স্বাস্থ্যখাতে সংখ্যা বাড়লেও বিশেষায়িত বিভাগে নারী চিকিৎসক কম
নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ:
বুধবার, ডিসেম্বর ১০, ২০২৫ ৬:৫৫ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ:
বুধবার, ডিসেম্বর ১০, ২০২৫ ৬:৫৫ অপরাহ্ণ

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাতে আগের তুলনায় নারী চিকিৎসকদের সংখ্যা বাড়লেও গুরুত্বপূর্ণ বিশেষায়িত বিভাগে তাদের অংশগ্রহণ কম, গবষণায় এমন তথ্য উঠে এসেছে।
গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিউরোসার্জারি, অর্থোপেডিকস, ইউরোলজি এবং নিউরো-মেডিসিনের মতো বিশেষায়িত বিভাগে নারী চিকিৎসকদের উপস্থিতি নেই বললেই চলে। ফলে স্বাস্থ্যসেবায় লিঙ্গ বৈষম্য বিরাজ করছে। যা নারী চিকিৎসকদের পেশাগত দক্ষতা উন্নয়নে বড় বাঁধা হয়ে দাড়িয়েছে।
এতে রোগীরাও বঞ্চিত হচ্ছেন।
বুধবার (১০ ডিসেম্বর) শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজে ‘ব্রিজিং দ্য জেন্ডার গ্যাপ ইন হেলথকেয়ার; অ্যাড্রেসিং ডিসপ্যারিটিজ ইন ক্যারিয়ার প্রোগ্রেশন অ্যান্ড অ্যাসপিরেশন্স আমং উইমেন ইন হেলথকেয়ার প্রফেশনস ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক সেমিনারে এ তথ্য তুলে ধরেন গ্রীনউইচ বিশ্ববিদ্যালয়ের পিএইচডি গবেষক ফাতিমা কানিজ নয়ন।
স্বাস্থ্যসেবায় লিঙ্গ বৈষম্য কমানো, বাংলাদেশে নারী চিকিৎসকদের ক্যারিয়ার অগ্রগতি ও পেশাগত উন্নতির পথে বাধা চিহ্নিত করা ও সমাধানের লক্ষ্যে ব্রিটিশ কাউন্সিলের অর্থায়নে ইউনিভার্সিটি অব গ্রিনউইচ এই গবেষণা কাজটি সমাপ্ত করে। বাংলাদেশের পক্ষে এই গবেষণা কাজে সহায়তায় করেছে ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ।
কমিউনিটি পার্টিসিপেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (সিপিডি) আয়োজিত সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন সিপিডির নির্বাহী পরিচালক মোসলেমা বারি।
সেমিনারে উত্থাপিত গবেষণা প্রতিবেদনে ফাতিমা কানিজ নয়ন বলেন, এক সময় উচ্চশিক্ষায় নারী চিকিৎসকদের অংশগ্রহণ একেবারেই হাতেগোনা ছিল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে অংশগ্রহণ ধীরে ধীরে বাড়ছে। তবে তা আশাব্যঞ্জক না।
কারণ নারীরা সন্তান লালন-পালন থেকে শুরু করে দীর্ঘস্থায়ী সাংস্কৃতিক নিষেধাজ্ঞার মধ্যে থাকেন। তাদের জন্য কর্মক্ষেত্র নিরাপদ নয়। তারপরও নারীর অংশগ্রহণ ধীরগতিতে বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং সামাজিক পরিস্থিতিও পরিবর্তিত হচ্ছে, যা উৎসাহব্যঞ্জক।
তিনি বলেন, স্বাস্থ্যসেবা খাতে নারীদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধিতে মেডিকেল শিক্ষার্থীদের প্রাথমিক পরামর্শ, সহায়ক তত্ত্বাবধায়ক, শিশু যত্নের সুবিধা, ক্লিনিকাল বিভাগে সমান অংশগ্রহণ এবং একটি ইতিবাচক কর্মপরিবেশ ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। এ ক্ষেত্রে সহকর্মীদের সহায়তার গুরুত্ব, সামাজিক মনোভাবের পরিবর্তন, মনস্তাত্ত্বিক পরামর্শ এবং এমনকি শৈশব লালন-পালন ভূমিকা রাখে।
বিষয় ভিত্তিক দুরত্ব দূরীকরণে কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, স্নাতকোত্তর অধ্যয়নের জন্য বৃত্তি বা ঋণ প্রদান, কম কর্মী বিভাগে পদ তৈরি করা, শৌচাগার এবং প্রার্থনা কক্ষের মতো মৌলিক সুযোগ-সুবিধা উন্নত করা এবং স্বাস্থ্য খাতে নারীদের আসলে কী প্রয়োজন তা নিয়ে গবেষণার আহ্বান জানান তিনি।
সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. সাকি মো. জাকিউল আলম বলেন, সামাজিক রীতিনীতি পরিবর্তিত হচ্ছে, কিন্তু তা যথেষ্ট দ্রুত নয়। স্বাস্থ্যসেবাসহ জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে নারীরা এখনো পিছিয়ে। স্বাস্থ্যসেবার প্রধান শাখাগুলিতে তাদের সংখ্যা খুবই কম। সাধারণত নারীরা বিশেষজ্ঞ নারী চিকিৎসকের কাছে যেতে পছন্দ করেন, কিন্তু প্রায়শই তা পাওয়া যায় না। নারী চিকিৎসকরা যাতে নিরাপদে কাজ করতে পারেন এবং তাদের পেশায় উন্নতি করতে পারেন সে বিষয়ে সরকার ও সংশ্লিষ্ট সকল প্রতিষ্ঠানের একসাথে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
স্বাস্থ্যখাতে নারীদের দক্ষতা উন্নয়ন, ক্যারিয়ার-চ্যালেঞ্জ ও আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন ইউনিভার্সিটি অব গ্রিনউইচের ব্যবস্থাপনা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. কেনিসা লিনটন। তিনি বলেন, মেডিক্যালের উচ্চশিক্ষার গুটি কয়েক শাখায় অংশগ্রহণ থাকলেও সিংহভাগ শাখাতেই নারীদের অংশগ্রহণ নেই। এর জন্য পারিবারিক, সামাজিক, অর্থনৈতিকসহ বেশকিছু কারণ দায়ী। আমরা কর্মপরিবেশকে নিরাপদ এবং সত্যিকার অর্থে সহায়ক করে না তুলি, তাহলে নারীরা পিছিয়ে পড়বেই।
সভাপতির বক্তব্যে সিপিডির নির্বাহী পরিচালক মোসলেমা বারি বলেন, সেমিনারে উত্থাপিত গবেষণার তথ্য ভবিষ্যতে নারীদের উচ্চ শিক্ষার পথে বাধা দূর করতে সহায়ক হবে। পাশাপাশি নারী চিকিৎসকদের নেতৃত্ব বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। নারীদের ক্যারিয়ার অগ্রগতির প্রতিবন্ধকতা দূর করতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানসমূহকে সমন্বিত নীতি গ্রহণ করার আহ্বান জানান তিনি।
স্বাগত বক্তব্য রাখেন ব্রিটিশ কাউন্সিলের জাকিয়া শারমিন বলেন, স্বাস্থ্যখাতে নারীরা গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করলেও নেতৃত্বের জায়গায় এখনও তাদের উপস্থিতি কম। উচ্চ শিক্ষায় তারা পিছিয়ে আছে। পেশাগতভাবে পিছিয়ে পড়া নারীদের জন্য নিরাপদ কর্মপরিবেশ ও নেতৃত্ব-গড়ে ওঠার সুযোগ বাড়াতে হবে।
জনতার আওয়াজ/আ আ