সিটি নির্বাচনের তপশিল ঘোষণা করলেও আমলেই নিচ্ছে না বিএনপি - জনতার আওয়াজ
  • আজ রাত ৯:৫৯, বৃহস্পতিবার, ১৪ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩১শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৭শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

সিটি নির্বাচনের তপশিল ঘোষণা করলেও আমলেই নিচ্ছে না বিএনপি

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: বৃহস্পতিবার, এপ্রিল ৬, ২০২৩ ৭:০৮ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: বৃহস্পতিবার, এপ্রিল ৬, ২০২৩ ৭:০৮ অপরাহ্ণ

 

ডেস্ক নিউজ
নির্বাচন কমিশন ইতোমধ্যে স্থানীয় সরকারের অধীন পাঁচ সিটি করপোরেশন নির্বাচনের তপশিল ঘোষণা করলেও বিষয়টি আমলে নিচ্ছে না রাজপথের বিরোধী দল বিএনপি। তাদের ভাবনায় এখন সরকারের পতন ও নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন। এই দাবিসহ ১০ দফার ভিত্তিতে বিএনপি এখন যুগপৎ আন্দোলনে রয়েছে। দাবি আদায়ে ঈদের পরে বড় আন্দোলনে নামার পরিকল্পনা রয়েছে হাইকমান্ডের। এ লক্ষ্যে রমজানে ইফতার মাহফিলের মধ্য দিয়ে প্রয়োজনীয় সাংগঠনিক প্রস্তুতি গ্রহণ করছে দলটি। এদিকে আওয়ামী লীগ সরকার এবং বর্তমান নির্বাচন কমিশনের (ইসি) অধীনে জাতীয় ও স্থানীয় সরকারের কোনো নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত রয়েছে বিএনপির। সে সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আসন্ন পাঁচ সিটি করপোরেশন নির্বাচনেও অংশ নেবে না দলটি। তবে এক্ষেত্রে উকিল আব্দুস সাত্তারদের নিয়ে সতর্ক হাইকমান্ড। দলের সিদ্ধান্ত অমান্য করে উকিলের মতো কোনো নেতা যদি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বিএনপি। এক দফার আন্দোলন সামনে রেখে সংগঠনে শৃঙ্খলা রক্ষায় এ ব্যাপারে কোনো ছাড় দেবে না হাইকমান্ড।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সিনিয়র সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার ও বর্তমান নির্বাচন কমিশনের অধীনে আগামীতে জাতীয়সহ স্থানীয় সরকারের কোনো নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করার ব্যাপারে দলের সিদ্ধান্ত রয়েছে। এখন পর্যন্ত সেই সিদ্ধান্তই বহাল রয়েছে। দলের এই সিদ্ধান্ত অমান্য করে যদি কেউ নির্বাচনে যান, তার বিরুদ্ধে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এর আগে যেমনটা নারায়ণগঞ্জ ও কুমিল্লা সিটির ক্ষেত্রে নেওয়া হয়েছিল। এক প্রশ্নে তিনি বলেন, বিএনপি এখন সরকারের পতন এবং নির্দলীয় সরকারের অধীনে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনসহ ১০ দফা দাবিতে যুগপৎ আন্দোলনে রয়েছে। অন্য কিছু ভাবার সময় নেই।

নির্বাচন কমিশন গত সোমবার দেশের পাঁচ সিটি করপোরেশন নির্বাচনের তপশিল ঘোষণা করেছে। তপশিল অনুযায়ী, ২৫ মে গাজীপুর সিটি করপোরেশনে, ১২ জুন খুলনা ও বরিশালে এবং ২১ জুন রাজশাহী ও সিলেট সিটির ভোট গ্রহণ হবে। দলীয় প্রতীকে স্থানীয় সরকারের এ নির্বাচন হবে ইভিএমে। এর আগে ২০১৮ সালে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে পাঁচটির মধ্যে কেবল সিলেট সিটিতে বিএনপির মেয়র প্রার্থী বিজয়ী হয়েছিলেন। তখন গাজীপুরে হাসান উদ্দিন সরকার, খুলনায় নজরুল ইসলাম মঞ্জু, সিলেটে আরিফুল হক চৌধুরী, রাজশাহীতে মোহাম্মদ মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল এবং বরিশালে মজিবর রহমান সরোয়ার বিএনপির প্রার্থী ছিলেন। এর আগে দশম সংসদ নির্বাচনের আগে ২০১৩ সালে অনুষ্ঠিত পাঁচ সিটির ভোটের সবকটিতেই মেয়র পদে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোট সমর্থিত প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছিলেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সর্বশেষ সিটি নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট করা বিএনপির মেয়র প্রার্থীদের কেউ দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে ভোট করবেন না। নজরুল ইসলাম মঞ্জুর পদ এখন স্থগিত রয়েছে। খুলনা মহানগর বিএনপির নতুন কমিটি গঠনের পর দলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করায় দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে ২০২১ সালের ডিসেম্বরে তাকে দল থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। তবে তিনি বিএনপির কর্মী হিসেবে দলীয় কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করছেন। গত অক্টোবরে খুলনায় বিএনপির বিভাগীয় গণসমাবেশে কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে বিশাল মিছিল সহকারে যোগ দেন তিনি।

জানতে চাইলে বিগত নির্বাচনে বিএনপির মেয়র প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, বিএনপি এই সরকার ও ইসির অধীনে আগামীতে কোনো নির্বাচনে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আন্দোলনের অংশ হিসেবে আমরা গতবার স্থানীয় সরকারের নির্বাচনে গিয়েছিলাম। তবে ২০১৮ সালের পর আমরা আর নির্বাচনে যায়নি। যদিও দল ও দলের কর্মীদের ধরে রাখা, মানুষকে ভোটকেন্দ্রমুখী করার জন্য নির্বাচনে অংশগ্রহণের প্রয়োজন হয়। তাছাড়া মানুষ ওয়াকওভার দিতে চায় না, তারা একটা শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা দেখতে চায়। যদিও এই সরকার ও ইসির অধীনে নির্বাচনে মানুষ ভোট দিতে পারে না। এদের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়।

তিনি আরও বলেন, পাঁচটি সিটি করপোরেশনের নির্বাচন স্থানীয় সরকারের বড় নির্বাচন। ইতোমধ্যে নির্বাচনের তপশিল ঘোষণা হয়েছে। নেতাকর্মীরা অস্থির হয়ে যাচ্ছে, কী করব আমরা কী করব। এই কথাগুলো বলার জন্য আমরা কেন্দ্রে যোগাযোগের চেষ্টা করছি। দেখা যাক, কেন্দ্র কী করে। তবে দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে নির্বাচন করাটা আমরা পারি না। যে দলের জন্য জীবন বাজি রেখে সারাটা জীবন কাজ করেছি, সেই দলকে রেখে আমাদের পক্ষে নির্বাচন করা সম্ভব না—যদিও আমি এখন দলের একজন কর্মী।

বিএনপি নেতা হাসান উদ্দিন সরকার বলেন, নির্বাচন নিয়ে দলের যে সিদ্ধান্ত রয়েছে, তার সঙ্গে আছি। তবে দল যদি কোনো কারণে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে নির্বাচনে অংশ নেয়, তাহলে তিনি দলীয় প্রার্থী হবেন। দল নির্বাচনে না গেলে কেউ স্বতন্ত্র প্রার্থী হবেন কি না—জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমার জানামতে এখন পর্যন্ত এমন কেউ নেই।

বিএনপির কেন্দ্রীয় বন ও পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল বলেন, শেখ হাসিনা সরকার ও বর্তমান ইসির অধীনে আমরা কোনো নির্বাচনে যাব না। দলের এ অবস্থানের সঙ্গে আমি পুরোপুরি একমত। ১০ দফা দাবি আদায়ের পর দল যদি বলে, তাহলে নির্বাচনে যাব।

গতবার অনিয়মের অভিযোগ তুলে সকালেই ভোট বর্জনের ঘোষণা দিয়েছিলেন বরিশাল সিটি নির্বাচনে বিএনপির মেয়র প্রার্থী মজিবর রহমান সরোয়ার। আসন্ন নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দলীয় সিদ্ধান্ত রয়েছে—এ সরকারের অধীনে আমরা কোনো নির্বাচনে যাব না। সুতরাং নির্বাচনে যাওয়ার প্রশ্নই আসে না।

সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী এখন লন্ডনে। গত রোববার সিলেট থেকে লন্ডন যান তিনি। সূত্র মতে, আসন্ন সিটি নির্বাচনে তার প্রার্থিতার বিষয়ে দলের হাইকমান্ডের গ্রিন সিগন্যাল পাওয়ার লক্ষ্যে আরিফুল হকের এ সফর। যদিও সিসিকের জনসংযোগ কর্মকর্তা আব্দুল আলিম শাহ জানিয়েছেন, মেয়রের এই সফর একান্তই ব্যক্তিগত। তিনি এক সপ্তাহের মতো লন্ডনে অবস্থান করবেন। তবে আসন্ন সিসিক নির্বাচন নিয়ে আরিফুল হক চৌধুরীর মতামত নেওয়া সম্ভব হয়নি।

দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ইতোমধ্যে নারায়ণগঞ্জ, কুমিল্লা ও রংপুর সিটি নির্বাচনে অংশ নেয়নি বিএনপি। তবে নারায়ণগঞ্জ ও কুমিল্লা সিটিতে দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে মেয়র পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে দল থেকে বহিষ্কৃত হন দুই প্রভাবশালী নেতা তৈমূর আলম খন্দকার ও মনিরুল হক সাক্কু। এদিকে বিগত সিটি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী দলের মেয়র প্রার্থীরা ছাড়াও বিএনপির কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের অনেক জনপ্রিয় নেতা রয়েছেন যারা আসন্ন সিটি করপোরেশনগুলোতে মেয়র পদে যোগ্য প্রার্থী। এ ছাড়া দীর্ঘদিন ধরে দলে কোণঠাসা হয়ে হতাশ ও ক্ষুব্ধ নেতাদের অনেকেও নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারেন। এর বাইরে অনেকের শঙ্কা, সিটি নির্বাচনকে ঘিরে কেউ কেউ নতুন করে উকিল আব্দুস সাত্তার হতে পারেন। তবে সরকারি নানা প্রলোভনে দলীয় সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে এদের কেউ যাতে মেয়র পদে প্রার্থী হতে না পারেন, তা নিয়ে সতর্ক বিএনপির হাইকমান্ড, ইতোমধ্যে গ্রহণ করেছে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ। হতাশ ও ক্ষুব্ধদের দলে সক্রিয় করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে দলবিরোধী চক্রান্তে জড়িতদের বিরুদ্ধেও সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ভাইস চেয়ারম্যান শওকত মাহমুদকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে সন্দেহভাজন অন্যদের কঠোর বার্তা দিয়েছে দল। তবে বিএনপির প্রত্যাশা, সরকারবিরোধী চূড়ান্ত আন্দোলন শুরুর মুহূর্তে দলের সিদ্ধান্ত অমান্য করে কেউ নির্বাচনে যাবে না।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ