সীতাকুণ্ডে বিএম কন্টেইনার ডিপোতে আগুন, বিস্ফোরণ: মৃত্যু বেড়ে ৪১ - জনতার আওয়াজ
  • আজ সন্ধ্যা ৬:১৬, বৃহস্পতিবার, ১৪ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩১শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৭শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

সীতাকুণ্ডে বিএম কন্টেইনার ডিপোতে আগুন, বিস্ফোরণ: মৃত্যু বেড়ে ৪১

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: রবিবার, জুন ৫, ২০২২ ৯:৪৭ পূর্বাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: রবিবার, জুন ৫, ২০২২ ৯:৪৭ পূর্বাহ্ণ

 

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে বেসরকারি একটি কন্টেইনার ডিপোতে আগুনের পর ভয়াবহ বিস্ফোরণে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৪১ জন হয়েছে; দগ্ধ ও আহত শতাধিক ব্যক্তিকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

নগরী থেকে ৩০ কিলোমিটার দূরে কদমরসুল এলাকায় বিএম ডিপো নামের ওই কন্টেইনার টার্মিনালে শনিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে আগুন লাগে। পরে রাসায়নিকের কন্টেইনারে একের পর এক বিকট বিস্ফোরণ ঘটতে থাকলে বহু দূর পর্যন্ত কেঁপে ওঠে।

চট্টগ্রাম ফায়ার সার্ভিসের সবগুলো ইউনিট চেষ্টা করেও আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে না পারায় রাতে সাড়ে ৩টার দিকে ফেনী, নোয়াখালী ও কুমিল্লা থেকে অগ্নি নির্বাপক গাড়ি পাঠাতে অনুরোধ করা হয়।

চট্টগ্রাম বিভাগীয় ফায়ার সার্ভিসের উপ-পরিচালক আনিছুর রহমান রোববার সকালে জানান, আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা গেলেও বারবার বিস্ফোরণে আগুন ছড়িয়ে পড়ছে। ডিপোতে রাসায়নিক থাকায় আগুন নিয়ন্ত্রণে বেগ পেতে হচ্ছে।

রাসায়নিকের কারণে বিষাক্ত গ্যাস ছড়িয়ে পড়ছে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা অনেকে।

মেডিকেল পুলিশ ফাঁড়ির এএসআই আলাউদ্দিন তালুকদার জানান, রোববার বেলা ২টা পর্যন্ত মোট ৪১ জনের মরদেহ চট্টগ্রাম মেডিকেলের মার্গে এসেছে, তাদের মধ্যে পাঁচজন ফায়ার সার্ভিসের কর্মী।

নিহতদের মধ্যে ১৩ জনের পরিচয় জানা গেছে। তারা হলেন কুমিরা ফায়ার স্টেশনের নার্সিং অ্যাটেনডেন্ট হিসেবে কর্মরত বাঁশাখালী উপজেলার ছনুয়া ইউনিয়নের মধুখালী গ্রামের মনিরুজ্জামান (৩২), একই উপজেলার চারিয়ার নাপুরা এলাকার মাহমুদুর রহমানের ছেলে মো. মহিউদ্দীন (২২), ভোলা জেলার হাবিবুর রহমান (২৬) ও রবিউল আলম (১৯), মমিনুল হক (২৪), তোফায়ল আহমেদ (২২), আলাউদ্দিন (৩৫) মো. সুমন (২৮) মো ইব্রাহিম (২৭) মো. শাকিল (২২), নিপন চাকমা (৪৫) রানা মিয়া (২২) এবং আফজাল হোসেন (২০)।“এখানে কয়েকটা ড্রামে হাইড্রোজেন পারঅক্সাইড লেখা পেয়েছি। সেনাবাহিনীর বিশেষজ্ঞ দল এসেছেন। মালিকপক্ষের কাউকে আমরা পাইনি। কোথায় কোন পণ্যের কন্টেইনার রেখেছেন তা তো আমরা জানি না।”

বেলা ১১টার দিকে ঘটনাস্থলে আসেন বিএম ডিপোর জেনারেল ম্যানেজার (সেলস ও মার্কেটিং) নাজমুল আকতার খান। সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, “২৪ একর জমিতে এই ডিপো। প্রায় ৪৩০০ কন্টেইনার ছিল। ৩০০০ হাজার খালি। ৪৫০ কন্টেইনারে আমদানি আর ৮০০ এর মত রপ্তানি কন্টেআনার। রাসায়নিক পণ্যের কন্টেইনার আলাদা রাখা হয়। কত রাসায়নিক কন্টেইনার ছিল তা জানা নেই।”

আগুন কীভাবে লাগল প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, “তদন্তের পর বোঝা যাবে, কেন আগুন লাগল। স্যাবোটাজও হতে পারে। কী হয়েছে কেবল তদন্ত বলতে পারবে।

“সরকারের কাছে আহ্বান, পুরো তদন্ত হোক। মূলত পোশাক ও খাদ্য পণ্য রপ্তানির জন্য ছিল। পোশাকের কন্টেইনারে আগুন লাগলেও তা ছড়িয়ে যেতে পারে।”

তার সঙ্গে থাকা ডিপোর সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের কাস্টমস বিষয়ক সম্পাদক আশরাফুল আলম খান স্বপন বলেন, “হাজার কোটি টাকার পণ্য আছে এই ডিপোতে। শত শত কন্টেইনার পুড়েছে। রাতে সব রকমের কর্মীরা কাজ করছিল। দেশের জন্য বিরাট ক্ষতি। কারণ এখানে বেশিরভাগ রপ্তানি পণ্য।”

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ