এক ‘বাহারে’ই বেসামাল আউয়াল!
নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ:
সোমবার, জুন ১৩, ২০২২ ৩:০৬ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ:
সোমবার, জুন ১৩, ২০২২ ৩:০৬ অপরাহ্ণ

নূরুল হুদা কমিশনের মেয়াদ শেষ হয়েছে গত ১৪ই ফেব্রুয়ারি। এরপর নির্বাচন কমিশন গতি হারায়। কাজী হাবিবুল আউয়ালকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) হিসেবে নিয়োগ দেন রাষ্ট্রপতি। একই মাসের ২৬ তারিখে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।
সিইসি হিসেবে নিয়োগ পেয়েই কাজী আউয়াল অনেক চমকপ্রদ কার্যক্রমের বিষয়গুলো তুলে আনেন। এখানে ক্ষ্যান্ত হননি তিনি। নির্বাচনের বিশ্বস্ততা অর্জনে জন্য দেশের প্রগতিশীল, বুদ্ধিজীবী, সাংবাদিক, সম্পাদক, শিক্ষকমন্ডলী, ডাক্তার রাজনৈতিক দলের সঙ্গে বৈঠক করেন কয়েক দফা। সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দেওয়ার প্রত্যাশা রাখেন সবার কাছে। নির্বাচনী রোডম্যাপ ও কর্ম পরিকল্পনা ব্যাপারে সবার কাছে সহযোগিতা দাবি করেন।
নিজেদের কর্মকাণ্ডে গতি আনতে সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার, কমিশন ও ইসি সচিবদের নিয়ে এক দফা বৈঠকে বসে আউয়াল কমিশন। এ বৈঠকে নিজের অবস্থান নিয়ে বিচার বিশ্লেষণও করেন। কীভাবে প্রভাবমুক্ত নির্বাচনের আয়োজন করা যায় সে বিষয়ে আলোকপাত হয়েছিল।
বর্তমান সিইসির কর্মকাণ্ডে দেশের মানুষের মাঝে আশার আলো জাগিয়ে তুলেছিলেন। প্রগতিশীলদের ভাবনায় এবার সিইসি আগের থেকে ভালো কিছু করবেন। হয়তো ভালো ত্রুটিমুক্ত ভোট ও নতুন প্রজন্ম তার ভোট প্রদান করতে পারবেন। এমনি আলোচনায় ছিলেন প্রধান নির্বাচন কাজী হাবিবুল আউয়াল।
সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য সিইসিকে অনেক মন্তব্য ও হুঁশিয়ারী দিতে দেখা গেছে। তিনি আস্থা অর্জনে নিস্বার্থভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছিলেন।
আগের নির্বাচনী সময়ের কর্মকাণ্ড নিয়ে বর্তমান সিইসিকে সাংবাদিকরা প্রশ্ন ছুড়ে দিলে আউয়াল বলেছিলেন, ‘আস্থা রাখুন, দিনের ভোট দিনেই হবে, রাতে হবে না। এমন প্রতিশ্রুতি দেন। সরকার কোন চাপ অনুভুবের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেছিলেন, কোন চাপ নেই, স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারব।’
সিইসির কথা ও কার্যক্রমে ভালো কিছু আশা করলেও বাধ সাধে কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন (কুসিক) নির্বাচনের প্রচার-প্রচারণা নিয়ে। স্থানীয় সংসদ সদস্য আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহার নির্বাচনী আচরণ বিধি লঙ্ঘন করায় এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দেয় ইসি। ইসির নির্দেশ বৃদ্ধা আঙ্গুলি দেখিয়েছেন তিনি। আচরণ বিধি অমান্য করে তিনি নিজ এলাকায় অবস্থান করছেন।
এ বিষয়ে সিইসি বলেন, নির্বাচনী আচরণ বিধিতে আছে, অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা এলাকায় থাকবেন না, থেকে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবেন না বা প্রচার চালাবেন না। সংসদ সদস্যের অবস্থান নিয়ে সাংবাদিকরা প্রশ্ন তুললে তিনি বলেন, আমরা বলেছি তাকে এলাকা ত্যাগ করার জন্য। তিনি ত্যাগ করেননি।
সংসদ সদস্যের এ আচরণে নির্বাচন কমিশনের বিধি কোন পদক্ষেপ নেয়া হবে কী না এমন প্রশ্নে সিইসি বলেন, তিনি এলাকা না ছাড়লে, আমার কিছুই করার নেই।
সিইসি কিছুই করা নেই এমন মন্তব্যে তরুণ প্রজন্ম রায়হান বলেন, প্রথমে সিইসির কথায় আমরা আশার আলো দেখেছি। কিন্তু এখন সে আশায় গুড়ো বালি। কথা আর কাজে মিল পাছি না। নির্বাচন কমিশনের সব কঠোর পদক্ষেপ নিলেও একজন সংসদ সদস্যের কাছে মনে নিজেকে নতজানু করে তুললেন। তার কাছে কমিশন মনে হচ্ছে অসহায়। এখন ইসি কী পদক্ষেপ নেয় সেটাই দেখার বিষয়?
কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে স্থানীয় সংসদ সদস্য এলাকা ছাড়ার প্রসঙ্গে নির্বাচন কমিশনারের কিছুই করার নেই সিইসির এমন বক্তব্য ভালো লক্ষণ নয় বলে মন্তব্য করেছেন সুশাসনের জন্য নাগরিক’র সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার।
তিনি বলেন, এমন কথা নির্বাচন কমিশনের নতজানু হওয়া, অসহায়ত্ব প্রকাশ করা, যেটা কোনোভাবেই কাম্য নয়। নির্বাচন কমিশন যদি অসহায়ত্ব প্রকাশ করে তাহলে আমরা নাগরিকরা যাব কোথায়? নির্বাচন কমিশন আমাদের ভরসাস্থল। দেশের স্বার্থে তাদের ওই পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।’
একজন সংসদ সদস্যের ব্যাপারে নির্বাচন কমিশনের এমন অসহায় আর অনেক একবারে আচরণ বিধি লঙ্ঘন করলে কী হবে প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন যখন অসহায়ত্ব প্রকাশ করে যে তারা তাদের আইনকানুন বিধি বিধান প্রয়োগ করতে পারছে না। তখন আমরা কিভাবে আশাবাদী হতে পারি- আমরাও অসহায়ত্ব প্রকাশ না করে পারি না। এখন দেখার বাকী নির্বাচন কমিশন পরবর্তীতে উপহার দেয় জনগণকে।
জনতার আওয়াজ/আ আ