৩২ বছর বিএনপি করার পর কেন ছাড়ব : মেজর হাফিজ উদ্দিন
নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ:
বুধবার, মার্চ ২০, ২০২৪ ৩:১২ পূর্বাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ:
বুধবার, মার্চ ২০, ২০২৪ ৩:১২ পূর্বাহ্ণ

নিউজ ডেস্ক
দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের আগে ‘কিংস পার্টি’ নামে পরিচিতি পাওয়া ‘বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আন্দোলন-বিএনএম’-এর সঙ্গে নিজের এবং সাকিব আল হাসানের সম্পৃক্ততার যে খবর প্রকাশিত হয়েছে তা ‘সঠিক নয়’ বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি’র ভাইস চেয়ারম্যান মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, বীরবিক্রম। তিনি বলেন, ৩২ বছর দল করার পর দল ছাড়া কি এত সোজা নাকি? কেন ছাড়বো, একটা অজানা অচেনা দলে যাবো।
গতকাল দুপুরে বনানীতে নিজের বাসায় এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি। হাফিজ উদ্দিন আহমেদের হাতে ফরম দিয়ে সাকিব আল হাসানের যোগদানের একটি আলোকচিত্র গণমাধ্যমে প্রকাশের পর তিনি এই সংবাদ সম্মেলন ডেকে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেন।
তিনি বলেন, আমি আগেও বলেছি, কেন আমি বিএনএমে যোগদান করি নাই, কেন আমি বিএনপি ছাড়ি নাই। এতদিন পর আবার এই সংবাদ। এটা তো গোপন কোনো কিছু না। আমাকে অ্যাম্প্রোচ করেছেন তারা (বিএনএম ও সরকারের কিছু লোক)। আমি প্রস্তাব গ্রহণ করি নাই। বিএনপিতে রয়েছি। সাকিব আল হাসান দেশের গৌরব, বিশ্বের সেরা অল রাউন্ডার, কোনোদিন রাজনীতি করে নাই, তিনি রাজনীতি করতেই পারেন। সাবেক ক্রীড়াবিদ হিসেবে আমার কাছে এসেছিলেন।
আমি তাকে কোনো উৎসাহ দেইনি। আমি যোগদান না করায় তিনিও তার পথ বেছে নিয়েছেন। যেখান থেকে সহজে জেতা যাবে, সেই নির্বাচনে কোনো প্রতিপক্ষ থাকবে না, সম্পূর্ণ পাতানো নির্বাচনে তিনি এমপি হয়েছেন, এটি তার বিষয়। এই নিয়ে যে কাল্পনিক সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে এটা সঠিক নয়।
হাফিজ বলেন, এতদিন পরে দুইটি পত্রিকা সাকিব আল হাসানকে জড়িয়ে আমার সম্পর্কে যে মিথ্যা প্রচার করেছে এতে আমি মর্মাহত হয়েছি। দেশে কতো অপকর্ম করে যাচ্ছে বর্তমান সরকার। একতরফা ডামি নির্বাচন করলো, এ নিয়ে তো পত্রিকায় কিছু দেখি না। দেশের ব্যাংকিং খাতে ব্যাপক লুটপাট চলছে কয়েক বছর ধরে, এ নিয়ে তো এসব পত্রিকায় কোনো রিপোর্ট দেখি না, সাংবাদিক সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের কোনো কূলকিনারা হচ্ছে না। এই নিয়ে তো ওইসব পত্রিকায় কিছু দেখি না। আমার ধারণা জন্মেছে যে, সরকারের বিভিন্ন অপকর্ম লুকিয়ে রেখে জনগণের দৃষ্টি অন্যত্র নিবদ্ধ করার জন্যই আমার বিরুদ্ধে এই বিএনএম সৃষ্টির কাল্পনিক কাহিনীর অবতারণা তারা করেছে। আমি বলতে চাই, আমি নির্বাচন কমিশনে কাউকে পাঠাইনি, মনোনয়নপত্র সংগ্রহ কিংবা তদবির করার জন্য কাউকে কখনো পাঠাই নাই। এই বিএনএম সৃষ্টি করেছেন কয়েকজন অবসরপ্রাপ্ত সামরিক কর্মকর্তা। যারা আমাকে যোগ দেয়ার অনুরোধ করেছে এবং আমার বাসায় এসেছে কয়েকবার। আমার বাসায় ওই দলটির কোনো সভাও হয়নি। এসব মিথ্যাচার।
তিনি আরও বলেন, বিএনএমে আমি যোগ দেয়নি। তাদের অফিসও আমি চিনি না। কেন দুইটি পত্রিকায় আমার বিরুদ্ধে বিষোদ্গার করছে। আমি নির্বাচনের দুই মাস আগেই বলেছি, আমি বিএনপি ছাড়বো না, কোনো পাতানো নির্বাচনে যাবো না। নির্বাচনের একমাস আগে চিকিৎসার জন্য বিদেশে ছিলাম। এমনভাবে পত্রিকাগুলো সংবাদ প্রচার করেছে যে, তারা বিরাট একটা রহস্যের ভাণ্ডার উন্মুক্ত করে দিয়েছে। এখানে গোপন কিছু নাই। আমি সব সময় বলে এসেছি মাই লাইফ ইজ এ ওপেন বুক। লজ্জিত হওয়ার কোনো কাজ করি না, গোপন কোনো কাজ করি না। রাজনীতি করি, নির্বাচনে দাঁড়াই, জনগণ ভোট দিয়ে নির্বাচিত করে- এটাই আমার রাজনৈতিক জীবন। শারীরিক কারণে রাজনীতি থেকে দূরে ছিলাম, যখনই এই গুজব ছড়িয়ে পড়েছে যে মেজর হাফিজ দল ত্যাগ করতে পারেন, এটি বিএনপি’র অভ্যন্তরে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করে। কয়েকজন এমপি আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। তারা নতুনভাবে রাজনীতি করতে চান, আমি তাদের নিরস্ত্র করেছি।
বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও ভারতে অবস্থানরত সালাহউদ্দিন আহমেদ ওই সময়ে তার সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রকৃত বিষয় জানতে চাইলে তাদেরকেও বিষয়টি পরিষ্কার করেছেন বলে জানান হাফিজ। তিনি বলেন, আমি বলেছি, এগুলো সরকারি প্রোপাগান্ডা। আমি বিএনপি ছেড়ে কোথাও যাবো না। এই বয়সে তো আমার কোনো রাজনৈতিক উচ্চাভিলাষ নাই। দুইবার মন্ত্রী হয়েছি, আর কতো? ৬ বার এমপি হয়েছি জনগণের ভোটে। গুড এনাফ। আমার তো নতুন দলে যোগদানের দরকার নাই, আমার কিংস পার্টি খোঁজার দরকার নাই।
সাকিব একজন নন্দিত ক্রীড়াবিদ: সাবেক কৃতী ক্রীড়াবিদ ফুটবলার হাফিজ বলেন, ক্রীড়াঙ্গনে একসময় আমি ভালো ক্রীড়াবিদ ছিলাম, নামকরা ক্রীড়াবিদ ছিলাম, আন্তর্জাতিক খেলোয়াড় ছিলাম, একমাত্র বাঙালি ছিলাম পাকিস্তানের জাতীয় দলে। ক্রীড়াবিদদের প্রতি দুর্বলতা আছে। সাকিব আল হাসানের মতো নন্দিত ক্রীড়াবিদ। তার দোষত্রুটি থাকতে পারে। কিন্তু খেলোয়াড় হিসেবে তিনি ইনকমাপেরবল ইন বাংলাদেশ।
বিএনপি’র এই ভাইস চেয়ারম্যান বলেন, ছয় মাস আগের পুরনো কথা কি উদ্দেশ্যে এখন নিয়ে এসেছেন এবং সাকিব আল হাসানের মতো নন্দিত ক্রীড়াবিদ এবং আমার মতো একজন বয়স্ক রাজনীতিবিদ যার দুর্নীতির কোনো ইতিহাস নাই, ঢাকা শহরে কোনো বাড়ি নাই, পিতার দেয়া বাড়িতে থাকি। আমার বিরুদ্ধে দুদকের (দুর্নীতি দমন কমিশন) কোনো মামলাও নাই। সাকিব আল হাসান দল করবেন, রাজনীতি করবেন- এটা তার বিষয়। সেটি তিনিই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তার সঙ্গে আমাকে যুক্ত করার কোনো প্রয়োজন নাই। আমার সর্বশেষ কাজটা আপনারা দেখেন। কি করেছি, কি অপরাধ করেছি আমি? আমি কি বিএনএমে যোগ দিয়েছি, দল ভেঙেছি। আমি তো দেশেই ছিলাম না। দুই মাস আগে আমার উদ্দেশ্য আমার পরিকল্পনা জনসমক্ষে প্রকাশ করে গিয়েছি। তারপরে এসব মতলবি নিউজ আমাকে বিব্রত করে, দেশের তরুণ সমাজকে বিব্রত করে।
৩২ বছর বিএনপি করি, কেন ছাড়বো: হাফিজ উদ্দিন বলেন, ৩২ বছর দল করার পর দল ছাড়া কি এত সোজা নাকি? কেন ছাড়বো, একটা অজানা অচেনা দলে যাবো। আপনারা (সাংবাদিক) অনেক রাজনীতিবিদের ইন্টারভিউ নেন, আমি দুই নম্বরি লোক না, দুই নম্বরি কথাও বলি নাই। আমি একজন মুক্তিযোদ্ধা, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা। এদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশ নিয়েছি। এই দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে কোনো দুর্নীতিতে কখনো জড়াইনি। যেহেতু আমার দলে কাউন্সিল হয় না, সেজন্য মাঝে-মাঝে পরামর্শ দিয়েছি, পত্রিকায় সেগুলো উঠেছে। কিন্তু আমার দল সম্পর্কে, আমার নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া সস্পর্কে কোনো অসৌজন্যমূলক কথা আমি বলি নাই।
জনতার আওয়াজ/আ আ