আপনি প্রতিনিয়ত সংবিধান ভঙ্গ করছেন, প্রধানমন্ত্রীকে রিজভী - জনতার আওয়াজ
  • আজ দুপুর ১২:০৭, বৃহস্পতিবার, ১৪ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩১শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৭শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

আপনি প্রতিনিয়ত সংবিধান ভঙ্গ করছেন, প্রধানমন্ত্রীকে রিজভী

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: সোমবার, জুলাই ১৫, ২০২৪ ২:১৪ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: সোমবার, জুলাই ১৫, ২০২৪ ২:১৪ অপরাহ্ণ

 

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্দেশ্যে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ‘আপনি নিজেই আপনার শপথ ভঙ্গ করেছেন, আপনি নিজেই সংবিধান ভঙ্গ করছেন প্রতিনিয়ত। সবচেয়ে বড় যদি অপরাধী হয়, সবচেয়ে বড় যদি আজকে কারাবন্দি হতে হয় সেটা তো আপনাকেই হতে হবে।

সোমবার (১৫ জুলাই) সকালে রাজধানীর মগবাজারে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদলের আহ্বায়ক কারাবন্দি খন্দকার এনামুল হক এনামের বাসায় তার পরিবারের খোঁজখবর নিয়ে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

রিজভী বলেন, ‘আজকে প্রধানমন্ত্রী বলেন আমি ২০১৮ সালে রাগ করে কোটা সিস্টেম বাতিল করেছিলাম। প্রধানমন্ত্রী আপনি যদিও অবৈধ ডামি প্রধানমন্ত্রী কিন্তু আপনি শপথ নিয়েছিলেন না যে অনুরাগ-বিরাগের বশবর্তী হয়ে কোন কাজ করবেন না। আপনি নিজেই আপনার শপথ ভঙ্গ করেছেন আপনি নিজেই সংবিধান ভঙ্গ করছেন প্রতিনিয়ত। সবচেয়ে বড় যদি অপরাধী হয় সবচেয়ে বড় যদি আজকে কারাবন্দি হতে হয় সেটা তো প্রধানমন্ত্রীকেই হতে হবে। প্রতিদিন প্রতিমুহূর্তে তিনি একের পর এক আইন ভঙ্গ করছেন। আপনি রাগের বশবর্তী হয়ে কোটা পদ্ধতি বাতিল করেছেন তো আপনি তো প্রথমেই আপনার শপথ ভঙ্গ করেছেন। আপনি শপথ ভঙ্গকারী প্রধানমন্ত্রী, আপনি আইন ভঙ্গকারী প্রধানমন্ত্রী, আপনি সংবিধান ভঙ্গকারী প্রধানমন্ত্রী।

বিএনপির এই মুখপাত্র বলেন,’আজকে গণতন্ত্রকামী বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, নেতা প্রত্যেকেই এবং দেশের জনগণ বিশ্বাস করে এই সরকার হচ্ছে ডামি সরকার। এই সরকার অবৈধ সরকার। জনগণ যাদেরকে ভোট দেয়নি তারপরেও নিজেরা নিজেদেরকে জোর করে রাষ্ট্রক্ষমতার অধিকারী করেছেন। তারা তো বৈধ প্রতিনিধিত্ব করেন না। সুতরাং তারা তো প্রতিমুহূর্তেই শপথ ভঙ্গ করতে পারেন তাদের কাছে তো শপথ রাখা না রাখা কোন বিষয় না তাদের কাছে ক্ষমতা আঁকড়ে রাখাই সবচেয়ে বড় সেটাই করছে তারা।

রিজভী বলেন,’আজকে এত উত্তাল জল তরঙ্গ তৈরি হয়েছে কোটা সংস্কারের জন্য। কোমলমতি ছাত্ররা রাত বারোটা-একটার সময়ে গেট ভেঙে বের হয়ে প্রধানমন্ত্রী আন্দোলনের পরিপন্থী যৌক্তিক আন্দোলন পরিপন্থী যে কথা বলেছেন লেলিয়ে দিয়েছেন ছাত্রলীগকে তার বিরুদ্ধে তারা প্রতিবাদ করেছে। এদেরকে আপনি বলেছেন রাজাকারের নাতিপুতি। আমি প্রধানমন্ত্রীকে বলবো আপনি ৭১ সালে কি করেছেন? আপনি তো বাংলাদেশেই ছিলেন, ঢাকাতে ছিলেন, আপনার স্বামী ডক্টর ওয়াজেদ সাহেব তিনিও ছিলেন তাকেও তো আপনি মুক্তিযুদ্ধে পাঠান নি স্বামীকে নিয়ে তো বহাল তবিয়তে দেশেই ছিলেন আজকে এই কোমলমতি ছাত্র-ছাত্রীরা যারা লেখাপড়া করছে প্রতিযোগিতায় উত্তীর্ণ হয়ে তাদের চাকরি পাওয়ার যে স্বপ্ন তাদের সেই স্বপ্নকে আপনি হতাশায় নিমজ্জিত করছেন।

প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব বলেন,’ আপনি যে ৫৬% কোটা করেছেন এটা তো আপনি আপনার নিজের উদ্দেশ্য সাধনের জন্য করেছেন ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা যাতে করে এসপি-ডিসি হতে পারে, তারা যাতে ক্যাডার সার্ভিসে চান্স পেতে পারে ক্লাস ওয়ান যে জবগুলো সেখানে তারা যাতে চান্স পেতে পারে। কারণ সত্যিকার অর্থে মেধার প্রতিযোগিতায় তারা পারবে না সেই কারণে আপনি একটা কৌশল নিয়েছেন চাতুর্য নিয়েছেন ৫৬% কোটার মধ্য দিয়ে এরা যাতে চান্স পেতে পারে।

তিনি বলেন, ‘আইন আদালত সবকিছুই তো আপনার হাতের মুঠোয় সবকিছু তো আপনার শাড়ির আঁচলের মধ্যে সুতরাং আদালতের মাধ্যমে আপনি আপনার ইচ্ছা পূরণ করে এখন আপনি সন্ত্রাসীদের লেলিয়ে দিচ্ছেন আইন শৃঙ্খলা বাহিনীকে দিয়ে ধমক দিচ্ছেন পুলিশ কমিশনার হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন এই হুশিয়ারি দিয়ে কোন লাভ হবে না। খন্দকার এনামদের মত যুবকদেরকে বন্দী করে আপনি মনে করছেন কেউ আপনার দিকে আর ধেয়ে আসবে না। ধেয়ে আসার সব পথগুলো বন্ধ করে রেখেছেন কিন্তু প্রধানমন্ত্রী বেহুলার বাসর ঘরেও ছিদ্র থাকে কোথাও না কোথাও ছিদ্র থাকে আর সে দিক দিয়েই গণতন্ত্রকামী মানুষের ঢেউ আপনার সিংহাসন ভাসিয়ে দিবে।

বিএনপির এই নেতা বলেন,’ যতক্ষণ না পর্যন্ত শেখ হাসিনার এই ফ্যাসিবাদী শাসনের পতন না হচ্ছে, যতক্ষণ না পর্যন্ত আমরা গণতন্ত্র ফিরে না নিয়ে আসতে পারছি, যতক্ষণ না পর্যন্ত গণতন্ত্রের মা বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্তি করতে না পারছি, যতক্ষণ না পর্যন্ত দেশ নায়ক তারেক রহমানকে দেশে ফিরে না নিয়ে আসতে পারছি ততক্ষণ পর্যন্ত আমাদেরকে লড়াইয়ে থাকার প্রেরণা জোগাচ্ছে আমাদের নেতাকর্মীদের পরিবারের স্ত্রীরা, মা-বোনরা এটাই আমাদের সবচাইতে বড় পাওয়া না।

তিনি আরও বলেন,’ খন্দকার এনামের সহধর্মিনীর যে মর্মস্পর্শী বক্তব্য এটা আজকে বাংলাদেশের প্রতিটি নির্যাতিত মানুষের গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করা মানুষের পরিবারের কথা প্রতিধ্বনিত হয়েছে তার কথার মধ্য দিয়ে। তার কথাগুলো মনোযোগ দিয়ে শুনছিলাম আমার হৃদয়ের মধ্যে একটা আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। আমরা যারা গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করছি আমাদের ঠিকানা করে দেয়া হয়েছে কারাগার যার কারনে পরিবারগুলো বেশি সাফার করছে। এত নিপীড়ন নির্যাতন করার পরেও খন্দকার এনামের সহধর্মিনীর মুখ থেকে তার স্বামীর আন্দোলন সংগ্রাম নিয়ে তার যে গর্ব সৃষ্টি হয়েছে এটা সারাদেশের নেতাকর্মীদেরকে অনুপ্রাণিত করবে। সে আজকে সাফার করছে কিন্তু তারপরও সে বিন্দুমাত্র টলেনি তার স্বামীর আদর্শ থেকে। এটা আজকে আমাদেরকে সবচেয়ে বড় সাহস যোগায়।

এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন বিএনপি’র স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা: রফিকুল ইসলাম, সহ অর্থনৈতিক বিষয়ক সম্পাদক মাহমুদুর রহমান সুমন, সাবেক ছাত্রনেতা জয়দেব, যুবদলের সাবেক সাহিত্য প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক মেহবুব মাসুম শান্ত, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা আরিফুর রহমান তুষার, ছাত্রদলের সহ-সভাপতি ডা:তৌহিদুর রহমান আউয়াল প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ