সরকারের সর্বোচ্চ সমালোচনা করে তথ্য দেবেন: তথ্যমন্ত্রী - জনতার আওয়াজ
  • আজ রাত ৯:২৯, বৃহস্পতিবার, ১৪ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩১শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৭শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

সরকারের সর্বোচ্চ সমালোচনা করে তথ্য দেবেন: তথ্যমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: বৃহস্পতিবার, এপ্রিল ৯, ২০২৬ ৪:২২ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: বৃহস্পতিবার, এপ্রিল ৯, ২০২৬ ৪:২২ অপরাহ্ণ

 

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
ছবি সংগৃহীত
তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, এই জাতির মধ্যে চিন্তা জগত রয়েছে। সরকারের সর্বোচ্চ সমালোচনা বা অনুসন্ধানী মন্তব্য করবেন এবং সরকারের কাছে তুলে ধরবেন। সরকারের কাছে তুলে ধরলে সরকার উপকৃত হবে।

হস্পতিবার (৯ এপ্রিল) সকালে রাজধানীতে এসডিজি বাস্তবায়নে নাগরিক প্লাটফর্ম বাংলাদেশ ও ইকোনোমিক রিপোর্টার্স ফোরামের আয়োজনে অনুষ্ঠিত ‘বাংলাদেশ রিফর্ম ট্র্যাক এবং গণমাধ্যমের প্রাসঙ্গিকতা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাংবাদিক ও বিশ্লেষক জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি বলেন, সরকার কার্যত মাত্র কিছুদিন আগে ক্ষমতায় এসেছে, সেই সঙ্গে এখনও তারা প্রশ্নের উত্তর দেয়ার পর্যাপ্ত পরিপক্বতা অর্জন করতে পারেনি। “সরকারের ভুলগুলো আমরা তুলে ধরব এবং জনসমক্ষে দেখাবো,” তিনি বলেন।

জহির উদ্দিন স্বপন আরও বলেন, “আগের সরকারের চিন্তাভাবনা ও অভিজ্ঞতা থেকে আমরা শিক্ষা নিয়েছি। আমরা আগে বারবার ক্ষমতায় ছিলাম। ভুল এবং প্রশংসা—দুটিই আমাদের ইতিহাসে রয়েছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পরিবর্তন এবং গনতান্ত্রিক পথে এগিয়ে চলা, এগুলো আমরা দেখেছি এবং আমাদের চিন্তায় রয়েছে। খারাপ কাজ করলে তা কতটা নির্মম এবং অপমানজনক হতে পারে, তা আমরা উপলব্ধি করি। যার সামান্য চিন্তা-চেতনা আছে, সে শিক্ষা নেবে।”

তিনি বলেন, “সংস্কার একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সবসময় সংস্কার ইতিবাচক ফলাফল দেয়। আমরা সেই পথে এগোচ্ছি। আমাদের দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়ন করব। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন নিয়ে কাজ করা হচ্ছে, যাতে সবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়। আমরা নির্যাতিত সাংবাদিক, গুম ও হত্যার ন্যায্য প্রতিকার পেতে একটি কার্যকর ফ্রেমওয়ার্ক গড়ে তুলছি। এছাড়া অবসরপ্রাপ্ত সাংবাদিকদের ভাতা, বিজ্ঞাপনের নীতিমালা এবং সার্কুলেশন বিষয়ক কাঠামো সঠিকভাবে কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। প্রতারণার সুযোগ নেওয়া হলে তা বন্ধ করা হবে।”

অধ্যাপক ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য, সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগ (সিপিডি)-এর সম্মাননীয় ফেলো, সভায় বলেন, “সংস্কার একটি চলমান প্রক্রিয়া। অর্থনীতির গতিশীলতা বজায় রাখতে সংস্কার অপরিহার্য। এটি কোনো স্থির বা শেষপর্যায়ের বিষয় নয়। এটি অব্যাহত প্রক্রিয়া হিসেবে অর্থনীতিকে প্রাণবন্ত রাখে, যেমন মানুষের দেহে রক্ত সঞ্চালন গুরুত্বপূর্ণ।”

দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য আরও বলেন, “ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান এবং জনমত থেকে চেতনা এসেছে, যা সংস্কারের আকাঙ্ক্ষাকে আরও প্রকাশ্য করেছে। রাজনীতিবিদরা এবারের নির্বাচনের ইশতেহার তৈরি করার সময় সংস্কারের প্রয়োজন এবং জনসাধারণের প্রত্যাশাকে অন্তর্ভুক্ত করেছেন। সংস্কারের ধারণা বাংলাদেশে স্বাধীনতার পর থেকেই বিদ্যমান। উদাহরণস্বরূপ, তাজুদ্দিন আহমেদ সাহেব অর্থমন্ত্রী থাকাকালীন যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশে কলকারখানা এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান পুনর্গঠন করেছিলেন।”

তিনি উল্লেখ করেন, “বাংলাদেশের অর্থনীতি ও নীতি নির্ধারণের ক্ষেত্রে সাইফুর রহমান সাহেবের নাম অতি গুরুত্বপূর্ণ। তার সংস্কারের মধ্যে দুটি বৈশিষ্ট্য ইতিহাসে স্মরণীয় থাকবে—একটি হল ভ্যাটের প্রবর্তন এবং অন্যটি হল নমনীয় বিনিময় হারের বাস্তবায়ন।”

সভায় উপস্থিত ছিলেন নিউএজের সম্পাদক নুরুল কবির, প্রথম আলোর সাংবাদিক সৈকত হোসেন মাসুম, ইকোনোমিক রিপোর্টার্স ফোরামের সভাপতি দৌলত আক্তার মালা এবং সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম। অনুষ্ঠানে বক্তারা বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা ও গণমাধ্যমের ভূমিকার ওপর আলোকপাত করেন।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ