সুষ্ঠু নির্বাচনে জাতিসংঘের সহায়তা চেয়েছে বিএনপি - জনতার আওয়াজ
  • আজ রাত ৮:৫৫, বৃহস্পতিবার, ১৪ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩১শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৭শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

সুষ্ঠু নির্বাচনে জাতিসংঘের সহায়তা চেয়েছে বিএনপি

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: মঙ্গলবার, মে ৯, ২০২৩ ১:২৫ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: মঙ্গলবার, মে ৯, ২০২৩ ১:২৫ অপরাহ্ণ

 

ডেস্ক নিউজ

নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনে জাতিসংঘের সহায়তা চেয়েছে বিএনপি। সুষ্ঠু নির্বাচনের নিশ্চয়তা না পেলে আগামী দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে না দলটি। ঢাকার জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারী (ইউএনআরসি) গোয়েন লুইসের সঙ্গে বৈঠকে এসব কথা বলেছে বিএনপি। অবশ্য সহিংসতামুক্ত রাজনৈতিক পরিবেশের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে জাতিসংঘ। একই সঙ্গে সরকার না চাইলে ভূমিকা রাখা সম্ভব নয় বলে বিএনপির প্রতিনিধি দলকে জানিয়েছেন জাতিসংঘের সমন্বয়কারী।

গতকাল সোমবার দুপুরে রাজধানীর গুলশানে গোয়েন লুইসের বাসায় অনুষ্ঠিত বৈঠকে জাতিসংঘের অন্যান্য কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন। বিএনপির পক্ষে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ও আন্তর্জাতিক উইংয়ের প্রধান আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ বৈঠকে যোগ দেন। জাতিসংঘের আবাসিক প্রতিনিধির আমন্ত্রণে মধ্যাহ্নভোজে অংশ নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন বিএনপি নেতারা। দুপুর ১টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত সেখানে বৈঠক করেন তাঁরা।
একই সঙ্গে বৈঠকের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছে জাতিসংঘের ঢাকা কার্যালয়ও। ইউএনআরসি কার্যালয়ের কমিউনিকেশন স্পেশালিস্ট ইগর সজোনভ সমকালকে বলেন, সোমবার ইউএনআরসির গোয়েন লুইস বিএনপির প্রতিনিধিদের সঙ্গে ওয়ার্কিং বৈঠক করেছেন। এটি ইউএনআরসির বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে নিয়মিত বৈঠকের অংশ। ইউএনআরসি নিয়মিত বাংলাদেশের রাজনীতি, অর্থনীতি ও উন্নয়নের বিষয়ে আলোচনা করে থাকে।

বৈঠকের বিষয়ে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, সেখানে তাঁদের মধ্যে সার্বিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। শামা ওবায়েদ বলেন, জাতিসংঘের আবাসিক প্রতিনিধি গোয়েন লুইসের আমন্ত্রণে তাঁর বাসভবনে গিয়েছি। সেখানে আমরা মধ্যাহ্নভোজে অংশ নিয়েছি এবং দেশের সর্বশেষ রাজনৈতিক পরিস্থিতিসহ সার্বিক বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
বৈঠক সূত্রে জানা যায়, আগামী জাতীয় নির্বাচন নিয়ে বিএনপি তাদের অবস্থান তুলে ধরে জাতিসংঘের কাছে। সরকার বিরোধী দলের নেতাকর্মীকে কীভাবে নিপীড়ন করছে, তা বিস্তারিত জানানো হয় ইউএনআরসিকে। নির্বাচনের সময়ে একটি নিরপেক্ষ সরকারের কথা বৈঠকে তুলে ধরে বিএনপি। সেই সঙ্গে বিএনপির নেতাকর্মীর নামে গায়েবি মামলা, গ্রেপ্তার এবং কীভাবে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নষ্ট করা হয়েছে– তা তুলে ধরা হয় বৈঠকে।

বৈঠকে ২০১৪ ও ২০১৮ সালের নির্বাচনের বিষয় ইউএনআরসির কাছে তুলে ধরে বিএনপি। বিনা ভোটে সরকার গঠন করে সহযোগী দল জাতীয় পার্টিকে বিরোধী দলের আসনে বসানোসহ ক্ষমতাসীন সরকারের অন্যান্য রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড তুলে ধরে দলটি। আর ২০১৮ সালে নির্বাচনের আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি দিলেও আগের রাতে ভোট করে নির্বাচনে জয়ের অভিযোগ করেছে বিএনপি। এ কারণে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের নিশ্চয়তা না পেলে আগামী জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে না বলে দলটি জাতিসংঘকে জানায়। যেহেতু সরকার গত নির্বাচনে প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেছে, ফলে নির্বাচনের সময়ে একটি নিরপেক্ষ সরকার চায় দলটি।
এক কূটনীতিক বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা যেহেতু সংবিধান থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে, ফলে দলটির এ দাবির পক্ষে কোনো রাষ্ট্র বা সংস্থা দাঁড়াতে পারবে না। তবে অংশীদার রাষ্ট্রগুলো বাংলাদেশের রাজনীতিতে সহিংসতা দেখতে চায় না। তবে বাংলাদেশে নির্বাচনকালে বিএনপি এমন একটি সরকার চায়, যারা নিরপেক্ষ হবে। নির্বাচনের সময় নির্বাচন কমিশনকে প্রভাবিত করবে না এবং আইনের শাসন অনুযায়ী নির্বাচন হতে দেবে।

বৈঠকে উপস্থিত একজন সমকালকে বলেন, বিএনপির পক্ষ থেকে সরকারের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযোগগুলো ইউএনআরসির কাছে তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে নির্বাচন, মানবাধিকার, গণতন্ত্র, বিএনপির নামে ভুল ও বিকৃত তথ্য ছড়ানোর মতো বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়। বিএনপি তাদের অবস্থানে রয়েছে। তারা বর্তমান সরকারের অধীনে নির্বাচনে না যাওয়ার কথা জানিয়েছে ইউএনআরসিকে। এমনকি তারা সিটি করপোরেশন নির্বাচনেও অংশ নিচ্ছে না। বর্তমান সরকারের অধীনে স্থানীয় সরকারসহ কোনো নির্বাচনেই দলটি অংশগ্রহণ করবে না।
বৈঠকে জাতিসংঘের পক্ষ থেকে সংস্থাটির বাংলাদেশে নির্বাচন অবস্থান তুলে ধরা হয়। সরকার না চাইলে জাতিসংঘ বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে ভূমিকা রাখবে না। আর বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে এখনও জাতিসংঘের কাছে কোনো সহযোগিতা চাওয়া হয়নি। এ কারণে আগামী নির্বাচনে জাতিসংঘের কোনো ভূমিকা থাকবে না। তবে জাতিসংঘের পক্ষ থেকে আগামী নির্বাচন সামনে রেখে রাজনৈতিক সহিংসতার আশঙ্কা করা হয়েছে। সেই সঙ্গে সহিংসতা এড়াতে বিএনপিকে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

জাতিসংঘের এক কর্মকর্তা নাম না প্রকাশের শর্তে বলেন, জাতিসংঘ কোনো দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে দুটি প্রেক্ষাপটে ভূমিকা রাখতে পারে। একটি হচ্ছে সেই দেশের সরকার যদি চায়, তাহলে মধ্যস্থতা করতে জাতিসংঘ ভূমিকা রাখে। আর যদি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ থেকে কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়, সে ক্ষেত্রে নিরাপত্তা পরিষদের নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করে জাতিসংঘের স্থানীয় কার্যালয়।

বৈঠকে বিএনপি নেতারা বলেন, বিগত দুটি নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দল দেশের জনগণের ভোটাধিকার হরণ করে এবং প্রতারণা করে ক্ষমতায় এসেছে। আগামীতেও তারা একই ফর্মুলায় নির্বাচন করতে চাইছে। তাই আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচন নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু হতে পারে না। তাই যে নামেই হোক, নির্দলীয় ও নিরপেক্ষ সরকার ছাড়া বিএনপি ও সমমনা রাজনৈতিক দলগুলো নির্বাচনে যাবে না বলে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেন। বিএনপি নেতারা অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ এবং অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন করতে হলে সংসদ বিলুপ্ত করে নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার এবং নতুন নির্বাচন কমিশনের পক্ষে জোরালো মতামত তুলে ধরেন।
একই সঙ্গে তাঁরা তথ্য-প্রমাণ উপস্থাপন করে বলেন, দেশে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিনক্ষণ যতই ঘনিয়ে আসছে, ততই সরকার বেপরোয়া হয়ে উঠছে। নেতাকর্মীকে ঘরছাড়া করতে শুরু করেছে, তাদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে, কারাগারে নেওয়া হচ্ছে।

বৈঠক শেষে বিএনপির তিন নেতা গুলশানে দলের চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে আসেন। সেখানে এক ঘণ্টা নিজেদের মধ্যে বৈঠকের ফলোআপ করেন বলে জানা গেছে।সূত্রঃ সমকাল

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ