দিল্লিতে তীব্র দর কষাকষি
নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ:
শুক্রবার, জুন ৭, ২০২৪ ১২:৪৮ পূর্বাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ:
শুক্রবার, জুন ৭, ২০২৪ ১২:৪৮ পূর্বাহ্ণ

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
দিল্লিতে তীব্র দরকষাকষি। এনডিএ জোটের মিত্ররা কেন্দ্রীয় সরকারের বড় বড় এবং গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রীর পদ দাবি করছে। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিজেপি তাতে সায় দিতে পারছে না। এর কারণ আছে। গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় মিত্রদের ছেড়ে দিলে কেন্দ্রে বিজেপি’র নিয়ন্ত্রণ দুর্বল হয়ে পড়তে পারে। তাই ভারী ভারী মন্ত্রণালয় ছাড়তে রাজি বলে মনে হচ্ছে না বিজেপিকে। এ নিয়ে মিত্রদের সঙ্গে অন-অফ মাধ্যমে দরদাম চলছে। তাদেরকে ম্যানেজ করে আগামীকাল শনিবার তৃতীয় দফায় প্রধানমন্ত্রীর শপথ নেয়ার কথা ছিল নরেন্দ্র মোদির। কিন্তু এনডিটিভি জানিয়েছে শনিবার শপথ অনুষ্ঠান হচ্ছে না। তা একদিন পিছিয়ে রোববার করা হয়েছে।
এদিন সন্ধ্যায় শপথ নেবেন মোদি। এই শপথ অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট রনিল বিক্রমাসিংহে উপস্থিত থাকা নিশ্চিত করেছেন বলে খবর দিয়েছে এনডিটিভি। শপথ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে দক্ষিণ এশিয়ার কিছু নেতাকে। আমন্ত্রণ পাঠানো হয়েছে নেপালের প্রধানমন্ত্রী পুষ্প কমল দাহাল ওরফে প্রচণ্ড, ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগে এবং মৌরিতানিয়ার প্রধানমন্ত্রী প্রবিন্দ জগন্নাথ’কে। কী কারণে শপথ অনুষ্ঠান পিছিয়ে দেয়া হয়েছে, সে সম্পর্কে জানায়নি এনডিটিভি। তবে ধারণা করা হয়, মন্ত্রণালয় নিয়ে মিত্রদের সঙ্গে ভাগাভাগি নিয়ে যে দরকষাকষি চলছে কারণ তাও হতে পারে। যদি জোটের অন্তত দুটি শরিক দল চন্দ্রবাবু নাইডুর তেলেগু দেশম পার্টি (টিডিপি) এবং বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতিশ কুমারের জনতা দল ইউনাইটেড (জেডিএই) তাদের কাঙ্ক্ষিত মন্ত্রণালয় না পেয়ে বেঁকে বসে, তাহলে বেকায়দায় পড়ে যেতে পারেন মোদি।
অন্যদিকে ওই দুটি দল যদি কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইন্ডিয়া জোটের সঙ্গে গোপন যোগাযোগের মাধ্যমে এনডিএ’র চেয়ে বেশি সুবিধা পান- তাহলে পরিস্থিতি উল্টে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে। এমনিতেই নির্বাচন শুরুর পূর্ব মুহূর্ত পর্যন্ত তারা ছিলেন ইন্ডিয়া জোটের অংশ। নির্বাচনের ঠিক পূর্ব মুহূর্তে তারা যোগ দিয়েছেন এনডিএতে। এখন যখন তারা বুঝতে পেরেছেন- সরকার গঠন করতে হলে তারা উভয় শিবিরের কাছেই গুরুত্বপূর্ণ, ফলে তাদের ডিমান্ড অনেক বেড়ে গেছে। অনলাইন এনডিটিভি লিখেছে, লোকসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার দু’দিন পরে বিজেপি একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারানোর পর কেন্দ্রে পদ পাওয়া নিয়ে দরকষাকষি শুরু করেছে এনডিএ’র মিত্ররা।
সূত্রগুলো বলেছেন, গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় এবং ভূমিকা ছাড় দেয়ার মতো মুডে নেই বিজেপি। তারা একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারিয়েছে। এ জন্য এনডিএ মিত্ররা টাইট ডেডলাইনে এসে দরকষাকষি করছে। শনিবার তৃতীয় মেয়াদে প্রধানমন্ত্রীর শপথ নেয়ার কথা নরেন্দ্র মোদির। কিন্তু সরকার গঠনের জন্য চারটি মিত্রের সমর্থন খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিজেপি’র কাছে। তারা হলো- চন্দ্রবাবু নাইডুর টিডিপি, নীতিশ কুমারের জেডিইউ, একনাথ শিন্ডের শিবসেনা এবং চিরাগ পাসওয়ানের লোক জনশক্তি পার্টি-রাম বিলাস। এ দলগুলো নির্বাচনে যথাক্রমে ১৬, ১২, ৭ ও ৫ আসনে বিজয়ী হয়েছে। তাদের মিলে মোট আসন দাঁড়ায় ৪০। তাদেরকে কিংমেকার হিসেবে আখ্যায়িত করা হচ্ছে। তবে জোটকালীন বর্ষীয়ান নেতা চন্দ্রবাবু নাইডু এবং নীতিশ কুমার তার মধ্যে বেশি গুরুত্ব বহন করছেন। কেন্দ্রীয় সরকারকে সমর্থন দেয়ার বিনিময়ে তারা কেন্দ্রীয় সরকারে অধিক থেকে অধিক দাবি করছেন।
সূত্রমতে, লোকসভার স্পিকার পদ দাবি করেছে টিডিপি। অন্যদিকে জেডিইউ সূত্রগুলো বলেছেন, তারা এনডিএ সরকারের জন্য একটি ‘কমন মিনিমাম প্রোগ্রাম’ দাবি করতে পারে। তারা আশা করে সেই কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য নীতিশ কুমারকে প্রধান করে একটি সমন্বয় কমিটি গঠন করতে হবে। তবে স্পিকারের দায়িত্ব ছাড় দিতে রাজি নয় বিজেপি। তার পরিবর্তে ডেপুটি স্পিকারের পদ প্রস্তাব করা হতে পারে টিডিপিকে। রাজ্যসভায় ডেপুটি চেয়ারম্যানের পদ ধরে রেখেছে জেডিইউ। আরও একটি বড় চ্যালেঞ্জ আছে। ২০১৪ ও ২০১৯ সালের নির্বাচনে নরেন্দ্র মোদি যে সরকার গঠন করেছেন, তাতে মিত্রদের শুধু প্রতীকী প্রতিনিধিত্ব ছিল। কারণ, ওই সময়ে লোকসভায় একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা ছিল বিজেপি’র। কিন্তু এবার তারা তা পায়নি। ফলে প্রতিটি মিত্রকে তাদের প্রাপ্ত আসনের বিপরীতে মন্ত্রণালয় বণ্টন করা লাগতে পারে। নিরাপত্তা বিষয়ক ক্যাবিনেট কমিটির অধীনে আছে চারটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়- প্রতিরক্ষা, অর্থ, স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এই মন্ত্রণালয়গুলো হাতছাড়া করতে রাজি নয় বিজেপি। অবকাঠামোর মতো গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়গুলোরও হাতছাড়া করতে চায় না বিজেপি। এর অধীনে আছে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক অথবা এর কল্যাণ বিষয়ক এজেন্ডা। নির্বাচনী প্রচারের সময় প্রধানমন্ত্রী চারটি গোত্রকে সমর্থন দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল বিজেপি। তারা হলেন- দরিদ্র, নারী, তরুণ ও কৃষক। ফলে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করতে হলে বিজেপিকে এসব সম্পর্কিত মন্ত্রণালয় নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত দশ বছরে নরেন্দ্র মোদি নেতৃত্বাধীন সরকার সড়ক ও মহাসড়ক নির্মাণে প্রশংসা পেয়েছে। নীতিন গড়করির নেতৃত্বে এই মন্ত্রণালয় প্রত্যন্ত এলাকার সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করেছে। এ জন্য কোনো মিত্রের কাছে এই মন্ত্রণালয় হারাতে চায় না বিজেপি। এমনটাই বলেছেন সূত্রগুলো।
আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় হলো রেলওয়ে। জেডিইউ সূত্রগুলো বলেছেন, তারা এই মন্ত্রণালয় পেতে আগ্রহী। আগে এই পদে ছিলেন নীতিশ কুমার। বিজেপি’র ভেতর থেকে বলা হয়েছে, এই খাতে গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার চলমান। কোনো রকম বিঘ্ন ঘটলেই তা বন্ধ হয়ে যেতে পারে। নরেন্দ্র মোদি নেতৃত্বাধীন গত দুটি সরকারের সময় মিত্ররা বেশ কম গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছিলেন। এর মধ্যে আছে খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ এবং ভারী শিল্প। কিন্তু এবার বিজেপি একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় মিত্রদের জন্য কিছু বড় জিনিস ছাড়তে হতে পারে। সূত্রের মতে, জেডিইউকে পঞ্চায়েত, গ্রামীণ উন্নয়নের মতো মন্ত্রণালয় প্রস্তাব করা হতে পারে। টিডিপিকে প্রস্তাব করা হতে পারে বেসামরিক বিমান চলাচল ও স্টিল খাত। অর্থ ও প্রতিরক্ষার মতো মন্ত্রণালয়ে মিত্রদেরকে প্রতিমন্ত্রীর টিকিট ছাড় দিতে পারে বিজেপি। এ ছাড়া তারা ছাড় দিতে পারে পর্যটন, দক্ষতা উন্নয়ন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এবং ভূবিজ্ঞান।
জনতার আওয়াজ/আ আ