সাঁজোয়াযান (জুলাই হত্যাকাণ্ডের শিকার ‘ইয়ামিন’কে)
নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ:
শনিবার, আগস্ট ৩১, ২০২৪ ৮:১৩ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ:
শনিবার, আগস্ট ৩১, ২০২৪ ৮:১৩ অপরাহ্ণ

শহীদুল্লাহ ফরায়জী
জুলাই হত্যাকাণ্ডে
গুলিতে রক্তাক্ত হয়ে
পুলিশের সাঁজোয়াযানে চ’ড়ে
খুব আনন্দ পেয়েছিলাম,
মনে হচ্ছিলো ডানাওয়ালা ঘোড়া
উড়িয়ে নিয়ে যাচ্ছে।
হঠাৎ বুঝলাম হাসপাতালে নয়
মুমূর্ষু আমাকে দিন-দুপুরে
ছুঁড়ে ফেলে দিচ্ছে রাস্তায়,
আবর্জনার মতো নিক্ষেপ করেছে
দেয়ালের ওপারে, তখনো মৃত্যু হয়নি।
ভাবলাম এতো ক্রোধ আমার প্রতি!
মৃত্যু নিশ্চিত করে গেলো,
সাঁজোয়াযানে আরো কিছুক্ষণ
বেঁচে থাকলে ওদের কি ক্ষতি হতো!
ওদের সাথে দেখা ক’রে
উত্তরটা জেনে নিও বাবা।
বাবা বিশ্বাস করো,
তোমার মতো আমিও বলি—
মানুষ কেমন ক’রে পারে!
সূর্যটা কেঁপে উঠলো
অথচ ওদের হাত কাঁপলো না,
মৃত্যু পথযাত্রী জেনেও আমাকে
হত্যা করলো আমারই রাষ্ট্র!
ওরা বেশ দক্ষ,
গুলিতে দেহ ছিন্নভিন্ন করে।
কিন্তু বিবেকে গুলি করার
কোনো সমরাস্ত্র ওদের ভাণ্ডারে নেই।
আমার দেহ ক্ষত, বিবেক অক্ষত
ওরা যে কি বোকা!
তুমি আর কতো কাঁদবে বাবা
আমি তো চিরকালের জন্য চ’লে এসেছি।
অনাগত সময়ে রাস্তায় বের হলেই
সাঁজোয়াযানের সেই দৃশ্য দেখবে—
আমার প্রাণ নিয়ে নিচ্ছে ক্ষিপ্র গতিতে।
বাবা, তুমি এমন দূরে চলে যেও
যেখানে সাঁজোয়াযান নেই।
না, তুমি যাবে
যারা প্রাণ প্রাচুর্যে ভরপুর
অমিত সম্ভাবনাময়, তাদের কাছে।
তারাই তোমার ‘ইয়ামিন’, তোমার সন্তান।
আমার শেষ কথাটি শুনবে বাবা?
তোমার পুত্র হত্যার বিনিময়ে
তুমি রাষ্ট্রের কাছে একটা জিনিস চাইবে—
সেই সাঁজোয়াযানটি
যেনো আমার কবরের পাশে রেখে দেয়।
নিষ্পাপ শিশুরা খেলবে আর জানবে—
সাঁজোয়াযান কোনো দানব নয়, খেলনা।
ওরা নিঃশঙ্ক চিত্তে বড় হোক।
faraizees@gmail.com
জনতার আওয়াজ/আ আ