২৪ ঘণ্টার মধ্যে সংসদ ভেঙে দেওয়ার আহ্বান বিএনপির - জনতার আওয়াজ
  • আজ রাত ১:২৯, শুক্রবার, ১৫ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১লা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৮শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

২৪ ঘণ্টার মধ্যে সংসদ ভেঙে দেওয়ার আহ্বান বিএনপির

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: মঙ্গলবার, আগস্ট ৬, ২০২৪ ৩:০৯ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: মঙ্গলবার, আগস্ট ৬, ২০২৪ ৩:০৯ অপরাহ্ণ

 

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
অবিলম্বে সংসদ ভেঙে দিয়ে অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের জন্য রাষ্ট্রপতির প্রতি আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। মঙ্গলবার (৬ আগস্ট) গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়েলে এ আহ্বান জানান দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তিনি বলেন, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নির্দলীয় সরকার গঠনের কাজ সমাধান করতে হবে। রাষ্ট্রপতির কাছে আহ্বান জানাচ্ছি, কালবিলম্ব না করে আপনি আজকের মধ্যে…. ২৪ ঘণ্টা প্রায় হয়ে যাচ্ছে… ২ টার মধ্যে দয়া করে অবিলম্বে এই সংসদ ভেঙে দিয়ে অন্তবর্তীকালীন নিরপেক্ষ সরকার গঠন করুন। অন্যথায় দেশে আবার রাজনৈতিক শূণ্যতা দেখা দিতে পারে।

বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনকারী ছাত্ররা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে অন্তবর্তীকালীন সরকার হিসেবে চান, আপনারা সমর্থন করেন কিনা জানতে চাইলে মির্জা ফখরুল বলেন, এখানে আমাদের সমর্থন করার ব্যাপার না। এটা হচ্ছে যে, যখনই প্রেসিডেন্ট আমাদের কাছে প্রস্তাব দেবেন অন্তবর্তীকালীন সরকারের নামের জন্য আমরা সেই সময়ে রাষ্ট্রপতির কাছে নাম দেবো।

‘এখানে এখন কনস্টিটিউশনাল হেড অব স্টেট প্রেসিডেন্ট… উনি হচ্ছে রাষ্ট্রের প্রধান তারই একমাত্র এখতিয়ার আছে এই ধরনের ব্যবস্থাগুলো নেয়ার জন্য। সুতরাং যখন রাষ্ট্রপতি আমাদেরকে ডাকবেন তখনই আমরা নামের প্রস্তাব দেবো। তবে একটা কথা বলে দেই, ছাত্রদের প্রতি আমাদের সম্পূর্ণ আস্থা আছে… তাদের আন্দোলনের প্রতি একাত্মবোধ করেছি, তাদের সঙ্গে একাত্মবোধ করছি। এখানে বলব, সর্বদলীয় ব্যাপারটা গুরুত্ব দেয়া উচিত।’

সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে গণঅভ্যুত্থানে স্বৈরশাসকের পতনের প্রসঙ্গ টেনে বিএনপি মহাসচিব বলেন, আমি আজকে আপনাদের শুভেচ্ছা জানাচ্ছি ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশে। শুভেচ্ছা জানাচ্ছি একটি গণতান্ত্রিক দেশের প্রত্যশায় এবং একইসঙ্গে আপনাদের ধন্যবাদ জানাতে চাই, শত প্রতিকূলতা সত্ত্বেও আপনারা এই গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠাতার জন্য কাজ করেছেন।

‘তবে দুঃখ প্রকাশ করছি এই বিজয়ের পরে কিছু সংখ্যক দুস্কৃতিকারী কয়েকটি টিভি সেন্টারে অগ্নিসংযোগ করেছে, ভাংচুর করেছে। এটা মুক্ত স্বাধীনতা ও স্বাধীন গণমাধ্যমের বিরুদ্ধে। আমরা সবসময় ফ্রিডম অব প্রেসে বিশ্বাস করি, আমরা বিশ্বাস করি ব্যক্তি, মানুষ, সংগঠন বিশেষ করে সাংবাদিকরা তাদের মত স্বাধীনভাবে প্রকাশ করবেন। সেই বিশ্বাসে মনে করি যে, যারা এই সমস্ত কর্মকাণ্ডে লিপ্ত থেকেছেন তারা এসব থেকে বিরত থাকবেন এবং সংবাদপত্রের যে মুক্ত ধারা তা অব্যাহত রাখবেন।’

শিক্ষার্থীদের প্রতি স্যালুট জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা গভীরভাবে শ্রদ্ধা জানাতে চাই যে সমস্ত শহীদদের যারা ছাত্র ও জনতা, যারা দীর্ঘ ১৬ বছর গণতান্ত্রিক সংগ্রামে প্রাণ দিয়েছেন। অভিবাদ ও স্যালুট জানাতে চাই আমাদের ছাত্রদের, আমাদের সন্তানদের, যারা তাদের মেধা বুদ্ধিমত্ত্বা ও সাহস নিয়ে এই ফ্যাসিবাদী সরকারের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে বুকে রক্ত দিয়েছে। ছাত্র-জনতা বিজয় অর্জন করেছেন আমরা তাদের স্যালুট জানাই।

এই সংগ্রামে জড়িত সকল রাজনৈতিক দল, ব্যক্তি, পেশাজীবীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, এই বিজয় অর্জন করা হয়েছে। কিন্তু প্রতিটি স্বাধীনতা প্রিয় মানুষের আরও বড় দায়িত্ব এ স্বাধীনতাকে সুসংহত করা। স্বাধীনতা তখনই সুসংহত হবে যখন আমরা প্রতিটি গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারব, তাদের প্রাতিষ্ঠানিক রুপ দিতে পারব। আর সেজন্য প্রয়োজন ধৈর্য, সংযম এবং পরমতসহিষ্ণুতার জন্য নিজেকে তৈরি করা।

দেশবাসীর প্রতি বার্তা জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, এখন এরোগেন্টস, রেজিয়েন্সের কোনো স্থান নেই। স্থান নেই কোনো প্রতিহিংসা, কোনো প্রতিশোধ গ্রহণের।এখন যেটা প্রয়োজন ধৈর্যের সঙ্গে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে পরিস্থিতি মোকাবেলা করে এই অর্জিত স্বাধীনতাকে সুসংহত করা।

তিনি বলেন, এখনো যারা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে প্রতিশোধমূলকভাবে অগ্নিসংযোগ করছেন, লুটপাট করছেন, বাড়িঘরে হামলা করছেন…. দয়া করে এটা এই মুহূর্ত থেকে বন্ধ করুন। যারা এটা করছেন তারা কেউ আন্দোলনের লোক নয়, তারা আন্দোলনের বিরোধিতা করেছে তাদের লোকেরা এসব করছে। এ বিষয়গুলো সবার মনে রাখতে হবে। আমি আপনাদের মাধ্যমে দেশবাসীর কাছে অনুরোধ জানাচ্ছি এবং আমার দলের নেতাকর্মীদেরকে অনুরোধ করব, তারা অত্যন্ত দৃঢ়তার সঙ্গে এদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলে একটা ঠান্ডা অবস্থা ফিরিয়ে আনতে ব্যবস্থা করতে হবে।

শেখ হাসিনার মন্ত্রিসভা আর নেই উল্লেখ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, যেহেতু শেখ হাসিনার পদত্যাগ করে পালিয়ে গেছে, সেহেতু তার কেবিনেট পুরোপুরিভাবে বিলুপ্ত হয়ে গেছে। এই সংসদ বিনাভোটের সংসদ। এর কোনো কার্যকারিতা নেই। সেজন্য এটাকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ভেঙে দিতে হবে। এরপর অন্তর্বতীকালীন বলেন, নিরপেক্ষ সরকার বলেন, তা গঠন করা হবে তারা তিন মাসের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠান করবে।

বেগম জিয়ার বার্তা জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, ম্যাডাম সবাইকে প্রথম যে বলেছেন, সবাই শান্ত হতে বলো। এখানে এমন কোনো পরিস্থিতি তৈরি যেন না হয় যাতে অর্জিত বিজয় ছিনিয়ে নিয়ে যায় কেউ। জনগণকে সর্তক থাকতে বলেছেন, এই বিজয় যেন কেউ ছিনিয়ে নিতে না পারে।

তারেক রহমান কবে ফিরবেন জানিয়ে তিনি বলেন, তিনি যখনই মনে করবেন দেশে ফিরবেন। আমরা ইতোমধ্যেই অনুরোধ জানিয়েছি যে, দ্রুত চলে আসেন। সেই ব্যবস্থা হবে ইনশাল্লাহ। গতকাল রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন আন্দোলনে হতাহতদের পর্যাপ্ত ক্ষতিপুরনের অঙ্গীকার করেছেন বলে জানান বিএনপি মহাসচিব।

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, জমির উদ্দিন সরকার, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায় ও সেলিমা রহমান উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ের দোতলায় একটি কক্ষে দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠক হয়। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান লন্ডন থেকে স্কাইপের মাধ্য্যমে এই বৈঠকে সভাপতিত্বে করেন। বৈঠকে স্বশরীরে মহাসচিবসহ পাঁচজন সদস্য ছিলেন। বিদেশে অবস্থান করা আবদুল মঈন খান, সালাউদ্দিন আহমেদ ও ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু ভার্চুয়ালি যুক্ত হন।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ