সমান্তরাল : সেলিম মোহাম্মেদ
নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ:
সোমবার, ফেব্রুয়ারি ২৬, ২০২৪ ২:৩৪ পূর্বাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ:
বুধবার, ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০২৪ ৫:২৯ অপরাহ্ণ

পঁচাশি বছর বয়সী বুড়ো গাছ থেকে পড়ে গিয়ে হাত ভেঙ্গে ফেলেছে, ডাক্তার সাহেব শুনেই বুড়োকে কৃমির ওষুধ দিয়ে বাড়ি পাঠিয়ে দিলেন। ডাক্তার সাহেবের সহকারী প্রশ্ন করলেন- বুড়োর ভেঙ্গেছে হাত, অথচ আপনি তাঁকে দিলেন কৃমির ওষুধ? ডাক্তার বললেন মনে রেখো, রোগের মূল উৎপাটন করতে না পারলে রোগীকে সুস্থ্য করা অসম্ভব। এই বুড়োর কৃমি না হলে কি পঁচাশি বছর বয়সে গাছে উঠতে গিয়েছে?
💃তোমার কথা শেষ করার আগে একটা গল্প শুনিয়ে বিদায় নিতে, আজ দেখি কথা শুরুই করলে গল্প দিয়ে! তুমি ঠিক আছো তো শুভ?
✍️ প্রভার ছুড়ে দেয়া প্রশ্নোত্তরে শুভ হাসতে হাসতে বললো, ঐ ডাক্তারের মতো আমিও রোগের মূল দিয়েই শুরু করলাম।
💃 আচ্ছা এবার রোগটা কী সেটা জানতে পারি?
✍️ অবশ্যই জানবে তবে তার আগে আমাকে বলো তো দেশে যে ভারতীয় পণ্য বর্জনের একটা আন্দোলন চলছে, তাতে কি মানুষ সারা দিচ্ছে?
💃এসব আন্দোলন আর বর্জন দিয়ে কিছু্ই হবে না। ভারতের মতো এতো বড় একটি দেশের পন্য আমাদের দেশের মতো ছোট একটি দেশ বর্জন করলে ওদের চেয়ে ক্ষতি আমাদেরই বেশি হবে।
✍️ আচ্ছা প্রভা তুমি কি বলতে পারবে পৃথিবীতে কতো গুলো দেশ আছে এবং জনসংখ্যার বিবেচনায় বাংলাদেশ কতো নাম্বার স্থানে রয়েছে?
💃পৃথিবীতে প্রায় দুই শত দেশ আছে, বাংলাদেশ তার মধ্যে খুবই ছোট একটি দেশ।
✍️না বন্ধু পৃথিবীতে জাতিসংঘের সদস্য দেশ আছে এক শত ছিয়ানব্বইটি, সদস্যের বাহিরের দেশগুলো মিলিয়ে সর্বমোট দেশ আছে দুই শত কুড়িটির মতো। জনসংখ্যার বিবেচনায় ভারত সবচেয়ে বৃহত্তম দেশ, বাংলাদেশ হলো সপ্তম বৃহত্তম দেশ। এবার তুমি বলো- পণ্য বর্জন কিংবা খরিদ্দার হিসেবে বাংলাদেশ কতোটুকু গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে অন্য একটি দেশের জন্য?
💃 তুমি যেভাবেই দেখো না কেনো, ভারতের পণ্য বর্জন করে বাংলাদেশ চলতে পারবে না।
✍️ বাংলাদেশ চলতে পারবে না কথাটা কোন ভাবেই মেনে নেয়া যায় না, এই পৃথিবীতে কেউ কারো জন্য আটকে থাকে না। স্বাধীনতা যুদ্ধের সময়েও অনেকেই ভেবেছিলো বাংলাদেশ স্বাধীন হলে অর্থনৈতিক ভাবে কোনদিনই ঘুরে দাঁড়াতে পারবে না। এটা সত্যি যে দেশ স্বাধীন হওয়ার পর একটি যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশ হিসেবে ১৯৭৫ পর্যন্ত বন্যা/দুর্ভিক্ষ/অব্যবস্থাপনার কারণে তখনকার সারে সাত কোটি বাংলাদেশীর দু’বেলা খাদ্য জোগানোটাই অসম্ভব হয়ে পড়েছিল, কিন্তু ধীরে ধীরে আমরা আজকের অবস্থানে এসেছি। এই লম্বা পথটা আমরা নিশ্চয়ই ভারত কিংবা অন্য কোন দেশের দান দক্ষিনা নিয়ে পাড়ি দিয়ে আসিনি? উপরন্তু আমাদের চলার পথে ভারত কাঁটা বিছিয়ে দিয়েছে বহুবার।
💃আচ্ছা আমরা ভারতের পণ্য বর্জন করলে একই মূল্যে কোথা থেকে এসব পণ্য পাবো? অন্য কোন দেশ থেকে কি স্বল্প মূল্যে পণ্য আমদানি করতে পারবো?
✍️অবশ্যই পারবো, তোমার কথা শুনে মনে হচ্ছে ভারত আমাদেরকে দয়া করে পণ্য দিচ্ছে! বন্ধু এখানেই তোমার আমার চিন্তার ফারাক। একটা কথা ভুলে গেলে চলবে না (Client is king) ক্রেতা হলো রাজা। আমরা ভারতের পণ্য খরিদ্দার অতোএব আমরা তাঁদের জন্য লক্ষী, তাঁরা যেখানে আমাদেরকে রাখবে একটি রাজকীয় স্থানে, সেখানে ভারতের সকল শ্রেণী পেশার মানুষেরা আমাদেরকে তুচ্ছতাচ্ছিল্য আর অসম্মানজনকভাবে চিত্রায়িত করে যাচ্ছে বিশ্বের সবার সামনে।
ভারত নিজেদেরকে দাবি করে সবচেয়ে বড় গনতান্ত্রিক দেশ অথচ ধ্বংস করে দিচ্ছে আমাদের সকল গনতান্ত্রিক রীতিনীতিকে। ভারতের বন্দনা করতে গিয়ে ধ্বংস করে দেয়া হয়েছে আমাদের শিক্ষা/চিকিৎসা ব্যবস্থাকে, স্বল্প মূল্যের লোভ দেখিয়ে অবশেষে দ্বিগুণ মূল্যে পন্য দিয়েছে আমাদেরকে। আদানি গ্রুপ বিদ্যুতের নামে যেভাবে লুণ্ঠন করে নিচ্ছে দেশের অর্থনীতিকে ঠিক একই ভাবে বাংলাদেশের প্রতিটি সেক্টরেই লুটপাট করে যাচ্ছে ভারত।
💃আচ্ছা তাঁরা তো আর জোর করে আমাদের উপর চাপিয়ে দিচ্ছে না তাঁদের পণ্য, কিন্তু আমরা নিজেরাই তো কিনছি মূল্য সাশ্রয় হবে বলে।
✍️হ্যা তাঁরা জোর করে চাপিয়ে দিচ্ছে না সত্যি কিন্তু এই পণ্য বর্জনের ডাক দেয়াতে তাঁদের দেশের সংবাদ মাধ্যম/বুদ্ধিজীবী সমাজ/আর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং আমাদের দেশের ভারতীয় দালাল সম্প্রদায়ের জীবগুলোর যে পরিমাণ গাত্রদাহ শুরু হয়েছে, তাতে তো মনে হচ্ছে আগুনটা ঠিক জায়গাতেই লেগেছে। আমি গত দু সপ্তাহ যাবৎ পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে দেখেছি ধীরে ধীরে ভারতীয় পণ্য বর্জনের ছোবল টা গভীর থেকে গভীরতর হচ্ছে। আমরা কারো সাথেই যুদ্ধ চাই না, তবে আমাদেরকে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করলে আমরা নিরবেই জবাব দিয়ে দেবো। আমাদের একান্ত প্রয়োজন ছাড়া এমন অনেক ভারতীয় পণ্য আছে যা বর্জন করলে আমাদের কিছুই হবেনা, কিন্তু ভারত এই আঠারো কোটি মানুষের বাজার হারানোর ধাক্কা সামলাতে পারবে না।
💃 বুঝলাম তোমার কথা, কিন্তু তোমার মনে আছে ভারত যখন পিঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করে দিয়েছিল তখন আমাদের কি অবস্থা হয়েছিল?
✍️হ্যা সে জন্যই তো বলছি ভারতের পণ্য বর্জন করাই আমাদের জন্য শ্রেয়। ধরো ভারত থেকে আমরা পিঁয়াজ পেতাম পঞ্চাশ টাকায় কেজি, আর অন্য দেশ থেকে আনলে মূল্য হতো ষাট টাকা কেজি, ভারত আমাদেরকে প্রথম কয়েক মাস পঞ্চাশ টাকা কেজিতে দিয়ে হঠাৎ রপ্তানি বন্ধ করে বাকি সারা বছর এক শত পঞ্চাশ টাকা কেজিতে পিঁয়াজ খেতে বাধ্য করেছে, এভাবে হঠাৎ হঠাৎ করে এক একটি পন্যের বাজার অস্থির করে আমাদের কাছ থেকে লক্ষ কোটি টাকা লুণ্ঠন করে আমাদেরকে সর্বস্বান্ত করে দিচ্ছে। তারচেয়ে ভালো অন্য কোন দেশ থেকে সারা বছর দশ টাকা বেশি মূল্যে পন্য খরিদ করা, অন্তত পক্ষে আমাদের বাজার অতোটা অস্থির হবেনা, আমরাও সর্বস্বান্ত হবো না।
💃ভারত আমাদের বন্ধু রাষ্ট্র, ১৯৭১ এর স্বাধীনতা যুদ্ধে আমাদেরকে সহযোগিতা করেছিল, আমাদের উচিত হবে তাঁদের সাথে বন্ধুত্ব রক্ষা করে এগিয়ে যাওয়া।
✍️ বন্ধু এই নশ্বর পৃথিবীতে কোন কিছুই অবিনশ্বর নয়,তাই বন্ধুরাও পরিবর্তন হতে পারে! ভারত কোন প্রতিবেশী দেশের সাথেই তাঁদের বন্ধুত্ব টিকিয়ে রাখতে পারেনি কারণ তাঁরা শুধু নিজের স্বার্থকেই প্রাধান্য দিয়েছে পাশাপাশি প্রতিবেশী দেশের স্বার্থকে জলাঞ্জলি দিয়েছে সর্বক্ষেত্রে, এভাবে বন্ধুত্ব টিকিয়ে রাখা যায়না। যেমন নেপাল/ভুটান/শ্রীলঙ্কা/মালদ্বীপ/চায়না/পাকিস্তান কারো সাথেই তাঁদের বন্ধুত্ব নেই, কিছু ভারতীয় দালাল ছাড়া বাংলাদেশের পঁচানব্বই ভাগ সাধারণ মানুষের সাথেও নেই! এখন এই পঁচানব্বই ভাগ মানুষ মিলে ভারতীয় পণ্য বর্জন করলেই ভারত তাঁর উপযুক্ত শিক্ষাটা পেয়ে যাবে। আমাদের ভারতীয় আগ্রাসন থেকে বাঁচতে হলে তাঁদের পণ্য বর্জন অবশ্যই করতে হবে। বাংলাদেশকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাওয়ার মূল কারিগর হচ্ছে ভারত, এই ভারত নামের অভিশপ্ত রোগ থেকে মুক্তি পেতে হলে আমাদেরকে তাঁদের মূলে আঘাত করতে হবে। এই মূল রোগকে যে সনাক্ত করেছেন তিনিও একজন ডাক্তার! ডাঃ পিনাকী ভট্টাচার্য, আমি তাঁর সাথে সম্পুর্ন একাত্বতা প্রকাশ করছি, আপনাদেরকেও অনুরোধ করছি, চলুন আমরা সবাই ভারতীয় পণ্য বর্জন করি। আমাদের দেশীয় পণ্য ব্যবহার করে দেশের শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখি।
জনতার আওয়াজ/আ আ