পহেলা বৈশাখ নিয়ে ওবায়দুল কাদেরের বক্তব্য দূরভিসন্ধিমূলক: রিজভী
নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ:
রবিবার, এপ্রিল ১৪, ২০২৪ ৯:২৬ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ:
রবিবার, এপ্রিল ১৪, ২০২৪ ৯:২৬ অপরাহ্ণ

পহেলা বৈশাখ নিয়ে ওবায়দুল কাদেরের বক্তব্য দূরভিসন্ধিমূলক বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী ।
বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে রবিবার (১৪ এপ্রিল) বিকেলে নয়াপল্টনে বিএনপির অঙ্গ সংগঠন জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠন-জাসাসের বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন তিনি।
তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন “বিএনপি বাঙালি সংস্কৃতিকে সহ্য করতে পারে না।”
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওয়ায়দুল কাদের তলে তলে প্রভুদের খুশি করতে চাইছেন বলে অভিযোগ করেন রিজভী। তার বক্তব্য উদ্দেশ্যমূলক।
রিজভী বলেন, আমরা কঠিন যুগসন্ধিক্ষণে এসে উপস্থিত হয়েছি। আজকে শুধু রাজনৈতিক আধিপত্য নয়, আমরা সাংস্কৃতিক আধিপত্য, সাংস্কৃতিক আগ্রাসনের মধ্যে পড়েছি। আমাদের দীর্ঘদিনের কৃষ্টি-সংস্কৃতি, দীর্ঘদিনের আমাদের ভাষা, আমাদের শব্দ এসবকে বদলে দেওয়ার অনেক প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে সরকারের পক্ষ থেকে।
সরকার সংস্কৃতি পরিবর্তনের চেষ্টা করছে মন্তব্য করে তিনি ওবায়দুল কাদেরকে উদ্দেশ্য করে প্রশ্ন করেন, ‘আপনি কোন সংস্কৃতিতে বিশ্বাস করেন? বিএনপি এক হাজার ইফতার পার্টি করতেই পারে। গরিব- দুঃখীদের নিয়ে ইফতার করেছে। কিন্তু ভারত থেকে নায়ক-নায়িকা নিয়ে এসে পার্টি করেন, ওখানে টাকা খরচ হয় না?’
রিজভী বলেন, আমাদের বাবা-মা, আমাদের পূর্ব পুরুষ দাদা-দাদি, নানা-নানী এবং আরো আগে থেকে তাদের অভ্যাস, তাদের খাওয়া-দাওয়া, তাদের পোশাক-পরিচ্ছদ সমস্ত কিছু মিলে এবং এই বাংলার প্রাণের যে শাখাগুলো সেই আসল। স্বাধীন ভূখণ্ডের মধ্যে এখানকার ধলেশ্বরী-শীতলক্ষ্যা-পদ্মা-যমুনা-যুমনা, ইছামতি এখান থেকে উচ্চারিত আমাদের যে সংগীত, আমাদের যে গান, আমাদের যে সংস্কৃতি এটা আমাদের নিজস্ব।
রিজভী বলেন, এই নিজস্বতার মধ্য দিয়ে আমাদের সংস্কৃতির যে মোজাইকটি তৈরি হয়েছে সেই মোজাইকটি ওবায়দুল কাদেররা বিভ্রান্ত ছড়িয়ে ভাঙতে পারবে না। এই মোজাইকের ওপরেই আমাদের সার্বভৌমত্ব, আমাদের স্বাধীনতা দাঁড়িয়ে থাকবে। আর এর প্রতীক হচ্ছেন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া।
আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকলে ভাষা, সংস্কৃতি, স্বাধীনতার নিরাপত্তা নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি। সরকার সংস্কৃতিকে পরিবর্তনের চেষ্টা করছে বলেও মনে করেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব।
বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সঙ্গে বিএনপি জড়িত উল্লেখ করে রিজভী বলেন, ‘যারা গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে চায়, তারা কেউ ভালো নেই।’
সব জায়গায় লুটপাটের ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, চালের দাম চড়া। চালের দাম কমানোর কথা বলে সরকার দাম আরও বাড়িয়েছে। সরকারের লোকজন সিন্ডিকেট করে বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে। সিন্ডিকেন্ডের কারণে ব্যাংকগুলো মুখ থুবড়ে পড়ছে। ব্যাংক একত্রিত করণ করার নামে লুট হওয়া ব্যাংকগুলোকে আরও দেউলিয়া করার সুযোগ করে দিচ্ছে। ঋণখেলাপিরা সরকারের ঘনিষ্ঠ লোক। ঋণের পর ঋণ নেয়ার ব্যবস্থা করে দেয়া হচ্ছে তাদের।
তিনি বলেন, ‘দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে এবার ঈদে কেনাকাটা অনেক কম হয়েছে। সব মিলিয়ে ঈদ সাধারণ মানুষদের আনন্দ কান্নায় পরিণত হয়েছে’, যোগ করেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব।
আধিপত্য ধরে রাখতে ক্ষমতাসীনরা দেশকে বিক্রি করে দিচ্ছে দাবি করে বিএনপির এ নেতা বলেন, ‘আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকলে ভাষা, সংস্কৃতি, স্বাধীনতা নিরাপদ নয়।’
রিজভী বলেন, ওবায়দুল কাদের সাহেব বলেছেন, বিএনপি নাকি বাঙালি সংস্কৃতিতে বিশ্বাস করে না। আমি বলতে চাই, আপনি কিসে বিশ্বাস করেন? এই বাঙালি সংস্কৃতি এটার তাৎপর্য কী, এটার সংজ্ঞা কী? আপনি যদি একটু ব্যাখ্যা করে বলতেন।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের অধিকাংশ মানুষ পানিকে পানি বলে। আপনি (ওবায়দুল কাদের) পানি শব্দ বদলে দিতে চাচ্ছেন, জল বলে কিছু মানুষ। জলেরও অস্তিত্ব আছে, পানিরও অস্তিত্ব আছে। পশ্চিম বাংলার বেশির ভাগ মানুষ পানিকে জল বলে। আমাদের দেশের মানুষ পানিকে পানিই বলে। ওবায়দুল কাদের সাহেব আপনি এটা বদলিয়ে দিতে চাচ্ছেন যে বিএনপি বাঙালি সংস্কৃতিতে বিশ্বাস করে না।
ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক আব্দুস সালাম বলেন, বাংলাদেশের মানুষ ভালো নেই, তাদের ঈদ আনন্দ বিষাদে পরিণত হয়েছে। আর ওবায়দুল কাদের শুধু বিএনপিকে খুঁজে। ঈদের আগেও বিএনপিকে খুঁজে, আবার নববর্ষেও খুঁজে।
জাসাসের যুগ্ম আহবায়ক লিয়াকত আলীর সভাপতিত্বে এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আব্দুস সাত্তার পাটোয়ারী, তারিকুল আলম তেনজিং, কৃষক দলের যুগ্ম সম্পাদক কৃষিবিদ মেহেদী হাসান পলাশ, কেন্দ্রীয় যুবদলের সাবেক সদস্য বেলাল উদ্দিন সরকার তুহিন, কেন্দ্রীয় নেতা গিয়াসউদ্দিন আল মামুন ওমর ফারুক কায়সার প্রমুখ।
জনতার আওয়াজ/আ আ