জাবিতে আন্দোলনকারীদের মারধর, ছাত্রলীগকে পাল্টা ধাওয়া - জনতার আওয়াজ
  • আজ রাত ১১:৪৪, বৃহস্পতিবার, ১৪ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩১শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৭শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

জাবিতে আন্দোলনকারীদের মারধর, ছাত্রলীগকে পাল্টা ধাওয়া

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: সোমবার, জুলাই ১৫, ২০২৪ ১:৪৮ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: সোমবার, জুলাই ১৫, ২০২৪ ১:৪৮ অপরাহ্ণ

 

জাবি প্রতিনিধি

স্লোগান দেওয়াকে কেন্দ্র করে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪ শিক্ষার্থীকে আটকে হেনস্তা ও ফোন তল্লাশি করায় বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হল ছাত্রলীগের উপর ক্ষুব্ধ হয়ে প্রধান ফটক ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেছেন কোটাবিরোধী সহস্রাধিক শিক্ষার্থী। এসময় আন্দোলনকারীদের উপর চড়াও হন ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা। পরবর্তীতে ছাত্রলীগকে পাল্টা ধাওয়া দেন আন্দোলনকারীরা।

রবিবার (১৪ জুলাই) রাত ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলা এলাকা থেকে ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন’ ব্যানারে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন হলের প্রধান ফটকে অবস্থান নেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। পরবর্তীতে রাত ৩টায় হল থেকে বেরিয়ে স্লোগান দিয়ে আন্দোলনকারীদের উপর চড়াও হন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা।

ঘটনার সূত্রপাত, ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ‘তুমি কে আমি কে?, রাজাকার, রাজাকার’ স্লোগানে উদ্বুদ্ধ হয়ে নিজেদের হলে এমন স্লোগান দেয়ার উদ্দেশ্যে মেসেঞ্জার গ্রুপে প্রস্তাব করেন ৪৯তম ব্যাচের এক শিক্ষার্থী৷ পরে হলের ১২৪ নম্বর কক্ষ থেকে স্লোগান পুরো হলে ছড়িয়ে পড়ে৷ এ সময় শিক্ষার্থীরা সমস্বরে স্লোগান দিতে শুরু করলে পলিটিকাল ব্লক থেকে ৪৮তম ব্যাচের সিনিয়ররা এসে কক্ষের সবাইকে ডেকে হলের ডাইনিংয়ে নিয়ে যান।
এরপর শিক্ষার্থীদের কাছে স্লোগান দেওয়ার কারণ জিজ্ঞেস করা হয়। এ সময় ‘শিবির সন্দেহে’ শিক্ষার্থীদের মোবাইল ফোন তল্লাশি করা হয়৷ এরই মধ্যে হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক নাজমুল হাসান তালুকদারকে ডেকে নিয়ে আসেন ছাত্রলীগ নেতারা৷ পরে হল প্রাধ্যক্ষের উপস্থিতিতে ৪৯তম ব্যাচের শিক্ষার্থীদের ক্ষমা চাইতে বলা হয়। ক্ষমা চাইলে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।

বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা জানান, প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে আমাদের আমাদের সবাইকে রাজাকার বলা হয়েছে। তারই প্রতিক্রিয়ায় আমরা শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি আহ্বান করি। এরমধ্যেই বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হলে কয়েকজন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী স্লোগান দেওয়ায় তাদের আটকে রেখে মোবাইল তল্লাশি করা হয়েছে- এমন খবর পেয়ে আমরা হলের সামনে আসি। এরপর হল প্রভোস্টের কাছে সিসিটিভি ফুটেজ দেখতে চাইলে তিনি ছলচাতুরির আশ্রয় নিয়ে ছাত্রলীগকে উস্কে দেয়। এসময় ছাত্রলীগ আক্রমনাত্মক স্লোগান দিয়ে আমাদের উপর হামলা চালালে আমরা পাল্টা ধাওয়া দিই।

বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন জাবি শাখার সদস্য সচিব মাহফুজ ইসলাম মেঘ বলেন, হলের সিসিটিভি ফুটেজ দেখতে চাইলে হল প্রভোস্ট ছাত্রলীগকে উস্কে দেয়। হামলায় আমাদের বেশ কয়েকজন কর্মী আহত হয়েছে। আমরাও ছাত্রলীগকে প্রতিহত করেছি। যতোক্ষণ পর্যন্ত সিসিটিভি ফুটেজ না দেখানো হবে আমরা এখান থেকে যাব না।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আলিফ মাহমুদ বলেন, যারা কোটা সংস্কারের এই যৌক্তিক আন্দোলনে উপস্থিত ছিলেন তাদেরকে নানানভাবে হেনস্থা করছে ক্ষমতাসীন ছাত্র সংগঠনের নেতা-কর্মীরা। আমরা রবীন্দ্রনাথ হলের ঘটে যাওয়া ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ দেখতে চাই। যারা নির্যাতনে জড়িত তাদেরকে কঠোর শাস্তির আওতায় নিয়ে আসতে হবে। যাতে ভবিষ্যতে কেউ এরকম ধৃষ্টতা দেখাতে না পারে। কোটা সংস্কারের এই যৌক্তিক আন্দোলন ভয়ভীতি দেখিয়ে দমন করা যাবে না।

বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক নাজমুল হাসান তালুকদার বলেন, আজ যে ঘটনা ঘটেছে সেটি অত্যন্ত দুঃখজনক। আমি প্রভোস্টের দায়িত্ব থেকে পদত্যাগ করলাম।’

সার্বিক বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য মো. মোস্তফা ফিরোজ বলেন, আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। এতো রাতে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব না। আগামীকাল প্রশাসনের সকলে মিলে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ