সন্তানকে নির্যাতনের অভিযোগে মা কারাগারে, দাদা-দাদির জিম্মায় শিশু - জনতার আওয়াজ
  • আজ রাত ৪:০৪, শনিবার, ২৩শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৯ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ৬ই জিলহজ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

সন্তানকে নির্যাতনের অভিযোগে মা কারাগারে, দাদা-দাদির জিম্মায় শিশু

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: রবিবার, মে ১৭, ২০২৬ ৫:৫৫ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: রবিবার, মে ১৭, ২০২৬ ৫:৫৫ অপরাহ্ণ

 

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
ছবি :সংগৃহীত
নিজের আড়াই বছরের শিশু সন্তানকে নির্যাতনের অভিযোগে সুমি আক্তার নামে এক মাকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে শিশুটির নিরাপত্তার বিষয় বিবেচনা করে তাকে মায়ের কাছ থেকে নিয়ে অস্থায়ীভাবে দাদা-দাদির জিম্মায় দেওয়া হয়েছে।

রবিবার (১৭ মে) ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৯-এ শুনানি শেষে বিচারক এই আদেশ দেন। আদালতে শিশুটির ওপর নির্যাতনের ভিডিও ফুটেজ উপস্থাপন করা হলে বিচারক শাহাদাত হোসেন ভূঁইয়া বিস্ময় প্রকাশ করেন।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, দীর্ঘদিন ধরে আড়াই বছরের শিশু মেহেরিমা খান তাইয়েবার ওপর শারীরিক নির্যাতন চালিয়ে আসছিলেন তার মা। শিশুটির শরীরে বিভিন্ন সময় আঘাতের চিহ্ন দেখে সন্দেহ হয় লন্ডনপ্রবাসী বাবার। পরে ঘরে গোপনে ক্যামেরা স্থাপন করা হয়। কয়েক মাসের ফুটেজ পর্যবেক্ষণের পর শিশুটির দাদা ঢাকার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সুমি আক্তারের বিরুদ্ধে মামলা করেন।

মামলাটি গ্রহণ করে আদালত গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করলে পুলিশ গত মে মাসে সুমি আক্তারকে গ্রেফতার করে। এরপর থেকে শিশুটি মায়ের সঙ্গেই কারাগারে ছিল।

শিশুটির দাদির অভিযোগ, পারিবারিক বিরোধ ও পরকীয়ার বিষয় প্রকাশ পাওয়ার পর থেকেই শিশুটির ওপর নির্যাতন বাড়ে। এমনকি শিশুটিকে হত্যা করা হতে পারে বলেও তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

দুপুরে মা ও শিশুকে আদালতে হাজির করা হলে শুনানির জন্য মামলাটি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৯-এ পাঠানো হয়। আদালতে উপস্থাপিত ভিডিও দেখে বিচারক অভিযুক্ত মাকে মানসিক চিকিৎসা নেওয়ার পরামর্শ দেন।

এসময় আসামিপক্ষের আইনজীবী দাবি করেন, শিশুটির ওজন কম হওয়ায় তাকে খাওয়ানোর সময় কিছুটা শাসন করা হয়েছিল। তবে আদালতে বিচারক শিশুটিকে দাদির কোলে নিতে বললে শিশুটি স্বতঃস্ফূর্তভাবে মায়ের কাছ থেকে দাদির কাছে চলে যায়। পরে আদালত মাকে কারাগারে পাঠিয়ে শিশুটিকে সাময়িকভাবে দাদার জিম্মায় দেন।

শুনানির সময় শিশুটির মা আদালতকে জানান, তাকে ছাড়া সন্তান থাকতে পারবে না। অতীত কর্মকাণ্ডের জন্য তিনি আদালতের কাছে ক্ষমাও চান। আদালত জানিয়েছেন, বুধবার মামলার পরবর্তী তারিখে শিশুটির শারীরিক ও মানসিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

বাদীপক্ষের আইনজীবী মো. বোরহান উদ্দিন জানান, এই নারীর ৩-৪ বিয়ে হয়েছে। প্রত্যক ঘরেই তার সন্তান রয়েছে। এসব সংসারে অশান্তি করে বিচ্ছেদ হয়ে টাকা নিয়ে আরেকটা বিয়ে করতেন এবং তাদের সন্তান তার বাবার কাছে রেখে আসতেন।

শিশুটির দাদী পারুল বেগমের দাবি তার ছেলে লন্ডন প্রবাসী, তার স্ত্রীকে তিনি সন্দেহ করে আসছিলেন, এজন্য গোপনে বাসার ভেতর দেওয়াল ঘড়িতে ক্যামেরা সেটআপ করে রেখেছেন। এতে শিশুটিকে তার মা মারধর করেন সেটা দেখা যায় এবং হাত বেধে জোড় করে খাবার খাওয়ানো হয়। এতে শিশুটির মুখ দিয়ে রক্ত বের হয়। এমন নির্যাতনের ফুটেজ লন্ডন থেকে শিশুটির বাবা দেখেন। তার পরিবারকে এই ফুটেজ পাঠিয়ে থানা পুলিশের সহযোগিতা নিতে বলেন। পরে পুলিশ এমন ঘটনা দেখে ঐ নারীকে গ্রেফতার করে।

ঘটনাটি ঘটেছে ঢাকার সাভার কলমা এলাকায়।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ