প্রতিবেশী দেশের ক্রীতদাসে পরিণত হয়েছে আওয়ামী লীগ : তারেক রহমান
নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ:
মঙ্গলবার, মার্চ ২৬, ২০২৪ ১০:২৯ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ:
মঙ্গলবার, মার্চ ২৬, ২০২৪ ১০:২৯ অপরাহ্ণ

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, ‘আজকে দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব হুমকির সম্মুখীন। পানি নেওয়ার প্রতিবাদ করায় আবরারকে হত্যা করা হয়েছে। কিছুদিন আগের ঘটনা ফেনীতে ঢুকে প্রতিবেশী দেশের সীমান্তরক্ষীরা ২৩ বাংলাদেশি ধরে নিয়ে গেছে। কিন্তু ডামি সরকার প্রতিবাদ করার সাহসটুকু হারিয়ে ফেলেছে। শুধু তাই নয় আমাদের সীমান্তরক্ষীদের পাখির মতোন গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। বিন্দুমাত্র প্রতিবাদ করার সাহস পায়নি। কেনো সাহস হয়নি?’
ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, ‘আজকে তারা যে শুধু প্রতিবেশী দেশের দালালি করছে তাই নয়, তাদের ক্রীতদাসে পরিণত হয়েছে। স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বকে জলাঞ্জলি দিয়েছে। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক প্রতিবেশী একটি দেশের নাম উল্লেখ করে বলেছে তারা না থাকলে মাফিয়ার দল ক্ষমতায় আসতে পারতো না। নির্বাচনের সময় আওয়ামী লীগের এক প্রার্থী বলেছেন তিনি প্রতিবেশী দেশের প্রার্থী। সরকারের এক মন্ত্রী প্রতিবেশী দেশ থেকে ফিরে এসে বলেছেন আমি অনুরোধ করে এসেছি, অনুরোধ করে এসেছি যেভাবেই হোক আমাদেরকে ক্ষমতায় রাখতে হবে। এসব থেকে প্রমাণ হয় এদের জনগণের ওপর কোনো আস্থা নেই। আস্থা থাকলে বলতো জনগণকে পাশে দাঁড়াতে।’
সোমবার চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলা ও পৌর বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত এক ইফতার ও দোয়া মাহফিলে ভার্চুয়ালি যোগ দিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য, মিডিয়া সেলের সদস্য ও পররাষ্ট্র বিষয়ক আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মীর মো. হেলাল উদ্দিন।
তারেক রহমান বলেছেন, ‘বাংলাদেশের কোটি কোটি মানুষ নানা কষ্টে আছে। এই মুহূর্তে সঠিকভাবে ইফতার করতে পারছে কি-না তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। অস্ত্রের জোরে যারা ক্ষমতায় রয়েছে তারা উন্নয়নের গল্প করে। অথচ কোটি মানুষ প্রতিমাসে ঋণ করে সংসার চালাচ্ছে। কোটি কোটি মানুষ জানেন না আগামীকাল তারা খেতে পারবেন কি-না। অন্যদিকে, সরকারের লোকজন বিদেশে সহায়-সম্পত্তি গড়ে তুলছে।’
তারেক রহমান বলেন, ‘খোদ চট্টগ্রামের আওয়ামী লীগের এক নেতা। তার বিদেশে একটা দুইটা নয়, বিদেশে শত শত বাাড়ি। গণমাধ্যমে সংবাদ হয়েছে। এভাবে আওয়ামী লীগের উজির-নাজির রয়েছে। এমনকি শেখ হাসিনার পরিবারের লোকজনের বিদেশে বাড়ি আছে ৫টি, ১০টি। তারা বিদেশে যে সহায়-সম্পদ গড়ে তুলেছেন, সেগুলো দেশের মানুষের সম্পদ লুটে নেওয়া। ব্যাংকগুলো একটা একটা ধ্বসে পড়েছে। কোনো কোনো ব্যাংকে লালবাতি জ্বলে গেছে। স্বাধীনতার পরও ব্যাংকগুলোতে লালবাজি জ্বলেছিল। এখন যখন আবার আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসেছে তখন একই অবস্থা হচ্ছে।’
তিনি বলেন, ‘শিক্ষা ব্যবস্থার দিকে তাকাই। বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মারপিট হচ্ছে। পত্রিকার পাতায় খবর বেড়োচ্ছে। আওয়ামী লীগ নামক সন্ত্রাসী দল কীভাবে মারপিট করছে। শুধু যে তারাই করছে মারপিট করছে তা নয়। বড় বড় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান যেখানে হল আছে, হোস্টেল আছে, যেখানে সাধারণ ছাত্র-ছাত্রীরা থাকে সেখানে সন্ত্রাসী সংগঠন ছাত্রলীগ আবাসিক হলগুলোতে টর্চার সেল গঠন করেছে। বিভিন্নভাবে সাধারণ ছাত্র-ছাত্রীদের তারা নির্যাতন করে, অত্যাচার করে। যারা স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের কথা বলে তাদের হত্যা করে। বুয়েটের মেধাবী ছাত্র আবরারকে তারা হত্যা করেছে। বাংলাদেশ থেকে জনগণের অনুমতি না নিয়ে পানি নিয়ে গেছে প্রতিবেশী একটি দেশ। তার প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন আবরার। এ কারণে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা তাকে হত্যা করেছে। বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থা ধ্বংস করে ফেলেছে।’
তিনি বলেন, ‘তারা অর্থনীতি যেমন ধ্বংস করেছে, শিক্ষাব্যবস্থা যেমন ধ্বংস করেছে, তেমনি বিচার ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। আজকে এখানে যারা ইফতার পার্টিতে অংশ নিচ্ছেন তাদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে একের অধিক মামলা রয়েছে। যাদের বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে তারা আদালত থেকে সুবিচার পাচ্ছেন না। আজকে আদালত ডামি সরকারের তথা দলের অঙ্গ সংগঠনে পরিণত হয়েছে। আদালতকে তারা ধ্বংস করেছে।’
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, ‘আজকে সাংবাদিকরা লিখতে পারছে না। যতোটুকু লিখতে পারছে তা থেকে জানা যাচ্ছে দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থা ধ্বংস করেছে। চিকিৎসা ব্যবস্থা দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে সবচেয়ে খারাপ। ডামি সরকারের লোকজনের কিছু হলে তারা বিদেশে চলে যাচ্ছে। এতোই যদি উন্নয়ন হয়ে থাকে তাহলে তারা কেনো বিদেশে চিকিৎসা নিতে যান। তারা নিজেরা দেশে চিকিৎসা নেন না কারণ তারা জানেন তারা নিজেরা দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থা ধ্বংস করেছেন।’
জনতার আওয়াজ/আ আ