স্বর্ণ রফতানিতে প্রণোদনা চায় বাজুস
নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ:
বুধবার, এপ্রিল ৩, ২০২৪ ৩:৪১ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ:
বুধবার, এপ্রিল ৩, ২০২৪ ৩:৪১ অপরাহ্ণ

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
বৈধভাবে সোনার বার, সোনার অলংকার, সোনার কয়েন রফতানিতে উৎসাহিত করতে কমপক্ষে ২০ শতাংশ ভ্যালু এডিশন করা শর্তে রফতানিকারকদের মোট ভ্যালু এডিশনের ৫০ শতাংশ আর্থিক প্রণোদনা চেয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স এসোসিয়েশন (বাজুস)।
বুধবার (০৩ এপ্রিল) বাজুস কার্যালয়ে আয়োজিত বাজেট প্রস্তাবনা উপলক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানায় সংগঠনটি। আসন্ন বাজেটে ১৫ দফা বাজেট প্রস্তাবনা পেশ করে জুয়েলার্স এসোসিয়েশন।
সংবাদ সম্মেলনে বাজুসের সাধারণ সম্পাদক বাদল চন্দ্র বলেন, , বাংলাদেশের শিল্পীদের হাতে তৈরি সোনার অলংকার বিশ্বের বিভিন্ন দেশে জনপ্রিয়তার শীর্ষে থাকে। কিন্তু নানা ধরণের প্রতিবন্ধকতার কারণে সোনা শিল্প দেশের রফতানি খাতে যতটুকু অবদান থাকার কথা ছিল তার সিকিভাগও হয়নি। তাই দেশের রফতানি খাতে সোনা শিল্পের অবদান বাড়াতে এই প্রণোদনা বড় ভূমিকা পালন করবে।
তিনি বলেন, ‘স্বর্ণ নীতিমালা-২০১৮ (সংশোধিত-২০২১)’ এর ৮.২ উপধারার অনুসারে ব্যাগেজ রুল সংশোধনের মাধ্যমে পর্যটক কর্তৃক সোনার বার আনা বন্ধ করা এবং ট্যাক্স ফ্রী সোনার অলংকারের ক্ষেত্রে ১০০ গ্রামের পরিবর্তে সর্বোচ্চ ৫০ গ্রাম করার প্রস্তাবনা করা হচ্ছে। এক্ষেত্রে একটি আইটেমের জুয়েলারি পণ্য দুইটির বেশি আনা যাবে না এবং পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর সাথে ব্যাগেজ রুলের সমন্বয় করার দাবি জানাচ্ছি।
একই সঙ্গে একজন যাত্রী বছরে শুধুমাত্র একবার ব্যাগেজ রুলের সুবিধা নিতে পারবে। এই প্রস্তাব বিবেচনা করা হোক। ব্যাগেজ রুলের আওতায় সোনার বার ও অলংকার আনার সুবিধা অপব্যবহারের কারণে ডলার সংকট, চোরাচালান ও মানি লন্ডারিং-এ কী প্রভাব পড়ছে তা নিরূপনে বাজুসকে যুক্ত করে যৌথ সমীক্ষা পরিচালনা করার প্রস্তাব করছি।
তিনি আরও বলেন, বাজুসের প্রাথমিক ধারণা- প্রবাসী শ্রমিকদের রক্ত-ঘামে অর্জিত বৈদেশিক মুদ্রার অপব্যবহার করে প্রতিদিন সারাদেশের জল, স্থল ও আকাশ পথে কমপক্ষে প্রায় ২০০ কোটি টাকার অবৈধ সোনার অলংকার ও বার চোরাচালানের মাধ্যমে বাংলাদেশে আসছে। যা ৩৬৫ দিন বা একবছর শেষে দাঁড়ায় প্রায় ৭৩ হাজার কোটি টাকা। দেশে চলমান ডলার সঙ্কটে এই ৭৩ হাজার কোটি টাকার অর্থপাচার ও চোরাচালান বন্ধে সরকারকে উদ্যোগ নিতে হবে।
তিনি বলেন, এমন পরিস্থিতিতে সোনার বাজারে অস্থিরতা ছড়িয়ে দিয়েছে চোরাকারবারিদের দেশি-বিদেশি সিন্ডিকেট। কৃত্রিম সঙ্কট তৈরি করে প্রতিনিয়ত স্থানীয় পোদ্দার বা বুলিয়ন বাজারে সোনার দাম বাড়ানো হচ্ছে। পোদ্দারদের সিন্ডিকেটের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে সোনার পাইকারি বাজার। পোদ্দারদের সঙ্গে চোরাকারবারিদের সিন্ডিকেটের গভীর সম্পর্ক রয়েছে। যার কারণে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে স্থানীয় পোদ্দার বা বুলিয়ন বাজারে সোনার দাম বাড়ানো হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, ‘স্বর্ণ নীতিমালা-২০১৮ (সংশোধিত-২০২১)’ এর ৮.০ ধারায় স্বর্ণবার ও স্বর্ণালঙ্কারের অনানুষ্ঠানিক আমদানি নিরুৎসাহিত করার কথা বলা হয়েছে এবং ৮.২ উপধারায় প্রয়োজনে ব্যাগেজ রুল সংশোধনের কথা বলা হয়েছে। সোনার অনানুষ্ঠানিক আমদানি নিরুৎসাহিত করার ক্ষেত্রে ব্যাগেজ রুলের সংশোধন এখন সময়ের দাবি। তাই বাজুস অবিলম্বে ব্যাগেজ রুল সংশোধনের মাধ্যমে পর্যটক কর্তৃক সোনার বার আনা বন্ধ করা এবং ট্যাক্স ফ্রী সোনার অলংকারের ক্ষেত্রে ১০০ গ্রামের পরিবর্তে সর্বোচ্চ ৫০ গ্রাম করার প্রস্তাবনা করছে।
জনতার আওয়াজ/আ আ