সরকার ঘোষিত ক্ষতিপূরণ প্রত্যাখ্যান, ৫ দফা দাবি শহীদ পরিবারের - জনতার আওয়াজ
  • আজ সন্ধ্যা ৭:৪১, বৃহস্পতিবার, ১৪ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩১শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৭শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

সরকার ঘোষিত ক্ষতিপূরণ প্রত্যাখ্যান, ৫ দফা দাবি শহীদ পরিবারের

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: বৃহস্পতিবার, জানুয়ারি ৮, ২০২৬ ৩:৩৫ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: বৃহস্পতিবার, জানুয়ারি ৮, ২০২৬ ৩:৩৫ অপরাহ্ণ

 

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
ছবি: সংগৃহীত

সরকার ঘোষিত ক্ষতিপূরণ প্রত্যাখ্যান করে পাঁচ দফা দাবিতে প্রতিবাদ সভা করেছে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিমান বাহিনীর প্রশিক্ষণ বিমান দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবার।

বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির হলে আয়োজিত “মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ বিমান বাহিনীর প্রশিক্ষণ বিমান দুর্ঘটনার সরকার কর্তৃক ঘোষিত ক্ষতিপূরণ শহীদ পরিবার কর্তৃক প্রত্যাখ্যান” শীর্ষক প্রতিবাদ সভায় তারা এসব দাবি তুলে ধরেন।

শহীদ পরিবারগুলোর বক্তব্যে বলা হয়, বিশ্ব ইতিহাসে সামরিক বাহিনীর কোনো প্রশিক্ষণ বা যুদ্ধবিমান একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিধ্বস্ত হয়ে এত প্রাণহানির ঘটনা নজিরবিহীন। দুর্ঘটনার আকস্মিকতায় গোটা জাতি স্তম্ভিত হয়ে পড়ে।

দুর্ঘটনায় প্রশিক্ষণ বিমানের পাইলটসহ ২৮ জন শিক্ষার্থী, ৩ জন অভিভাবক, ৩ জন শিক্ষিকা ও ১ জন পরিচারিকা নিহত হন। আহত হন ১৭২ জন। শহীদ পরিবারের ভাষায়, তাদের চোখের সামনে নিষ্পাপ শিশুদের আগুনে পুড়ে মৃত্যুবরণ করতে দেখা গেছে—যা কোনো ভাষায় প্রকাশযোগ্য নয়।

তারা জানান, নিহত শিশুরা শুধু সন্তান নয়, তারা ছিল পরিবারের স্বপ্ন ও ভবিষ্যৎ। এ দুর্ঘটনায় কেউ নিঃসন্তান হয়েছেন, কেউ হয়েছেন নিঃবংশ। আশরাফুল ইসলাম দম্পতি তাদের দুই সন্তান নাজিয়া ও নাফিকে, উসাইমং মারমা তার একমাত্র সন্তানকে এবং রেজাউল করিম তার একমাত্র পুত্রকে হারিয়েছেন।

ঘটনার পরদিন ২২ জুলাই ২০২৫ জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিয়ে দিনটিকে জাতীয় শোক দিবস ঘোষণা করা হয়। এরপর ন্যায়বিচার নিশ্চিতে হাইকোর্টে রিট পিটিশন দায়ের করা হলে ক্ষতিপূরণ প্রদানের বিষয়ে রুল জারি হয়। তবে শহীদ ও আহত পরিবারের অভিযোগ, সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দেওয়া মৌখিক ও লিখিত আশ্বাস আজও বাস্তবায়িত হয়নি।

১১ ডিসেম্বর ২০২৫ শহীদ পরিবারকে ২০ লাখ এবং আহতদের ৫ লাখ টাকা দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হলে তা ১৪ ডিসেম্বর প্রত্যাখ্যান করা হয়। পরবর্তীতে প্রত্যেক শহীদ পরিবারকে সর্বোচ্চ এক কোটি ও আহতদের সর্বোচ্চ ৬০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণের প্রস্তাব উঠলেও সেটিও তারা প্রত্যাখ্যান করে পুনরায় পাঁচ দফা দাবি উত্থাপন করেন।

শহীদ পরিবারগুলোর দাবির মধ্যে রয়েছে—দুর্নীতির অভিযোগে দায়ীদের শাস্তি ও ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করা, রিট অনুযায়ী ন্যায্য আর্থিক ক্ষতিপূরণ, নিহতদের শহীদি মর্যাদা ও স্মৃতিসৌধ নির্মাণ, ২১ জুলাইকে জাতীয় শিক্ষা শোক দিবস ঘোষণা এবং শহীদ পরিবারগুলোর দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসন।

সভা শেষে শহীদ পরিবারগুলোর একটাই আকুতি—ন্যায়বিচার, নিরাপত্তা এবং তাদের প্রিয়জনদের আত্মার শান্তি নিশ্চিত করা।

এসময় শহীদ পরিবারের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন, আশরাফুল ইসলাম মোঃ রেজাউল করিম মোঃ রফিক মোল্লা, উসাই মং মারমা প্রমুখ।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ