছে রোগীদের। সদর হাসপাতাল সূত্রে জানাগেছে, ১ এপ্রিল থেকে ৯ এপ্রিল সকাল পর্যন্ত শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ২১০ জন ডায়রিয়ার রোগী ভর্তি হয়েছেন। অনেকে সুস্থ্য হয়ে বাড়িতে ফিরেছেন। প্রতিদিন ৫০/৬০ জন ডায়রিয়ার রোগী হাসপাতালে আসছে। হাসপাতাল কতৃপক্ষ তাদের সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে। তাদেরকে পয়োজনীয় সেবা বা ঔষধপত্র দিতে পারছেনা। তাদের বক্তব্য হঠাৎ করে ডায়রিয়া বেড়ে যাওয়ায় সমস্যা হয়েছে। তবে রোগী ও রোগীর পরিবার কে সচেতন হতে হবে । তাজা খাবার খেতে হবে।
সদর উপজেলার মাহমুদপুর ইউনিয়নের ডায়রিয়ায় আক্রান্ত ১০ মাসের ছেলে নিয়ে হাসপাতালে আসেন তার মা আবেদা খাতুন । তিনি বলেন, শুক্রবার বিকেলে আমার ছেলেকে নিয়ে হাসপাতালে আসি। প্রথম দিন হাসপাতালের মেঝেতে ছিলাম। ফ্যান ছিল না, গরমে অতিষ্ঠ হয়ে গেছি। রোগী বেশী থাকায় ফ্লোরে বিছানা দেয়া হয়। রোগীর একটু চাপ কমলে বিছানা খালি হলে বেডে নেওয়া হয়। ঔষধপত্র স্যালাইন বাইরে থেকে কিনে হয়েছে। হাসপাতাল থেকে কোনো ঔষধ পাইনি।
কনেশ্বর এলাকার ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হাসিনা বেগম বলেন, তিন দিন আমার ডায়রিয়া হয়। পরে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছিলাম তাতে ভালো হইনি। গত বৃহস্পতিবার হাসপাতালে এসে ভর্তি হয়েছি। হাসপাতাল থেকে একটি খাবার স্যালাইন ও একটি ইনজেকশন দিয়েছে। বাইরে থেকে আইভি স্যালাইনসহ অন্য ঔষধ কিনতে হয়েছে।
সদর হাসপাতালের ডায়রিয়া ওয়ার্ডের সিনিয়র স্টাফ নার্স নুর জাহান বলেন, বেশি রোগী থাকলে দু’জন করে এবং কম থাকলে একজন নার্স রোগীদের সেবা দিয়ে যাচ্ছি। আইভি স্যালাইন ও শেষ হয়ে গেছে। ডায়রিয়া ওয়ার্ডে রয়েছে ১০টি বেড। রোগী বেশি হওয়ার কারণে অতিরিক্ত পাঁচটি বেড আনা হয়েছে।
সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আব্দুস সোবাহান বলেন, ডায়রিয়া রোগীর চাপ বেড়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, অসচেতনতা, আবহাওয়া পরিবর্তন ও হঠাৎ গরম পড়ায় ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছে। হাসপাতালে স্যালাইনের সংকট দেখা দিয়েছে। প্রয়োজনীয় স্যালাইন ও ঔষধের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে চাহিদা পাঠানো হয়েছে।
সিভিল সার্জন ডা. এসএম আব্দুল্লাহ আল মুরাদ বলেন, গরমের কারণেই ডায়রিয়ার প্রকোপ বেড়েছে। এ সময় বিশুদ্ধ খাবার ও বিশুদ্ধ পানি পান করতে হবে। বাসি খাবার খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকতে হবে।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ