সারাবিশ্ব সুষ্ঠু নির্বাচন চায় কেউ নেই সরকারের পাশে : মির্জা আব্বাস - জনতার আওয়াজ
  • আজ রাত ৮:০৬, বৃহস্পতিবার, ১৪ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩১শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৭শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

সারাবিশ্ব সুষ্ঠু নির্বাচন চায় কেউ নেই সরকারের পাশে : মির্জা আব্বাস

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: বৃহস্পতিবার, জুলাই ২০, ২০২৩ ৮:৪২ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: বৃহস্পতিবার, জুলাই ২০, ২০২৩ ৮:৪৩ অপরাহ্ণ

 

নিউজ ডেস্ক

বিএনপির পদযাত্রার পাল্টা দু’দিন শোভাযাত্রা করেছে আওয়ামী লীগ। রাজধানীতে বড় দুই দলের রাজপথে শক্তি প্রদর্শনের এ লড়াইয়ে যানজটে নাকাল হয় নগরবাসী। কর্মদিবসে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত নগরজুড়ে পাল্টাপাল্টি শোডাউন আর কত দিন চলবে– এমন প্রশ্ন রাখেন ক্ষুব্ধ ভুক্তভোগীরা। অবশ্য বিরোধী দলের সরকারের পদত্যাগের এক দফা দাবির প্রতিটি কর্মসূচির পাল্টা শান্তি সমাবেশের মাধ্যমে রাজপথে থাকার ঘোষণা রয়েছে ক্ষমতাসীন দলের। এ পরিস্থিতিতে সংঘাতের আশঙ্কা করছেন অনেকে

সরকার পতনের এক দফা দাবিতে গতকাল বুধবার রাজধানীর উত্তরার আবদুল্লাহপুর থেকে যাত্রাবাড়ী চৌরাস্তা পর্যন্ত পদযাত্রা করেছে বিএনপি। তীব্র রোদ ও গরম উপেক্ষা করে ২৬ কিলোমিটার দীর্ঘ পদযাত্রা করেন দলটির অসংখ্য নেতাকর্মী। প্রায় দুই কিলোমিটার দীর্ঘ মিছিল থেকে সরকারের বিরুদ্ধে স্লোগান দেন তারা। পদযাত্রা শেষে যাত্রাবাড়ী চৌরাস্তায় সমাবেশে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের বক্তব্যের জবাবে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেছেন, সারা বিশ্ব সুষ্ঠু নির্বাচন চায়। দু-একটি কর্তৃত্ববাদী দেশ ছাড়া, কেউ নেই সরকারের পাশে। পদযাত্রার পাল্টা কর্মসূচি আওয়ামী লীগের শোভাযাত্রায় ওবায়দুল কাদের বলেছিলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিরা বলে গেছেন, বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন হবে।’ এর জবাবে মির্জা আব্বাস বলেছেন, বিএনপিও সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন চায়। তবে আওয়ামী লীগের কাঁটাছেড়া করা সংবিধানে নয়, আসল সংবিধানে নির্বাচনে হতে হবে। দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন হবে না। যারা নির্বাচনে অংশ নেবে, তারা সরকারের দালাল হিসেবে গণ্য হবে। দালালদের বিচার বাংলার মাটিতে হবে। গত মঙ্গলবার পদযাত্রার প্রথম দিনে বিভিন্ন স্থানে আক্রমণ হয় বিএনপির কর্মসূচিতে। লক্ষ্মীপুরে পুলিশের বাধার পর আওয়ামী লীগের হামলা হয়। সংঘর্ষে ধারালো অস্ত্রের কোপে নিহত হয়েছেন কৃষক দলের কর্মী সজীব হোসেন। পদযাত্রায় হতাহত কর্মীদের স্মরণে আজ বৃহস্পতিবার বেলা ৩টায় নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে মগবাজার পর্যন্ত শোক র‍্যালি করবে বিএনপি।

মির্জা আব্বাস এ কর্মসূচি ঘোষণা করে বলেছেন, প্রতিটি গুলির হিসাব দিতে হবে। গত ১৫ বছরে বিএনপির পাঁচ হাজার নেতাকর্মীকে হত্যা ও গুম করা হয়েছে। প্রতিটি ঘটনার বিচার করা হবে। সব পুলিশ খারাপ নন, যারা খারাপ, তারা সাবধান হয়ে যান। গতকাল বেলা ১১টায় আবদুল্লাহপুরের পলওয়েল মার্কেটের সামনে থেকে শুরু হয় ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ মহানগর বিএনপির পদযাত্রা। সকাল ৮টা থেকে সেখানে জমায়েত হন নেতাকর্মীরা। দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ছবি সংবলিত ব্যানার ছাড়াও তারা আসন্ন সংসদ নির্বাচনে দলের মনোনয়নপ্রত্যাশী এবং কারাবন্দি নেতাদের ফেস্টুন নিয়ে সমবেত হন। সরকারের পদত্যাগ দাবিতে বিভিন্ন স্লোগানযুক্ত পোস্টারও ছিল।

নিজ নিজ সংগঠন ও শাখার টুপি পরে, কপালে ফিতা বেঁধে পদযাত্রায় যোগ দেন যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, ছাত্রদল, শ্রমিক দল, কৃষক দল, মহিলা দলের নেতাকর্মী। তারা প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ এবং নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে নানা স্লোগান দেন। পদযাত্রার পুরো পথে পুলিশের কড়া নিরাপত্তা ছিল। মোড়ে মোড়ে ছিল বিপুলসংখ্যক পুলিশের উপস্থিতি। তবে বিএনপি কর্মসূচিতে তারা বাধা দেয়নি, বরং যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করে সহায়তা করে। যান চলাচল বন্ধ হওয়ায় যানজটে চরম ভোগান্তি হয় সাধারণ মানুষের। গতকাল চট্টগ্রাম, খুলনা ও দিনাজপুরেও হয়েছে বিএনপির পদযাত্রা। দিনাজপুরে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, খুলনায় স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় ও চট্টগ্রামে স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী নেতৃত্ব দেন।

ঢাকায় পদযাত্রা শুরুর আগে হওয়া সমাবেশে স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান বলেন, আজ সবাই জেগে উঠেছে। এক দফা এক দাবি বাস্তবায়ন করে এ সরকারকে বিদায় দিতে হবে। উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমান উল্লাহ আমানের সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব আমিনুল হকের সঞ্চালনায় বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জয়নুল আবদিন ফারুক, গাজীপুর জেলা সভাপতি ফজলুল হক মিলন, বিএনপি নেতা কামরুজ্জামান রতন প্রমুখ বক্তৃতা করেন। মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি নেতা ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, মীর সরফত আলী সপু, সেলিমুজ্জামান সেলিম, আজিজুল বারী হেলাল, রকিবুল ইসলাম বকুল প্রমুখ। সমাবেশ শেষে বিএনপির নেতাকর্মীরা খণ্ড খণ্ড মিছিলে শুরু করেন পদযাত্রা। পদযাত্রার প্রথম দিনে হামলা ও হতাহতের প্রতিবাদে স্লোগান দেন তারা। সকালের সমাবেশে মির্জা আব্বাস বলেন, হামলা হলে আর ছেড়ে দেব না। জনগণ, বিএনপির নেতাকর্মীরা জেল খাটতে শিখেছে, মৃত্যুবরণ করতে শিখেছে। এখন থেকে অত্যাচারের জবাব দেব। আবদুল্লাহপুর থেকে বিমানবন্দর সড়ক হয়ে কুড়িল বিশ্বরোড, নতুন বাজার, বাড্ডা, রামপুরা ব্রিজ পার হয়ে ১৭ কিলোমিটার পথ হেঁটে বিকাল সাড়ে ৩টায় আবুল হোটেল এলাকায় পৌঁছান নেতাকর্মীরা। এখানে আগে থেকেই জমায়েত হন দক্ষিণ বিএনপির হাজার হাজার নেতাকর্মী। সেখান থেকে মালিবাগ, বাসাবো, মুগদা, গোলাপবাগ, সায়েদাবাদ হয়ে যাত্রাবাড়ী পৌঁছায় পদযাত্রার মিছিল। তখনও মিছিলটির শেষ ভাগ ছিল দুই কিলোমিটার দূরের গোলাপবাগে।

১২ জুলাই নয়াপল্টনের সমাবেশ থেকে সরকার পতনের ‘এক দফা’ ঘোষণা করে বিএনপি। প্রথম দিনের কর্মসূচি হিসেবে মঙ্গলবার রাজধানীর গাবতলী থেকে পুরান ঢাকার রায় সাহেব বাজার পর্যন্ত ১৫ কিলোমিটার পদযাত্রা করে। আগের দিনের মতো গতকালও পদযাত্রার পথে পথে ছিল উৎসুক মানুষের ভিড়। অনেক কর্মী ফুটপাথে বসে জিরিয়ে নেন। ঘামে ভেজা যাত্রাবাড়ী থানার যুবদল কর্মী আবু ফাহাদ জানান, আবদুল্লাহপুর থেকে হাঁটছেন। সাধারণ মানুষ সাধারণত রাজনৈতিক কর্মসূচি থেকে দূরে থাকেন বিপদের ভয়ে। কিন্তু এবার সাধারণ মানুষ ও দোকানিরা ফ্রিজের ঠান্ডা পানি দিয়েছেন, যা আগে দেখেননি। যাত্রাবাড়ীর সমাবেশে সভাপতিত্ব করা ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক আবদুস সালাম বলেন, ‘আইজিপিকে বলি, বিএনপির কর্মসূচির দিনে আওয়ামী লীগ পাল্টা কর্মসূচি দেয়। পদযাত্রায় যত হতাহত ও হামলা হয়েছে, এর হুকুমের আসামি করতে হবে ওবায়দুল কাদেরকে।’ সেখানে মির্জা আব্বাস বলেছেন, ‘বিচারপতি খায়রুল হকের তৈরি করা সংবিধানের অধীনে বিএনপি নির্বাচনে যাবে না। তাঁর বিচার হবে।’ আসন্ন নির্বাচন ঘিরে বিভিন্ন দেশের তৎপরতার বিষয়ে তিনি বলেছেন, বিদেশিদের আমরা (বিএনপি) দাওয়াত করে আনিনি। তারা এসেছেন এই দেশে ভোট চুরি, খুন, গুম হয় বলে। বিএনপি বিদেশিদের ভরসায় নেই। লাখো নেতাকর্মী দুই দিনে হামলার ভয় ও গরম উপেক্ষা করে ৪০ কিলোমিটার যখন হাঁটতে পেরেছে, এই সরকারকেও ধাক্কা দিয়ে ফেলতে পারবে।

ঢাকা দক্ষিণের সদস্য সচিব তানভীর আহমেদ রবিনের সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তৃতা করেন কেন্দ্রীয় নেতা সালাহউদ্দিন আহমেদ, যুগ্ম আহ্বায়ক নবীউল্লাহ নবী, মহিলা দল সভাপতি আফরোজা আব্বাস, যুবদল সভাপতি সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু, ছাত্রদল দল সভাপতি কাজী রওনকুল ইসলাম শ্রাবণ, সাধারণ সম্পাদক জুয়েল মাহমুদ সাইফ প্রমুখ।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ