এখন আমাদের লড়াইয়ের নতুন পর্যায় শুরু: মান্না - জনতার আওয়াজ
  • আজ রাত ৩:১১, শুক্রবার, ১৫ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১লা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৮শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

এখন আমাদের লড়াইয়ের নতুন পর্যায় শুরু: মান্না

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: বৃহস্পতিবার, আগস্ট ৮, ২০২৪ ৭:১১ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: বৃহস্পতিবার, আগস্ট ৮, ২০২৪ ৭:১১ অপরাহ্ণ

 

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না বলেছেন, আমরা আমাদের লড়াইয়ের একটা পর্যায় অতিক্রম করেছি। ১৫ বছর লড়াই করে আমরা স্বৈরাচারকে উৎখাত করেছি। এখন আমাদের লড়াইয়ের নতুন পর্যায় শুরু।

বৃহস্পতিবার (৮ আগস্ট) জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে ভাসানী অনুসারী পরিষদ আয়োজিত’দেশে চলমান হামলা, ভাংচুর, লুটপাট, সহিংসতা ও অগ্নি সংযোগের মত নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি মোকাবেলায় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দসহ ছাত্র-জনতাকে ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিরোধ করার আহ্বানে’ অনুষ্ঠিত সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, আমরা আমাদের লড়াইয়ের একটা পর্যায় অতিক্রম করেছি। ১৫ বছর লড়াই করে আমরা স্বৈরাচারকে উৎখাত করেছি। এখন আমাদের লড়াইয়ের নতুন পর্যায় শুরু। যেই স্বপ্ন বুকে নিয়ে এরা (শিক্ষার্থী-জনতা) জীবন দিয়েছেন, আপনারা লড়াই করেছেন সেই স্বপ্ন এখন বাস্তবায়িত করবার ব্যাপার। কী রকম করে হবে? যারা লড়াই করেছেন তাদের চোখে কী স্বপ্ন ছিলো সেই স্বপ্নের কথা ভাবেন। তারা ভেবেছেন আমরা একটা সুন্দর সমৃদ্ধ দেশ গড়বো। যেখানে মানবতার মূল্য থাকবে, মানুষের সম্মান থাকবে, জীবনের মূল্য থাকবে, কোনো অন্যায়ভাবে গুলি চালিয়ে হত্যা করা হবে না, সুবিচার থাকবে, মানুষের গণতান্ত্রিক এবং ভোটের অধিকার থাকবে। অবশ্যই ওদের অধিকারের জন্যই আমাদের লড়াই শুরু হয়েছিল। কিন্তু ওই লড়াই আজ বৈষম্যের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে পর্যবসিত হয়েছে। সেই লড়াই এখন সাম্য প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এবং সেই লড়াই আমাদেরকে করতে হবে।

সমাবেশে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উদ্দশ্যে মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, দেশের প্রধান সেনাপতি বলেছেন আজকে রাত ৮টায় নতুন সরকার শপথ নেবেন। আমরা সেটা দেখার জন্য অপেক্ষা করছি। আমি তাদের উদ্দেশ্যে বলতে চাই যারা দায়িত্ব পেলেন তাদের বুঝতে হবে তারা যদি এই কাজে কোন ভুল করেন, তাহলে বাংলাদেশের ইতিহাসের জন্য ক্ষতি হবে। কারা আসছেন জানি না, একজনের কথা জানি ড. মুহাম্মদ ইউনুস। সারা বিশ্বব্যাপী সন্মানিত, খ্যাতিসম্পন্ন; তার অনেক যোগ্যতা আছে, সাফল্য আছে। আমরা আশা করি, তিনি যদি সবার সহযোগিতা নিয়ে এই পরিস্থিতির মোকাবেলা করেন সেটা মোকাবেলা করা সম্ভব। আমি নতুন যে সরকার হবে তাদেরকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বলতে চাই, আপনাদের উপরই নির্ভর করছে সেই সিঁড়ি তৈরি করবার দায়িত্ব, যেই সিঁড়ির উপরে পা দিয়ে এই দেশের জনগণ একটা সুন্দর বাংলাদেশ গড়বে, নতুন বাংলাদেশ গড়বে, একটা সুস্থ নির্বাচন করবে। এই দায়িত্বে যদি আপনাদের কখনো মনে হয় আপনারা বুঝতে পারছেনা না বা পরামর্শ দরকার, সহযোগিতা দরকার; আমরা সবাই বলেছি আমরা আপনাদের সহযোগিতা করতে রাজি আছি। এটা বুঝে আপনারা নিজেদের কাজ করবেন এবং একসাথেই আমরা সেই আগামীর স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়ব। যে বাংলাদেশ গড়তে আবু সাইদসহ শত শত মানুষ জীবন দিয়েছে।

ডাকসুর সাবেক এই ভিপি বলেন, আমরা ভোট চাই, যেহেতু আমরা গণতন্ত্র চাই। আমরা বলতে চাই ভোটটা ভোটের মতো হতে হবে। সেজন্য পুরো দেশকে পুরো প্রশাসনকে সেভাবে সাজানো হোক। যাতে জনগণ তার ইচ্ছা মতো ভোট দিতে পারে। এতে কতদিন সময় লাগবে জানি না। কোন তিনমাসের কাহিনী নাই এখন। কাহিনী একটাই, এজেন্ডা একটাই সেটা হচ্ছে আমরা নতুন বাংলাদেশ গড়তে চাই। এই নতুন বাংলাদেশ গড়তে যা করা দরকার তাই করা হবে।

তিনি বলেন, আমাদের দলের সাধারণ সম্পাদক শহিদুল্লাহ কায়সার বলেছেন আশকোনাতে তিনি কাল সারা রাত ঘুমাতে পারেননি। কারণ ডাকাতরা হামলা করেছে। মোহাম্মদপুর থেকে অনেকে ফোন করেছে কালকে। সকালে মিরপুর থেকে ফোন করেছে, সারা রাতভর ডাকাতি হয়েছে। এই ডাকাতিগুলো করলো কারা? বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ নিয়ে দেখেন, আওয়ামী লীগের লোকেরা যে অত্যাচার নির্যাতন করেছে এতদিন তার প্রতিশোধ নিতে গিয়ে এখন দখলদারিত্ব শুরু হয়েছে। আমরা বলেছি আমরা দখলদারিত্ব ভাঙবো, জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা করব। কিন্তু তার মানে আওয়ামী লীগের দোকান ভেঙে আরেক দল বা দলের নেতা সেই দোকান দখল করবে এই জন্য তো আমরা লড়াই করি নাই। এটা চলবে না। খুব স্পষ্ট কণ্ঠে বলতে চাই সমগ্র মানুষ লড়াই করে যে দেশ নতুন করে মুক্ত করেছে, সেই দেশ ওদের আকাঙ্খা অনুযায়ী গড়ে তুলতে হবে। কোন দলের আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী নয়, কোন নেতার আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী নয়, কোন ব্যক্তির আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী নয়; সমগ্র জনতার আকাঙ্ক্ষার ভিত্তিতে এই দেশ গড়তেই আমরা বলছি, আমরা গণতন্ত্রের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে চাই। এবং গণতন্ত্রের প্রতিষ্ঠা করতেই নির্বাচন হতে হবে।

তিনি আরও বলেন, জনগণের রক্ত নিয়ে যারা খেলেছেন তারা কোনদিন মাফ পাবেন না। জনগণের সম্পত্তি যারা দখল করেছেন, তারা কেউ মাফ পাবেন না। যারা জনগণের ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়েছেন, তারা মাফ পাবেন না সেটা ব্যক্তি হোক, নেতা হোক, দল হোক।

এসময় সমাবেশে ভাসানী অনুসারী পরিষদের আহবায়ক শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু নিজ দলের পক্ষ থেকে ৭ দফা দাবি তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন। তার সভাপতিত্বে এসময় সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন জাতীয় পার্টি (কাজী জাফর) চেয়ারম্যান মোস্তফা জামাল হায়দার, নাগরিক ঐক্যের সাধারণ সম্পাদক শহিদুল্লাহ কায়সার প্রমুখ।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ