হাসিনা রাজনীতিতে আর প্রাসঙ্গিক থাকবেন না: দ্য উইককে মির্জা ফখরুল - জনতার আওয়াজ
  • আজ রাত ৮:২৫, রবিবার, ২৪শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১০ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ৭ই জিলহজ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

হাসিনা রাজনীতিতে আর প্রাসঙ্গিক থাকবেন না: দ্য উইককে মির্জা ফখরুল

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: সোমবার, ফেব্রুয়ারি ২, ২০২৬ ১০:৪০ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: সোমবার, ফেব্রুয়ারি ২, ২০২৬ ১০:৪০ অপরাহ্ণ

 

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
ছবি: সংগৃহীত
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মন্তব্য করেছেন, ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভবিষ্যতে রাজনীতিতে আর প্রাসঙ্গিক থাকবেন না। ফলে তিনি বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের ক্ষেত্রে কোনো স্থায়ী বাধা সৃষ্টি করতে পারবেন না। তার বক্তব্য, তাকে এ কাজে বাধা হিসেবে না নিয়ে দুই দেশের সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়া উচিত। এই মন্তব্য তিনি ভারতের ইংরেজি ম্যাগাজিন ‘দ্য উইক’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে করেছেন। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন ম্যাগাজিনের সিনিয়র অ্যাসোসিয়েট এডিটর নম্রতা বিজি আহুজা।

সাক্ষাৎকারে ফখরুল বলেন, বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর দলটি অভিজ্ঞ নেতাদের দিকে ঝুঁকেছে। তিনি নিজে দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের পরিবারের দীর্ঘদিনের সহযোগী এবং বিএনপির একজন প্রবীণ রাজনীতিবিদ হিসেবে দেশের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। সাক্ষাৎকারে তিনি বিএনপির সংস্কার এজেন্ডা, ভারতের প্রতি দলের দৃষ্টিভঙ্গি এবং দেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন।

শেখ হাসিনার ভবিষ্যতে কতটা গুরুত্বপূর্ণ, বিশেষ করে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ক্ষেত্রে—এমন প্রশ্নের জবাবে ফখরুল বলেন, “তিনি অবশ্য একটি ফ্যাক্টর, তবে তা কাটিয়ে ওঠা অসম্ভব নয়। শেখ হাসিনা দীর্ঘদিন ধরে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ভেঙে দিয়ে ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত করেছেন, যা এক ধরনের সংকট তৈরি করেছে। দীর্ঘ মেয়াদে তিনি রাজনীতিতে প্রাসঙ্গিক থাকবেন না। তাই ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্ককে তার ঊর্ধ্বে নিয়ে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব এবং এগিয়ে যাওয়াই উচিত।”

নির্বাচনের মাত্র কয়েকদিন বাকি থাকায় অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের বিষয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, “বাংলাদেশের মানুষ এমন একটি নির্বাচন চায়, যা অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক হবে। প্রায় ১৫ বছর ধরে নাগরিকরা ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত ছিলেন। বিশেষ করে ১৮ থেকে ৩০ বছর বয়সী তরুণদের একটি সম্পূর্ণ প্রজন্ম রয়েছে, যারা কখনও সত্যিকারের ভোট দেওয়ার অভিজ্ঞতা পাননি। ফলে ভোটারদের মধ্যে অধিকার প্রয়োগের প্রবল আকাঙ্ক্ষা রয়েছে এবং আমি আশা করি ভোটার উপস্থিতি ভালো হবে।”

তিনি আরও জানান, “আমি কোনো বড় অস্থিরতা বা গুরুতর বাধা আশা করি না যা নির্বাচন প্রক্রিয়াকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। নির্বাচন কমিশন দায়িত্বশীলভাবে কাজ করছে এবং সরকারও আন্তরিক মনে হচ্ছে। আমাদের উপমহাদেশে নির্বাচনী প্রচারণার সময় কিছু সমস্যা থাকতেই পারে, তবে তা অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করবে না। রাজনৈতিক দলগুলো সক্রিয়ভাবে প্রচারণা চালাচ্ছে এবং জনগণ ভোট দেওয়ার জন্য প্রস্তুত।”

জাতীয় ঐক্য সরকার গঠনের পরিকল্পনা সম্পর্কে মির্জা ফখরুল বলেন, “গত ১৫ বছর ধরে, যখন আমরা কর্তৃত্ববাদী শাসনের বিরুদ্ধে লড়াই করছিলাম, তখন আমরা বাম ও ডান উভয় দিকের কিছু সমমনা রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জোট গঠন করেছি। মোট ২০–২৪টি দল সেই সংগ্রামে আমাদের সঙ্গে ছিল। আমাদের ৩১ দফা সংস্কার এজেন্ডা ঘোষণার সময় আমরা বলেছিলাম, সরকার গঠনের ক্ষেত্রে এটি হবে ঐকমত্যভিত্তিক, শুধুমাত্র সেই দলগুলোর সঙ্গে যারা গণতান্ত্রিক আন্দোলনের সময় আমাদের সঙ্গে ছিল। এই প্রতিশ্রুতি এখনও বহাল আছে। তবে সেই সংগ্রামের অংশ নয় এমন দলগুলো জাতীয় ঐক্য সরকারের অংশ হবে না।”

জামায়াতে ইসলামী জাতীয় ঐক্য সরকারের অংশ হবে কি না—এ বিষয়ে তিনি স্পষ্টভাবে জানান, “না, জামায়াতে ইসলামী সঙ্গে আমাদের কোনো চুক্তি নেই এবং আমি মনে করি না তারা বিএনপি-নেতৃত্বাধীন জাতীয় সরকারের অংশ হবে।”

ছাত্রদের গঠিত ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টির (এনসিপি) সঙ্গে বিএনপি কেন জোট করেনি—এ বিষয়ে ফখরুল বলেন, “আমরা চেষ্টা করেছিলাম, কিন্তু এনসিপি অনেক বেশি আসন দাবি করেছিল, যা দেওয়া সম্ভব হয়নি। আমরা আত্মবিশ্বাসী যে আমাদের প্রার্থীরা সেই আসনে জয়ী হবেন, তবে নতুন প্রতীক নিয়ে এনসিপির জয় নিয়ে আমরা নিশ্চিত নই। বাংলাদেশে নির্বাচনে প্রতীকের গুরুত্ব অনেক বেশি।”

আওয়ামী লীগ নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করলে নির্বাচন বিগত নির্বাচনের মতো হবে কি না—এ বিষয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, “আমি নিশ্চিত করে বলতে পারি না। তবে আওয়ামী লীগের সঙ্গে যুক্ত কয়েকজন স্বতন্ত্র প্রার্থী অংশগ্রহণ করতে পারেন। শেখ হাসিনা দলের অংশগ্রহণ না করার নির্দেশ দিয়েছেন। নির্বাচন প্রক্রিয়া ইতিমধ্যেই চলছে এবং জনগণ ভোট দিতে প্রস্তুত। আমার মনে হয়, আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতি উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলবে না। আদর্শভাবে তাদের নতুন নেতৃত্ব ও ভাবমূর্তিতে পুনরায় অংশগ্রহণ করা উচিত ছিল, কিন্তু তা হয়নি। কারণ শেখ হাসিনা দলের মধ্যে বিকল্প নেতৃত্ব অনুমোদন করেন না।”

ফখরুল আরও বলেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দেশে প্রত্যাবর্তন ভোটারদের মধ্যে বিশেষ উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে, বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে। তার ভাষণে ১৮ মাসের মধ্যে কমপক্ষে এক কোটি তরুণের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। এছাড়া নারীর ক্ষমতায়ন, কৃষক কল্যাণ, বিচার ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা, সাংবিধানিক সংস্কার, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতের সংস্কার এবং প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ দুই মেয়াদে সীমাবদ্ধ করা ও প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য প্রতিষ্ঠার বিষয়েও তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

১৯৭১ সালের অমীমাংসিত ইস্যুর প্রেক্ষিতে পাকিস্তানের প্রতি দেশের নরম মনোভাব বিষয়ে প্রশ্নে মির্জা ফখরুল বলেন, “১৯৭১ সালের গণহত্যার জন্য পাকিস্তানকে অবশ্যই ক্ষমা চাইতে হবে। আমাদের অবস্থান এটাই। একই সঙ্গে সব প্রতিবেশী দেশকে আঞ্চলিক উন্নয়ন এবং জনগণের কল্যাণে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।”

এভাবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বিএনপির দৃষ্টিভঙ্গি, দেশের ভবিষ্যৎ রাজনীতি, ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক এবং নির্বাচনী প্রস্তুতি নিয়ে বিস্তৃত ব্যাখ্যা প্রদান করেছেন।

সূত্র: দ্য উইক

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ