সরকার আদালতকে নিপীড়নের হাতিয়ারে পরিণত করেছে: হাসনাত কাইয়ুম
নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ:
রবিবার, সেপ্টেম্বর ৩, ২০২৩ ৪:৪৪ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ:
রবিবার, সেপ্টেম্বর ৩, ২০২৩ ৪:৪৪ অপরাহ্ণ

নিউজ ডেস্ক
সরকার গত ১৫ বছর যাবত উচ্চ আদালতকে সাংঘাতিকভাবে ব্যবহার করছে অভিযোগ করে রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক অ্যাড. হাসনাত কাইয়ুম বলেছেন, তারা উচ্চ আদালতকে মানুষের রাজনৈতিক অধিকারের বিপরীতে সবচেয়ে বড় নিপীড়নের হাতিয়ারে পরিণত করেছে।
তিনি বলেছেন, সরকার লুটপাট, অর্থ আত্মসাৎ, পাচার, ব্যাংক লুটপাট করার জন্য একটির পর একটি আইন বানাচ্ছে এবং ব্যবহার করছে। এই আইনগুলো কার্যকর করার জন্য আগে তারা (সরকার) পুলিশ ও নিম্ন আদালতকে ব্যবহার করতো। কিন্তু গত ১৫ বছর যাবত তারা (সরকার) সাংঘাতিকভাবে উচ্চ আদালতে ব্যবহার করছে। এবং উচ্চ আদালত মানুষের রাজনৈতিক অধিকারের বিপরীতে সবচেয়ে বড় নিপীড়নের হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে। এই ধরনের নিপড়নের মধ্যে দিয়ে তারা (সরকার) আসলে দেশের বিচার ব্যবস্থা ও আইন ব্যবস্থা ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গেছে। এটাকে তারা রক্ষা করতে পারবে না।
রবিবার (৩ সেপ্টেম্বর) ‘সাইবার নিরাপত্তা আইন: বাক স্বাধীনতা হরণের নয়া হাতিয়ার’ শীর্ষক আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জাতীয় প্রেসক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে এই আলোচনা সভার আয়োজন করে ছয়টি রাজনৈতিক দলের সমন্বয়ে গঠিত জোট গণতন্ত্র মঞ্চ।
আলোচনা সভায় অ্যাড. হাসনাত কাইয়ুম আরো বলেন, এই সরকার তার বিরুদ্ধে যে রাজনীতি আছে, সেই রাজনীতিকে সাইবার ক্রাইম যেগুলো হতে পারে, সেগুলোর সঙ্গে মিলিয়ে নতুন করে সাইবার নিরাপত্তা আইন তৈরি করেছে। অতএব এই আইন বাতিল করতে হবে। এটি করার জন্য প্রয়োজন হলে এই সরকারকে যেতে হবে, শাসন কাঠামোকে যেতে হবে। মানুষের বাক স্বাধীনতা, ভাবনার স্বাধীনতা, কথা বলার স্বাধীনতা, রাজনীতি করার স্বাধীনতার বিরুদ্ধে কোনো আইন দাঁড়াতে পারে না।
তিনি আরো বলেন, আইনের নামে বজ্জাতি কিংবা দমনমূলক ব্যবস্থা বাতিল করার জন্য মানুষ ১৯৭১ সালে যুদ্ধ করেছে, ৯০ সালে গণঅভ্যূত্থান করেছে। এখন এগুলো বাতিল করার জন্য মানুষ আপনাদের (সরকার) ক্ষমতা থেকে বিতাড়িত করবে।
গণতন্ত্র মঞ্চের এই নেতা আরো বলেন, এই সরকারকে যেমন বিদায় করতে হবে, তেমনি এই শাসন ব্যবস্থাকেও বিদায় করতে হবে। এই শাসন ব্যবস্থার যে ক্ষমতা কাঠামো, যেই ক্ষমতার বলে তারা (সরকার) যা ইচ্ছে তাই করে, কিন্তু তাদেরকে কোনো জবাব দিতে হয় না। সেই জবাববিহীন ক্ষমতা কাঠামোকে নতুন করে সংস্কার করে রাষ্ট্রীয় সংস্কারের ভেতর দিয়ে বাংলাদেশকে একটি সত্যিকারের গণতান্ত্রিক, গণপ্রজাতন্ত্রী দেশে রূপান্তরিত করতে হবে। সেই লক্ষ্যে গণতন্ত্র মঞ্চ কাজ করছে।
এ সময় আলোচনা সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি, ভাসানী অনুসারী পরিষদের আহ্বায়ক শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারন সম্পাদক সাইফুল হক, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) সিনিয়র সহ-সভাপতি তানিয়া রব প্রমুখ।
জনতার আওয়াজ/আ আ