আ'লীগ হাজার হাজার আজিজ-বেনজীর তৈরী করেছে: মির্জা আলমগীর - জনতার আওয়াজ
  • আজ রাত ১:৫৭, শুক্রবার, ১৫ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১লা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৮শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

আ’লীগ হাজার হাজার আজিজ-বেনজীর তৈরী করেছে: মির্জা আলমগীর

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: শনিবার, জুন ১, ২০২৪ ১১:৩২ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: শনিবার, জুন ১, ২০২৪ ১১:৩৩ অপরাহ্ণ

 

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট

একটা বেনজীর একটা আজিজ নয়, এই সরকার হাজার হাজার আজিজ-বেনজীর তৈরী করেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি’র মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
শনিবার, জুন ১, ২০২৪, দুপুরে গাজীপুর চৌরাস্তায় সাগর সৈকত কনভেনশন হলে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৩তম শাহাদাৎ বার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া-মাহফিলের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, আজকে খবরের কাগজ খুললেই কি দেখেন আপনারা? দেখবেন সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ তার হাজার হাজার কোটি টাকার সম্পত্তি। কখন করেছেন, যখন তিনি র‌্যাবের ডিজি ছিলেন, পুলিশে আইজি ছিলেন তখন তৈরী করেছেন। যার বেতন সব মিলিয়ে কয়েক কোটি টাকার বেশি হয়না, সেই লোকের এখন দেখা যাচ্ছে হাজার হাজার কোটি টাকা সম্পদ। যখন এটা ফাঁস হয়ে গেল এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যখন সেংশন দিলো তারপর কিন্তু তাকে তারা আইজিপি করেছে এবং সমস্ত দায়িত্ব দিয়ে রেখেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যখন সরকারকে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিলো তোমরা তো সব দুর্নীতি পরায়ন লোক গুলোকে, যারা মানুষের অধিকারকে খুন করেছে, যারা মানুষকে হত্যা করেছে, গুম করেছে তাদের তোমরা পুরস্কিত করছো। সুতরাং তোমাদের বিরুদ্ধে আমরা ব্যবস্থা নিবো।
এই বেনজীর মে মাসের ৪ তারিখে পুরো পরিবার নিয়ে সিঙ্গাপুর চলে গিয়েছে। কাগজে কলমে বলছে মাত্র কয়েকটা ব্যাংকের যে একাউন্ট সেখান থেকে ৬০ কোটি টাকা তুলে নিয়ে গেছে। ৬০ কোটি টাকাই নয় আরো অসংখ্য টাকা তুলে নিয়ে গেছে। এরা কি চোখে আঙ্গুল দিয়ে বসেছিল? ইমিগ্রেশন ডিপার্টমেন্ট কি চোখে আঙ্গুল দিয়ে বসেছিল? সরকার কি চোখে আঙ্গুল দিয়ে বসেছিল? কিন্তু আমরা যখন চিকিৎসার জন্য বাইরে যেতে চাই, পাসপোর্ট-ভিসা নিয়ে এয়ারপোর্টে গেলে আমাদেরকে দেড় ঘন্টা দুই ঘন্টা বসিয়ে রাখে। আর তাকে (বেনজীর) জামাই আদর করে সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্সে তুলে দিয়েছে সে যেন দেশ থেকে বেরিয়ে যেতে পারে। এই সরকার হচ্ছে চোরের রাজা বাটপার। যারা চুরি করেছে তাকে সবসময়ই প্রশয় দিয়েছে।
সাবেক সেনাবাহিনীর প্রধান সম্পর্কে মির্জা ফখরুল বলেন, এটা গেল একজনের কথা, আরেকজনের কথা বাইরে বেরিয়ে এসেছে। হঠাৎ করে আমরা দেখলাম সেনাবাহিনীর সাবেক প্রধান জেনারেল আজিজ। যার একটা ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছিল আলজাজিরাতে। তিনি কিভাবে তার ভাইদেরকে রক্ষা করার জন্য প্রভাব খাটিয়ে তাদেরকে মুক্ত করে পাসপোর্ট দিয়ে বিদেশে পাঠিয়ে দিয়েছিল। তার বিরুদ্ধে আমেরিকা সেংশন দেয়ার পরে এখন তাদের টনক নড়েছে। এখন বলছে আমরা এখন তদন্ত করবো।
তিনি বলেন, আজকে দেশে, যে ভুখন্ডে বাস করি আমরা তাকে বলি স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ। সেই স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশটা স্বাধীন করবার জন্য যাদের দায়িত্ব ছিল তখন তারা দায়িত্ব পালন করতে ব্যর্থ হয়েছে। যখন পাক হানাদার বাহিনী আক্রমণ করেছে, তাদের বেশিরভাগ নেতাই পালিয়ে চলে গেছে এবং মূল নেতা পাকিস্তান সেনাবাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন। এ কথাগুলো বললে তারা খুব ক্ষিপ্ত হয়ে যায়। তাদের ভাল লাগে না। কিন্ত এটাই হলো চিরন্তন সত্য। শহিদ জিয়া নয় মাস যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছেন। শহিদ জিয়া বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণাই করেননি, এরপর যখনই বাংলাদেশের সামনে আরো বড় সংকট উপস্থিত হয়েছে ৭ই নভেম্বর ১৯৭৫ সালে তখন শহিদ জিয়া বাংলাদেশের মানুষের সামনে ত্রাণ কর্তা হিসেবে উপস্থিত হয়েছেন।
আওয়ামীলীগের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আমাদের বর্তমানে যে শাসক গোষ্ঠী যারা জোন করে ক্ষমতা দখল করে বসে আছে, আওয়ামীলীগ সেদিন ১৯৭২ থেকে ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত তারাই কিন্তু ক্ষমতায় ছিল। এবং ওই ৪/৫ বছরের মধ্যে তারা বাংলাদেশে একটা দুশাসনের রাজত্ব প্রতিষ্ঠা করেছিল, এতে বাংলাদেশের মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে গিয়েছিল। তাদের দুর্নীতি এবং অযোগ্যতা এবং দুশাসনের কারণের সেদিন দুর্ভিক্ষ সৃষ্টি হয়েছিল। না খেতে পেয়ে সেদিন লক্ষ লক্ষ মানুষ মারা গিয়েছিল। কাপড় ছিল না, রংপুরের বাসন্তী তার লজ্জা নিবারণের জন্য এক টুকরো জালের টুকরো দিয়ে তার লজ্জা নিবারণ করেছিল। এই হচ্ছে ইতিহাস, এই হচ্ছে সত্য কথা। এই কথা গুলো আজকাল কখনো তারা বলে না। আমাদের ছেলে মেয়েরা কেউ কথা গুলো জানে না। কথা গুলো যদি বলে তাকে আবার জেলের মধ্যে পুড়ে দিবে অথবা সংবিধান বিরোধী বলে মামলা করবে।
অনুষ্ঠান শেষে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের রুহের মাগফেরাত কামনা করে দোয়া মোনাজাতের পর খাবার বিতরণ করা হয়।
গাজীপুর মহানগর বিএনপির সভাপতি মোঃ শওকত হোসেন সরকারের সভাপতিত্বে ও সদও মেট্রো থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মনিরুল ইসলাম মনিরের সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সালাম আজাদ, সহ সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী ছাইয়্যেদুল আলম বাবুল, অধ্যাপক গোলাম হাফিজ, বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা হাসান উদ্দিন সরকার, ডা. মাজহারুল ইসলাম, ড. অ্যাডভোকেট শহিদুজ্জামান, মেহেদী হাসান এলিচ, আব্দুস সালাম শামীম, আনোয়ারা বেগম, মাহবুবুব আলম শুক্কুর, ভিপি জয়নাল আবেদীন তালুকদার, সুরুজ আহমেদ, হুমায়ূন কবির রাজু, মহানগর কৃষকদলের সভাপতি আতাউর রহমান, যুবদলের কেন্দ্রীয় নেতা সাজিদুল ইসলাম, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি শাহাদাৎ হোসেন শাীন, মহানগর যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মাহমুদ হাসান রাজু, মহানগর ছাত্রদলের সভাপতি রোহানুজ্জামান শুক্কুর, মহানগর মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক খাদিজা আক্তার বীনা প্রমুখ।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ