সত্য উচ্চারণ: একটি প্রবাসীর প্রত্যক্ষদর্শন
নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ:
রবিবার, অক্টোবর ২৬, ২০২৫ ৯:১২ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ:
রবিবার, অক্টোবর ২৬, ২০২৫ ৯:১২ অপরাহ্ণ

লেখক: ব্যারিস্টার রফিক আহমেদ, লন্ডন
দেশের বাইরে থাকলেও মনটা সর্বদাই থাকে দেশের মাটিতে। দেশের রাজনীতি, আন্দোলনের সংবাদ, আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ম্যাচ—যেকোনো কিছুই প্রবাসী জীবনে বাংলাদেশের সাথে আমার আত্মার সম্পর্ককে উজ্জীবিত রাখে।
ফ্যাসিবাদ বিরোধী চিন্তা ও অলস প্রতিক্রিয়া
দেশ থেকে কোনো রক্তপাত ছাড়াই, বা নামমাত্র রক্তপাতে, ফ্যাসিবাদী শক্তিকে পরাভূত করার জন্য আমার একটি ক্ষুদ্র চিন্তা ও পরিকল্পনা বিভিন্ন মহলের সাথে শেয়ার করেছি। এর মধ্যে রয়েছে টুইটারের (বর্তমান এক্স) মাধ্যমে জনাব তারেক রহমানকে সরাসরি বার্তা প্রেরণ, মরহুম ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাকের সাথে সরাসরি কথা বলা এবং অন্যান্য উপায়ে আমার সাধ্য অনুযায়ী চেষ্টা চালানো। কিন্তু অজানা কারণে, প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক দলগুলো কোনো ইতিবাচক সাড়া দেয়নি। এই নিষ্ক্রিয়তা আমাকে গভীরভাবে হতাশ করেছে।
ভিপি নুর: একক কণ্ঠস্বর যে আশা জাগিয়েছিল
আমি ভিপি নূরকে কখনো দেখিনি, বা তার দলকে সমর্থন করিনি। কিন্তু যখন দেশের প্রায় সব রাজনৈতিক দল ও নেতৃত্ব নিষ্ক্রিয় ও নিস্তব্ধ হয়ে পড়েছিলেন, তখন একমাত্র ভিপি নূরকে দেখেছি শত অত্যাচার ও নির্যাতন সহ্য করেও দেশের মানুষের মুক্তির জন্য অকুতোভয় লড়াই চালিয়ে যেতে। কিছু মহল এই আন্দোলনকে সরকার কর্তৃক ‘পাতানো’ বলে প্রচার করলেও, আমি ব্যক্তিগতভাবে নূরের আন্দোলন পর্যবেক্ষণ করে সেটা বিশ্বাস করিনি। নূর আমার মতো অসংখ্য প্রবাসীর হৃদয়ে একটি বিশেষ স্থান দখল করে নিয়েছিল এবং দেশের মুক্তিকামী মানুষের মনে আশার সঞ্চার করেছিল।
একটি হারানো সুযোগ এবং একটি বীজের অঙ্কুরোদগম
২০১৮ সালে কেন বড় রাজনৈতিক দলগুলো তাদের পূর্ণ শক্তি নিয়ে মাঠে নামেনি, তা আমার জানা নেই। আমি মনে করি, ঐ সময়ে অনলাইন মিডিয়ায় ভিপি নূরের বিরুদ্ধে (সত্য-মিথ্যা যাই হোক) যে নেতিবাচক প্রচার চালানো হয়েছিল, তা তার অগ্রযাত্রাকে ব্যাহত করেছিল। তবে, ২০২৪ সালে শেখ হাসিনার পতনে ২০১৮ সালে ভিপি নূর কর্তৃক রোপিত সেই গণ-আন্দোলনের বীজের ভূমিকা অনস্বীকার্য। তিনি যে পথ দেখিয়েছিলেন, সেই পথেই পরবর্তীতে গণ-অভ্যুত্থান সফল হয়েছে বলেই আমি বিশ্বাস করি।
বর্তমান বাস্তবতা ও ভবিষ্যতের আহ্বান
এটি ওপেন সিক্রেট যে বিএনপির অনেক নেতা ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সাথে আঁতাত করে চলেছেন। অন্যদিকে, দলের প্রথম সারির অনেক নেতাকে হারিয়ে জামায়াত এককভাবে বড় কোনো রাজনৈতিক ঝুঁকি নিতে চায়নি। আর আওয়ামী লীগ এই বিভক্তি ও দুর্বলতার সুযোগ পুরোপুরি কাজে লাগিয়েছে।
এ ধরনের একটি ক্রিটিক্যাল সময়ে, আমার সবাইকে আহ্বান: আসুন আমরা ঐক্যবদ্ধ হই। ব্যক্তিগত বা দলীয় বিদ্বেষ, সংকীর্ণতা ও ষড়যন্ত্রের রাজনীতি পরিহার করে শুধুমাত্র দেশ ও জনগণের মুক্তির লক্ষ্যে কাজ করি। আমাদের মধ্যে বিভেদ না বাড়িয়ে জাতীয় সংহতি গড়ে তুলি। কারণ, বাংলাদেশের ভবিষ্যত আমাদের সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ওপরই নির্ভর করে।
জনতার আওয়াজ/আ আ