শর্ষের মধ্যে ভূত : সালাহউদ্দিন আহমেদ - জনতার আওয়াজ
  • আজ দুপুর ১২:০৩, বৃহস্পতিবার, ১৪ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩১শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৭শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

শর্ষের মধ্যে ভূত : সালাহউদ্দিন আহমেদ

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: শুক্রবার, আগস্ট ৩০, ২০২৪ ১১:৪১ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: শুক্রবার, আগস্ট ৩০, ২০২৪ ১১:৪১ অপরাহ্ণ

 

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ক্ষমতা দীর্ঘায়িত করার জন্য যারা কাজ করেছিল তারা এখনো রাষ্ট্রের বিভিন্ন জায়গায় আছে। আমি বলতে চাই শর্ষের মধ্যে ভূত রেখে এই অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কোনো কিছু অর্জন করতে পারবে না।

শুক্রবার (৩০ আগস্ট) বিকালে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আন্তর্জাতিক গুম দিবস উপলক্ষে গুমের শিকার ব্যক্তিদের স্মরণে এক সংহতি সভায় তিনি এ কথা বলেন। এতে বিএনপিসহ অঙ্গ সংগঠনের গুম হওয়া পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

তিনি বলেন, আয়না ঘরের প্রধান খলনায়ক ছিল বেনজীর (বেনজীর আহমেদ) ও জিয়াউল হাসান। একজন চাকরিচ্যুত হয়েছে, গ্রেপ্তার হয়েছে। ‘জিয়াউল হাসানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এখন এমনভাবে তাকে ইন্টারোগেশন করা হোক আগামী ২/৩ দিনের মধ্যে তার নেতৃত্বে বাংলাদেশে যত গুম-খুন-অপহরণ হয়েছে সেসব যেন সে বলতে বাধ্য হয়। অন্যথায় জেনে রাখবেন, ছাত্র-জনতা এখনো আন্দোলনে আছে। তাদের নিয়ে যথাযথ ইন্টারোগেশন করা হবে।’

তিনি আরও বলেন, জিয়াউল হাসানকে কোনো ইন্টারোগেশন করা হচ্ছে না। তখন কর্নেল ছিল, এখন মনে হয় তাকে মেজর জেনারেল পদে পদোন্নতি দিয়ে রিটায়ার করে তারপর তাকে গ্রেপ্তার করে নাটক সাজানো হয়েছে। ডিবিতে নিয়ে গেছে ইন্টারোগেশনের জন্য।

তিনি বলেন, কেউ কি দেখেছেন জিয়াউল হাসান আজ পর্যন্ত কারও গুমে তার ভূমিকার কথা স্বীকার করেছেন। করেননি। কারণ জিয়াউল হাসানের পেছনে যারা ফ্যাসিবাদকে রক্ষা করার জন্য, হাসিনাকে রক্ষা করার জন্য, ক্ষমতা দীর্ঘায়িত করার জন্য কাজ করেছিল তারা এখনো রাষ্ট্রের বিভিন্ন জায়গায় আছে। আমি বলতে চাই শর্ষের মধ্যে ভূত রেখে এই অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কোনো কিছু অর্জন করতে পারবে না।

তিনি আরও বলেন, ‘বেনজীর এই গুম-খুনের জন্য একজন মহাখলনায়ক। হাসিনার দুঃশাসন টিকিয়ে রাখার জন্য যার ভূমিকা ছিল অপরিসীম। সে এখন কোথায়? তাকে খুঁজে বের করতে হবে। সে পৃথিবীর যেখানেই থাকুক, সেখান থেকে টেনেহিঁচড়ে নিয়ে এসে আমাদের কাছে সোপর্দ করতে হবে। বাংলাদেশে তার ন্যায়বিচার করতে হবে। ডিবি হারুন (হারুন অর রশিদ), মনিরুল ইসলাম কোথায়? চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন কোথায়? তাদের গ্রেপ্তার করে তদন্ত করতে হবে, বিচার করতে হবে। এটা শত শহীদের রক্তের অঙ্গীকার।’

তিনি বলেন, ‘শেখ হাসিনা দিল্লি গিয়ে পালিয়ে আছেন। আমি দাবি করছি, দিল্লি সরকার তাকে ফেরত দেন। যদি ফেরত না আনা হয় তাহলে আন্তর্জাতিক আদালতে তার বিচার করা হবে।’

তিনি বলেন, সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ (আজিজ আহমেদ) বাংলাদেশে বহু গুম-খুনের নায়ক। তাকে গ্রেপ্তার করতে হবে। গুমের পর ৬১ দিন ‘আয়না ঘরে’ বন্দিত্বে নির্মম অত্যাচারের বিভীষিকাময় দিনগুলোর কথাও তুলে ধরেন সাবেক প্রতিমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘আমি এটা বলি একটা প্রকল্প, গুম-হত্যার প্রকল্প। শেখ হাসিনা ক্ষমতায় থাকার জন্য একটা সার্বিক প্রকল্প করেছিলে। গুম তার একটি অন্যতম প্রকল্প ছিল। অর্থাৎ গুমের মাধ্যমে ভয়-ভীতি সঞ্চার করে সাধারণ মানুষ যাতে তার (শেখ হাসিনা) স্বৈরশাসনের বিরোধিতা করতে না পারে সেজন্য এ প্রকল্প নিয়েছিল।’

তিনি বলেন, ‘এই প্রকল্পের মূল উদ্যোক্তা, মূল নায়ক শেখ হাসিনা। এই প্রকল্পের যারা নেতৃত্বে দিয়েছেন তাদের স্বরূপ উদঘাটন করতে হবে, এই প্রকল্পে যারা সহায়তা দিয়েছে সে সত্য উদঘাটন করতে হবে, এই প্রকল্পে যারা সহযোগিতা করেছে সে সত্য উদঘাটন করতে হবে। এ প্রকল্পে যারা জেনেশুনে চোখ বন্ধ করেছিল, যে জেনে না জানার ভান করেছিল, যে দেখে না দেখার ভান করেছিল তাদেরও সামনে আনতে হবে। মোট কথা, এ প্রকল্পের সার্বিক সত্যতা জনসমক্ষে আনতে হবে।’

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ