জনগণকে বিষাক্ত গ্যাস চেম্বারে-তরুণ জাতিকে নির্যাতনের মধ্যে রাখতে চান হাসিনা: রিজভী
নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ:
সোমবার, এপ্রিল ২৯, ২০২৪ ৯:৩৬ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ:
সোমবার, এপ্রিল ২৯, ২০২৪ ৯:৩৬ অপরাহ্ণ

স্টাফ করসপন্ডেন্ট
শেখ হাসিনা দেশের জনগণকে তাপে, গরমে, বিষাক্ত গ্যাস চেম্বারে মধ্যে রাখতে চান। আর গণতন্ত্রকামি তরুণ জাতিকে নিপীড়ন নির্যাতনের মধ্যে রাখতে চান বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
তিনি বলেন, তরুণদের বহিঃপ্রকাশে দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হবে এই ভয়ে তরুণদেরকে নিপীড়ন নির্যাতনের মধ্যে রাখতে চান তিনি। আর এই কারণে যুবদলের সাধারণ সম্পাদককে জেল থেকে বের করেন আর যুবদল সভাপতিকে জেলে ঢুকান।
সোমবার (২৯ এপ্রিল) এক মিছিল শেষে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জাতীয়তাবাদী যুবদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি সুলতান সালাউদ্দিন টুকুকে মিথ্যা মামলায় জামিন বাতিল করে কারাগারে প্রেরণের প্রতিবাদে যুবদলের উদ্যোগে তাৎক্ষণিক এই বিক্ষোভ মিছিল হয়। যুবদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মোনায়েম মুন্নার নেতৃত্বে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ মিছিল এবং সমাবেশ হয়।
রিজভী বলেন, আজকে যেখানেই দুর্যোগ ও দুর্ভোগ সেখানেই আওয়ামী লীগ। এই যে, তীব্র তাপপ্রবাহ। এজন্য কী সরকার দায়ী নয়? আজকে গাছপালা কেটে ফেলা হচ্ছে। নদী-নালা, খাল-বিল, হাওর-বাওড় সমস্ত কিছু ভরাট করা হচ্ছে। কার স্বার্থে ভরাট হচ্ছে? আওয়ামী ভূমিদস্যুদের স্বার্থে। যুবলীগ ছাত্রলীগকে নতুনভাবে ভূমিদস্যু বানিয়ে জনগণের দম বন্ধ করা হচ্ছে। কারণ তারা তো এদেশে থাকবে না। তারা যাবে মালয়েশিয়া, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা ও দুবাই। সুতরাং ওদের তো দায় নেই।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী মরণ খেলায় খেলছেন। তিনি আগুন নিয়ে খেলছেন। কেননা প্রচন্ড তাপপ্রবাহে শিশু মারা গেছে। মহিলাসহ প্রায় বিশ জন মারা গেছেন। প্রধানমন্ত্রীর কী দায় নেই? আপনি কয়লা পুড়িয়ে তাপ বিদ্যুত কেন্দ্র করে সুন্দরবন উজাড় করার ষড়যন্ত্র করছেন। দক্ষিণবঙ্গের সমুদ্র উপকূলের সব উজাড় করে দিচ্ছেন। সেখানে ফল হয়না, এটাতো আপনার কারণে। যেখানেই দুর্নীতি ও লুটপাট সেখানেই আওয়ামী সরকার। আজকে ব্যাংক, বীমা সর্বত্র হরিলুট চলছে। আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো ফাঁকা হয়ে গেছে। বিদ্যুতের লোডশেডিংয়ে মানুষ অতীষ্ঠ। তারা নাকি বিদ্যুতে স্বয়ংসম্পূর্ণ।
তিনি বলেন, মনে রাখতে হবে থুথু দিয়ে ইটের দালান গড়া যায় না। যেটা শেখ হাসিনা করেছেন গত কয়েক বছর ধরে। আজকে দেশে কর্মসংস্থান নেই। চারদিকে শুধু হাহাকার আর আহাজারি। সেই পরিস্থিতিতে আল্লাহর অভিশাপ। এই ভয়ঙ্কর অগ্নিবর্ণরুপ বাংলাদেশের প্রকৃতি। এরমধ্যেও গণতন্ত্রকে ধ্বংস করতে শেখ হাসিনার নীল নকশা থামছে না। সেজন্যই যুবদলের সভাপতি সুলতান সালাউদ্দিন টুকুকে কারাগারে পাঠানো হলো। এরআগে অনেক নেতাকে কারাগারে পাঠিয়েছে শেখ হাসিনার আদালত।
রিজভী বলেন, আজকে আমরা একটি মিছিল নিয়ে গেলে বামে-ডানে পুলিশ বাঁধা দেয়। কারণ আমরা অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করছি। আজকে প্রতিবাদও করা যাবে না। মত প্রকাশের স্বাধীনতাও নেই। কই ব্যাংক লুটেরা ও ভুমি দস্যুদেরকে তো বাধা দেন না। এই দায়িত্বও তো আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর। অথচ আপনার গণতন্ত্রকামী মানুষকে বাধা দেন! তাদের মিছিল দেখলে ও স্লোগান শুনলে আপনারা বাধা দেন। আমি অবিলম্বে সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর মুক্তি দাবি করছি। অন্যথায় প্রতিটি আঘাত আপনাদের দিকে ফিরে যাবে। এটাই প্রকৃতির নিয়ম। অন্যায়-অবিচার না থামালে আপনাদের দিকেই ফিরে যাবে।
আব্দুল মোনায়েম মুন্না বলেন, পুলিশ ও আজ্ঞাবহ আদালতকে নিয়ন্ত্রণ করে জনগণের ভোটের অধিকার এবং গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার চলমান আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া থেকে যুবদল নেতৃবৃন্দকে বিরত রাখা যাবেনা; বরং এতে নেতাকর্মীদের ক্ষোভ ও প্রতিবাদের আকাঙ্খা আরও তীব্র থেকে তীব্রতর হবে। সুলতান সালাউদ্দিন টুকুকে রাজপথের আন্দোলন সংগ্রামের মাধ্যমেই মুক্ত করে আনা হবে। এই অবৈধ সরকারের কছে মুক্তির দাবি জানানো হবেনা।
যুবদলের সহ-সভাপতি জাহিদুর রহমান দীপু সরকার। কামরুজ্জামান দুলাল (সহ-সভাপতি পদমর্যাদা), যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক-জিয়াউর রহমান জিয়া, কামাল আনোয়ার আহমেদ, আব্দুল জব্বার খান, বিল্লাল হোসেন তারেক, আজিজুর রহমান আজিজ (যুগ্ম-সাধারণ পদমর্যাদা)। সহ-সাধারণ সম্পাদক-মাসুদ আহমেদ খান, আতিক আল হাসান মিন্টু, প্রচার সম্পাদক আব্দুল করিম সরকার, সাহিত্য প্রকাশনা সম্পাদক মেহবুব মাসুম শান্ত। তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক শফিকুল ইসলাম শফিক, পল্লী উন্নয়ন বিষয়ক সম্পাদক মাহমুদুল হক হিমেল, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক-মাহফুজুর রহমান, মাহফুজ, সাখাওয়াত হোসেন চয়ন, গোলাম ফারুক, সহ-প্রচার সম্পাদক-আশরাফুল আলম ফকির লিংকন, সহ-সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক মাহমুদুল হাসান বাপ্পী, সহ-তথ্য সম্পাদক পার্থ দেব মন্ডল, ক্ষুদ্র ও কুটির মাজেদুল ইসলাম রুমন, কেএম সানোয়ার, মুসাব্বির শাফি, আমিনুর রহমান আমিন, সদস্য মিজানুর রহমান সুমন, নাসির উদ্দীন শাওন, মহানগর উত্তর যুবদলের আহবায়ক শরিফ উদ্দিন জুয়েল, সদস্য সচিব সাজ্জাদ মিরাজসহ যুবদলের কেন্দ্রীয় ও বিভিন্ন পর্যায়ের বিপুল সংখ্যক নেতৃবৃন্দ বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন।
জনতার আওয়াজ/আ আ