তারেক রহমানকে শাস্তি দেওয়াই সরকারের মূল লক্ষ্য: নজরুল ইসলাম খান - জনতার আওয়াজ
  • আজ রাত ১২:২৩, শুক্রবার, ১৫ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১লা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৮শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

তারেক রহমানকে শাস্তি দেওয়াই সরকারের মূল লক্ষ্য: নজরুল ইসলাম খান

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: সোমবার, মে ২৭, ২০২৪ ২:৩৬ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: সোমবার, মে ২৭, ২০২৪ ২:৩৬ অপরাহ্ণ

 

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
জনগণকে রক্ষা নয় তারেক রহমানকে শাস্তি দেওয়াই সরকারের মূল লক্ষ্য বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান।

সোমবার (২৭ মে) জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনের সড়কে ঢাকা জেলা বিএনপির উদ্যোগে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া বক্তব্যের জবাবে এ মন্তব্য করেন।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তি ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার, ঢাকা জেলা বিএনপির সভাপতি খন্দকার আবু আশফাক, কেন্দ্রীয় যুবদলের সাবেক সভাপতি সাইফুল আলম নিরব, সভাপতি সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, ঢাকা মহানগর বিএনপির সদস্য ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেনসহ কারাবন্দি নেতাকর্মীদের মুক্তি দাবি এবং ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি কাজী রওনকুল ইসলাম শ্রাবন ও সাবেক সংসদ গোলাম মাওলা রনির ওপর হামলার প্রতিবাদ এবং দায়িদের গ্রেফতারের দাবিতে এই মানববন্ধন হয়।

নজরুল ইসলাম খান বলেন, ঘূর্ণিঝড় রিমালের আঘাতে দেশের অনেক মানুষ, সম্পাদ ও জনপদ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে- এই নিয়ে আমরা দুশ্চিন্তাগ্রস্ত। দেশে যখন এই চরম সঙ্কট, যখন উপকূলীয় এলাকাগুলিতে ১০ নম্বর মহাবিপদ সঙ্কেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে, পত্রিকায় দেখলাম সেই সময় দেশের প্রধানমন্ত্রীর আসনে যিনি বসে আছেন, তাকে আমরা বলতে শুনলাম খারাপ একটি শব্দ ব্যবহার করে, তারেককে দেশে ফিরিয়ে নিয়ে আসা। দেশ যখন দুর্যোগে, তখন দেশের মানুষকে বাঁচানো প্রধান কাজ না। জনগণের সম্পদ রক্ষা গুরুত্বপূর্ণ কাজ না। তাদের কাছে একমাত্র গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করা।

বিএনপি’র এই নীতি নির্ধারক বলেন, কারণ জিয়াউর রহমানকে মারা হয়ে গেছে। আরাফাত রহমান কোকোকে বিদেশে বিনা চিকিৎসায় মৃত্যুবরণ করতে হয়েছে, খালেদা জিয়াকে সুচিকিৎসার সুযোগ না দিয়ে মৃত্যুরমুখে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। জিয়া পরিবারের আছেন শুধুমাত্র তারেক রহমান। জিয়া পরিবারকে এতোই অপছন্দ যে তাকে দেশে এনে শাস্তি দিতে হবে।

তিনি বলেন, কী অপরাধ তারেক রহমানের। একজন বিচারক তাকে একটি মামলায় খালাস দিয়েছিল। ওই বিচারক পরে দেশে থাকতে পারেনি। এস কে সিনহার মতো তাকে দেশত্যাগ করতে হয়েছে। উচ্চ আদালতে নিয়ে তাকে সাজা দেওয়া হয়েছিল। আরেকটি মামলার এজারসহ কোথাও তারেক রহমানের নামই ছিল না। একজন অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কমকর্তা আবদুল কাহার আকন্দ, তিনি তার এলাকায় নৌকা মার্কার ব্যানার লাগিয়ে প্রচারণা করছিলেন। তাকে সেখান থেকে এনে উচ্চতর পদে নিযুক্ত দিয়ে এই মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা নিয়োগ করা হল। এই কাহার আকন্দ মুফতি হান্নানকে এক’শ দিনের বেশি রিমান্ডে নিয়ে অত্যাচার করে তাকে দিয়ে তারেক রহমানের নাম বলানো হলো। সেই মামলায় বিদেশে থাকা অবস্থায় সাজা দেওয়া হলো। তাকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগও দেওয়া হয়নি। মুফতি হান্নান ম্যাজিস্টেটের কাছে ওয়ান সিক্সটি ফোরে বলেছিল তাকে জোর করে এটা কারানো হয়েছে। আবার এই মামলার রায়ের আগেই কেন এত গুরুত্বপূর্ণ আসামীকে অন্য মামলায় ফাঁসি কার্যকর করা হলো?

নজরুল বলেন, তারেক রহমানের ওপর মূল রাগের কারণ হচ্ছে, তারেক রহমান আজ গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার আন্দোলনকে বেগমান করেছে, জোরদ্বার করেছে। দেশের ইতিহাসে তারেক রহমান দেশের ডান, বাম, সমাজতান্ত্রিক, ইসলামপন্থি সব রাজনৈতিক দলকে ঐক্যবদ্ধ করে গণতন্ত্রের পক্ষে, সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তুলেছে। দেশের মানুষ ভোট কেন্দ্রে গিয়ে ভোটও দেননি।

তিনি বলেন, এ জন্য ঘূর্ণিঝড়, দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতি, টাকার অবমূল্যায়ন, দুর্নীতি, অনাচার, মানবাধিকার হরণ, রাষ্ট্রীয় ব্যাংকলুট, রাষ্ট্রীয় দেনা বৃদ্ধি, সাবেক সেনা ও পুলিশ প্রধান আন্তর্জাতিক স্যাংশনের মুখে পড়ার পরেও সেগুলো কোনোটাই মূল কাজ নয়। মূল কাজ তারেক রহমানকে এনে শাস্তি দেওয়া।

নজরুল ইসলাম খান বলেন, আমরা বাকশালের বিরুদ্ধে শহীদ জিয়ার নেতৃত্বে বহু দলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছিলাম, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে এরশাদের স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে লড়াই করেছিলাম, সংসদীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছিলাম। এই সরকার যে গণতন্ত্রকে হত্যা করেছে, পুনরায় তারেক রহমানের নেতৃত্বে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করব। আমি বলতে চাই তারেক রহমানকে ফিরিয়ে আনতে হবে না। তিনি নিজেই আসবেন। তিনি আসবেন বীরের ভেসে।

অ্যাডভোকেট নিপুণ রায় চৌধুরী বলেন, ৭ জানুয়ারির তারেক রহমানের আহ্বানে দেশের ৯৫ ভাগ মানুষ ভোট বর্জন করেছে। ফলে তারেক রহমান এ দেশের ৯৫ ভাগ জনগণের নেতা। অপর দিকে, ৫ ভাগ মানুষের সরকার প্রধান হচ্ছেন শেখ হাসিনা। গতকাল তিনি দেশের ৯৫ জনগণের নেতাকে চ্যালেঞ্জ করেছেন; মানে দেশের মানুষকে চ্যালেঞ্জ করেছেন। সেদিন আর বেশি দূরে নয় গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার হরণ, দুর্নীতি ও লুটপাটের জন্য এই সরকারের বিচার এদেশের জনগণ করবে।

ঢাকা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট নিপুণ রায় চৌধুরীর পরিচালনায় এতে আরো বক্তব্য দেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুস সালাম আজাদ, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক বেনজীর আহমেদ টিটো, নির্বাহী কমিটির সদস্য তমিজ উদ্দিন প্রমুখ।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ