শেখ হাসিনা-শেখ রেহানাসহ ৫৯ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা
নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ:
মঙ্গলবার, আগস্ট ২০, ২০২৪ ৭:২২ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ:
মঙ্গলবার, আগস্ট ২০, ২০২৪ ৭:২২ অপরাহ্ণ

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
মোহাম্মদপুরে ৪ আগস্ট পুলিশ, ছাত্রলীগ ও যুবলীগের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষের সময় গুলিতে নিহত ১৬ বছরের শিশু ওমর ফারুক হত্যার ঘটনায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, শেখ রেহানা ও ওবায়দুল কাদেরসহ ৫৯ জনকে আসামি করে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি হত্যা মামলা হয়েছে। নাম উল্লেখ করা আসামিদের মধ্যে পুলিশ কর্মকর্তারাও আছেন। এছাড়া অজ্ঞাতনামা হিসেবে ১০০ থেকে ২০০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
নিহত ওরম ফারুকের বাবা মিলন ফারাজি বাদী হয়ে মঙ্গলবার দুপুরে মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রাজেশ চৌধুরীর আদালতে এ মামলাটি করেন।
মঙ্গলবার (২০ আগস্ট) শুনানি শেষে আদালত মামলাটি গ্রহণ করে তদন্তের জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) নির্দেশনা দিয়েছেন। আগামী ৩০ দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য বলা হয়েছে বলে জানিয়েছেন আদালতের পেশকার হোসেন।
মামলায় বাদী পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ইমরুল হাসান মানবজমিনকে বলেন, আজকে আমরা আদালতে সরাসরি এজহার চেয়েছিলাম। কিন্তু আদালত পিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। এতে আমরা অবাক হয়েছে। এই সময়েও আদালত পুলিশের উপর ভরসা রাখছে। এটা নজিরবিহীন। আমার বাদি থানায় গিয়েছিলো, কিন্তু সেখানে মামলা নেয়নি। এখন পুলিশের কাছে তদন্ত দেয়ায় প্রকৃত আসামিদের পার পেয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
তবুও আমরা ন্যায় বিচার চাই। হত্যাকারীদের ফাঁসি চাই।
মামলার আসামীরা হলেন- ক্রমানুসারে
শেখ হাসিনা, শেখ রেহানা, ওবায়দুর কাদের, মোহাম্মদ এ আরাফাত, জাহাঙ্গীর কবির নানন, আসাদুজ্জামান খান কামাল, মাসুদুর রহমান বিপ্লব, আসিফ আহমেদ, তারেকুজ্জামান রাজিব, মো. মিলন হোসেন, মো. মাহবুব আলম, হাসানুল হক ইনু, রাশেদ খান মেনন, শেখ বজলুর রহমান, আনিসুল হক, রিয়াজ মাহমুদ, সাদেক খান, ফাহিম খান, সৈয়দ নূর ইসলাম, শেখ মোহাম্মদ খোকন, সলিমুল্লাহ সলু, এম এ সাত্তার, তোফায়েল সিদ্দীকি তুহিন, আলম হোসেন, নজরুল ইসলাম, ফরহাদ সরকার, পীযূষ বাবু, মামুন ওরফে ময়লা মামুন, মাসুদ ওরফে কালা মাসুদ, দেলোয়ার, বশির মোল্লা, সীমা বেগম, কলিম জাম্বু, সালাউদ্দিন শামীম, আরিফুর রহমান তুহিন, তানিম উদ্দিন পাটোয়ারি, শাহরুখ জাহান পাপ্পু, হাসানুজ্জামান হিটু, আলমগীর হোসেন, সারোয়ার খালিদ, নাইমুল হাসান, সাজ্জাদ, মারুফ হাসান বিপ্লব, চুয়া সেলিম, রায়হান, আবু সায়েম শাহীন, আবুল হোসেন, নূর নবী, মতিউর রহমান, সেন্টু, জাবেদ কসাই, সাবেক ডিসি আজিমুল হক, খায়রুল হক, কাইল্লা স্বপন, রোমেল, রনি, আয়াত, আলিম আল রাজি সুমন, ডা. সাদিকুর রহমান রাছিম।
এজহারে বলা হয়েছে, গত ৪ আগস্ট বিকেলে নিহত ওমর ফারুক মুদি দোকান থেকে ফেরার পথে মোহাম্মাদপুর থানার আল্লাহ করিম কালভার্ট ফুটওভারব্রীজে আসলে ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও আন্দোলনকারীদের মাঝখানে পড়ে যায়। সেখানে আন্দোলনকারীদের দিকে কয়েকজন আসামি বিভিন্ন ধরনের বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে গুলি করলে আন্দোলনকারীরা দৌড়ে পালিয়ে যায়। সবার দৌড় দেখে এবং গুলির ভয়ে ওমর ফারুক পালানোর চেষ্টাকালে রাস্তায় পড়ে যায়। পরে কাউন্সিলর আসিফ আহমেদ দৌড়ে এসে তাকে গুলি করেন। এবং কয়েকজন আসামিগণ গণপিটুনি দেয়। এতে গুরুতর আহত অবস্থায় পড়ে থাকার পরেও আসিফ আহমেদ দৌড়ে এসে নিহত ওমর ফারুকের বুকের উপর পাড়া দিয়ে মাথায় গুলি করেন। পরে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালের নেয়ার পথেই ওমর ফারুক মারা যান।
জনতার আওয়াজ/আ আ