মাঠে মিত্রদের পাশে চায় বিএনপি - জনতার আওয়াজ
  • আজ ভোর ৫:২৩, শুক্রবার, ১৫ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১লা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৮শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

মাঠে মিত্রদের পাশে চায় বিএনপি

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: বৃহস্পতিবার, মে ১৬, ২০২৪ ১:০২ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: বৃহস্পতিবার, মে ১৬, ২০২৪ ১:০২ অপরাহ্ণ

 

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
নিষ্ফল সরকারবিরোধী আন্দোলনের পর দীর্ঘ বিরতি। পোড় খাওয়া বিএনপির এখন আবার রাজপথে ফেরার অভিলাষ। ঝিমুতে থাকা দলের নেতাকর্মীকে জাগাতে সাংগঠনিকভাবে নানা কর্মসূচির পথে হাঁটছে বিরোধী দলটি। এ প্রক্রিয়ায় সবার আগে রাজনৈতিক ‘মিত্র’ হিসেবে পরিচিত বিভিন্ন দলকে পাশে চাইছে তারা। এ পটভূমিতে সরকারবিরোধী দলগুলোর সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠকও শুরু হয়ে গেছে।

সংসদ নির্বাচনের আগের মতো আবারও রাজপথে যুগপৎ কিংবা আলাদা কর্মসূচির মাধ্যমে সরকারের বিরুদ্ধে জনমত তৈরির পরিকল্পনা সাজাচ্ছেন বিএনপির শীর্ষ নেতারা।

সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে সমমনা রাজনৈতিক দল ও জোটের সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠকের প্রথম দিন গত রোববার ১২ দলীয় জোটের সঙ্গে বসে বিএনপি। পরে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন দলটির নেতারা। গত সোমবার জাতীয়তাবাদী সমমনা জোট ও লেবার পার্টির সঙ্গে কথাবার্তা হয়। আর গত মঙ্গলবার গণঅধিকার পরিষদ (ভিপি নুর) ও গণতান্ত্রিক বাম ঐক্যের সঙ্গে বৈঠক হয়। এ দুই বৈঠকে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও উপস্থিত ছিলেন। গতকাল বুধবার বিকেলে গণফোরাম (মন্টু) ও গণতন্ত্র মঞ্চের সঙ্গে বৈঠক হয়। আজ বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সমমনা বিরোধী দলগুলোর সঙ্গে এভাবে বৈঠক করে রাজপথে নামার পথ খুঁজবে বিএনপি।

লিয়াজোঁ কমিটির অন্যতম সদস্য ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান সমকালকে জানান, দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে করণীয় নির্ধারণে জোট নেতাদের সঙ্গে তারা ধারাবাহিক বৈঠক করছেন। সভায় নেওয়া হচ্ছে তাদের মতামত। তাদের কাছ থেকে কিছু প্রস্তাবও আসছে। দেশের বিদ্যমান রাজনীতি আর ভঙ্গুর অর্থনীতির বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।

গত ৭ জানুয়ারি সংসদ নির্বাচনের পর ১২ ও ১৩ জানুয়ারি যুগপতের শরিকদের সঙ্গে বিএনপির হাইকমান্ড ভার্চুয়ালি সিরিজ বৈঠক করে। ওই বৈঠককে তখন বিএনপি ও শরিকদের পক্ষ থেকে ‘সৌজন্য বৈঠক’ বলা হয়েছিল। সেখানে সরকারি নানা চাপ ও প্রলোভনের পরও নির্বাচনে না যাওয়া এবং যুগপৎ আন্দোলন অব্যাহত রাখায় বিএনপির তরফ থেকে মিত্রদের জানানো হয় সাধুবাদ। এরপর গত রোববারের আগপর্যন্ত মিত্র দলগুলোর সঙ্গে বিএনপির লিয়াজোঁ কমিটির আনুষ্ঠানিক আর কোনো বৈঠক হয়নি।

বিএনপির শীর্ষ নেতারা জানান, বর্তমান রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ভঙ্গুর অবস্থায় জনগণকে আবারও ঐক্যবদ্ধ করতে চাইছেন তারা। এ জন্য ব্যাংক খাত, রিজার্ভ পরিস্থিতি, ডলার সংকট, বৈদেশিক ঋণ, ঋণের কিস্তি, লুটপাটসহ আরও বেশ কিছু বিষয় সামনে এনে জনমত তৈরি করতে চান। বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়ে জনগণের কাছে হাজির হয়ে দেশের বাস্তবিক পরিস্থিতি তুলে ধরবেন। এ রকম ধারাবাহিক কর্মসূচির মধ্য দিয়ে তারা ধীরে ধীরে সরকারবিরোধী আন্দোলনে ঢুকতে চাইছেন। এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করতেই সমমনা জোট ও দলগুলোকে সক্রিয় করার চেষ্টা চলছে, যাতে অভিন্ন ইস্যুতে একযোগে মাঠে নামা যায়।

গণতন্ত্র মঞ্চের নেতা ও বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক সমকালকে বলেন, ১০ মে থেকে তাদের বিভাগীয় প্রতিনিধি সভা শুরু হয়েছে। প্রতিটি বিভাগে ধারাবাহিকভাবে প্রতিনিধি সভা হবে। এসব সভা থেকে নেতাকর্মীকে আন্দোলনের প্রস্তুতি নিতে বলা হচ্ছে। বিভাগীয় প্রতিনিধি সভার মধ্য দিয়ে প্রতিটি বিভাগ ও জেলা পর্যায়ে জনসভা কিংবা সমাবেশের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

জোট নেতারা জানান, নির্দলীয় সরকারের অধীনে নিরপেক্ষ নির্বাচনের দাবিতে আড়াই মাসের আন্দোলন একদিকে যেমন ফলদায়ক হয়নি, অন্যদিকে বিরোধী দলহীন একতরফা নির্বাচনও প্রতিবন্ধক ছাড়াই হয়ে গেছে। ফলশূন্য আন্দোলনের পর স্বাভাবিকভাবে বিরোধী নেতাকর্মীর মনোবলে চিড় ধরে। তারা আগের মতো আর জোশ পাচ্ছেন না। এর মধ্যে কারাগার আর মামলা নিয়েও ব্যতিব্যস্ত রয়েছেন নেতারা। সব মিলিয়ে একটি অস্বাভাবিক পরিস্থিত চলছে বিরোধী শিবিরে।

সূত্র জানায়, বর্তমান নাজুক পরিস্থিতি থেকে ঘুরে দাঁড়াতে নেতাকর্মীকে চাঙ্গা করতে চাচ্ছে বিরোধী দল। নেতাকর্মীকে সক্রিয় করে আগের মতো মাঠের রাজনীতিতে গতি ফেরাতে চলছে প্রস্তুতি। পাশাপাশি নিজেদের ঐক্যবদ্ধ অবস্থান ধরে রাখার ওপরও জোর দেওয়া হচ্ছে। ইস্যুভিত্তিক কর্মসূচির পাশাপাশি সাংগঠনিক শক্তি বাড়তে নানা আয়োজনের দিকে নজর দেওয়া হয়েছে। রাজধানীসহ মহানগর ও জেলা পর্যায়ে কর্মিসভার পাশাপাশি নিষ্ক্রিয় নেতাদের উজ্জীবিত করার পরিকল্পনাও রয়েছে। সমমনা রাজনৈতিক দল ও জোট নেতাদের মতামতের ভিত্তিতে বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটি চূড়ান্ত কর্মসূচির সিদ্ধান্ত নেবে।

এদিকে সমমনা রাজনৈতিক দল ও জোট নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে চলমান রাজনৈতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক সংকট উত্তরণে করণীয় বিষয়ে পরামর্শ চাওয়া হয়েছে। বাস্তবসম্মত ও জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য কর্মসূচির বিষয়ে সামনের বৈঠকে বিএনপিকে জানানো হবে। এ ছাড়া উপজেলা নির্বাচনে জনগণকে আরও বেশি নিরুৎসাহিত করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। সীমান্ত আগ্রাসনসহ বিভিন্ন ইস্যুতে যুগপৎ ও আলাদা কর্মসূচি দিয়ে ফের রাজপথে নামা যায় কিনা, সেটি নিয়েও কথাবার্তা হয়েছে। বৈঠকে জোটের নেতারা ভারতীয় পণ্য বর্জনের পক্ষে আরও বেশি জনমত তৈরির ওপর জোর দেন।

সূত্র জানায়, বৈঠকে ভারত বিরোধিতা নিয়ে জোট নেতারা বেশ সরব ছিলেন। এর মধ্যে বেশ কয়েকজন নেতা বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতাদের জানান, ভারত তোষণনীতি নয়, ভারতবিরোধী অবস্থান আরও জোরালো করতে হবে। বিভিন্ন ইস্যুভিত্তিক কর্মসূচির বিষয়ে বেশ কয়েকজন জোট নেতা আগামীতে একমঞ্চে সবাইকে নিয়ে রাজপথে নামার প্রস্তাব তুলে ধরেন। অনেকে যুগপতের বাইরে আলাদা জোটগত ও দলীয় কর্মসূচি পালনের ওপর গুরুত্ব দেন।

১২ দলীয় জোটের সমন্বয়ক ও জাতীয় দলের চেয়ারম্যান সৈয়দ এহসানুল হুদা বলেন, জাতীয় নির্বাচনের পর প্রথমবার লিয়াজোঁ কমিটির বৈঠক হয়েছে। আশা করি, আবারও এক দফার আন্দোলন খুব শিগগির শুরু হবে।

জোট নেতারা জানান, সংসদ নির্বাচনের পর দলের সাংগঠনিক তৎপরতা, নেতাকর্মীর মনোবল ধরে রাখতে তারা নিজেদের মতো চেষ্টা করছেন; নানা কর্মসূচি নিয়ে মাঠে থাকছেন। শুরুতে এটি সম্ভব না হলেও এপ্রিল থেকে রাজনীতিতে সরব থাকার চেষ্টা করছেন তারা।

এর মধ্যে গণতন্ত্র মঞ্চের নেতাকর্মীকে চাঙ্গা রাখতে কর্মিসভার উদ্যোগ নিয়েছেন জোট নেতারা। গত শুক্রবার রংপুর ও শনিবার রাজশাহী বিভাগ থেকে আট বিভাগে কর্মিসভা শুরু করেছেন তারা। ১৯ মে চট্টগ্রাম, ২৪ মে বরিশালে কর্মিসভা করার কথা রয়েছে। পরে এসব বিভাগে জনসমাবেশ করার পরিকল্পনাও রয়েছে তাদের।

১২ দলীয় জোটের উদ্যোগে ভারতীয় পণ্য বর্জন ইস্যুকে আরও জোরদার করার পরিকল্পনা রয়েছে। এ ইস্যুতে আবারও মাঠে নামবেন জোট নেতারা। এর মধ্যে কাল বৃহস্পতিবার ফারাক্কা দিবস উপলক্ষে কর্মসূচি পালনের সিদ্ধান্ত রয়েছে জোটটির। এ মাসেই অন্তত তিনটি মহানগরে লিফলেট বিতরণ করবেন তারা। পাশাপাশি উপজেলা নির্বাচন বর্জনের পক্ষে জনমত তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে এ জোট। জাতীয়তাবাদী সমমনা জোটও নতুন করে কর্মসূচিতে যাওয়ার পরিকল্পনা করছে।

এসব জোটের বাইরে গণঅধিকার পরিষদের দুই অংশই আলাদাভাবে বিভিন্ন ইস্যুতে মাঠে থাকার চেষ্টা করছে। সরকারবিরোধী আন্দোলনকে ত্বরান্বিত করতে সভা-সেমিনার, মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচির উদ্যোগ নিয়েছে আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি)। এ ছাড়া অন্য দলগুলোও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড সাজাচ্ছে।সূত্রঃ সমকাল

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ