ষড়যন্ত্র করে গণতন্ত্রকে নস্যাৎ করা যাবে না : রুহুল আমিন গাজী - জনতার আওয়াজ
  • আজ রাত ১:৩৯, শুক্রবার, ১৫ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১লা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৮শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

ষড়যন্ত্র করে গণতন্ত্রকে নস্যাৎ করা যাবে না : রুহুল আমিন গাজী

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: সোমবার, সেপ্টেম্বর ২, ২০২৪ ১২:৪৭ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: সোমবার, সেপ্টেম্বর ২, ২০২৪ ১২:৪৭ অপরাহ্ণ

 

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
ষড়যন্ত্র করে গণতন্ত্রকে নস্যাৎ করতে পারবেন না বলে সদ্য বিদায়ী প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনাকে উদ্দেশ্য করে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে)’র সভাপতি রুহুল আমিন গাজী।

তিনি বলেন, ষড়যন্ত্র করে গণতন্ত্রকে নস্যাৎ করতে পারবেন না। ষড়যন্ত্র করে মানবিক মূল্যবোধকে নষ্ট করতে পারবেন না। ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মধ্য দিয়ে যে নতুন বাংলাদেশ গঠিত হয়েছে। সে বাংলাদেশকে কলুষিত করার ক্ষমতা আপনার নেই। সুতরাং সমস্ত ষড়যন্ত্র থেকে বেরিয়ে আসুন। সোজা পথে চলেন, আমরা আপনাদের সাথে চলতে চাই। যদি সোজা পথে না চলেন তাহলে দায়-দায়িত্ব আপনাদেরকে বহন করতে হবে, আমরা করবো না।

শনিবার (৩১ আগষ্ট) জাতীয় প্রেসক্লাবের চত্বরে ‘গণমাধ্যমের স্বাধীনতা বিরোধী সকল আইন-কানুন বাতিল, সাগর- রুনিসহ সকল সাংবাদিকদের হত্যার বিচার ও সাংবাদিক সুরক্ষা আইন প্রণয়নের দাবিতে আয়োজিত এক সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। সমাবেশটির আয়োজন করে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে)।

রুহুল আমিন গাজী বলেন, ফ্যাসিবাদ পতনের পর কোনো দাবি-দাওয়ার জন্য রাজপথে নামতে হবে না। তবে দুঃখের বিষয় হচ্ছে সাগর-রুনি হত্যাকান্ডের বিচার চাইতে আমাদের রাজপথে নামতে হচ্ছে। সাগর-রুনির হত্যার বিচার চাইতে হবে কেন। এটা নিয়ে এত তালবাহানা কেন। কেন আপনারা একটি তদন্ত কমিটি গঠন করলেন না। কেন কোন পুলিশের ইনকোয়ারি করেন নাই, তা আমার কাছে বোধগম্য নয়।

বিএফইউজের এই সভাপতি বলেন, আমাদের আন্দোলনকে আরো তীব্র থেকে তীব্রতর করতে হবে। সাংবাদিকদের সমস্ত প্রতিষ্ঠানে সাংবাদিকদেরকে নিয়োগ দিতে হবে। সাংবাদিকদের প্রতিষ্ঠানে কোন ভাড়া করার নিয়োগ আমরা মানবো না।

রুহুল আমিন গাজী বলেন, কিছু সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করছে। আমরা এটা ঘৃণা ও প্রত্যাখ্যান করি। হত্যা মামলার দায়ের করতে হলে আপনাকে নিশ্চিত হতে হবে। শুধু শুধু একজনের নামে হত্যা মামলা দায়ের করা আমরা ঠিক মনে করছি না। যার যতটুকু অপরাধ তার শুধু সেটুকুই শাস্তি হওয়া উচিত। কিন্তু হত্যা মামলার মত মামলা দায়ের করতে হলে আপনাকে যথাযথ প্রমাণ উপস্থাপন করে মামলা করতে হবে।

বিএফইউজে’র মহাসচিব কাদের গণি চৌধুরী বলেন, সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনির হত্যার ১২ বছর হয়ে গেছে। কিন্ত আমরা কোন বিচার পাইনি। যেহেতু ফ্যাসিবাদ থেকে মুক্তি হয়েছে। তাই বর্তমান সরকারকে বলতে চাই অবিলম্বে সাগর-রুনির হত্যাকান্ডের বিচার করতে হবে। কারণ এই হত্যাকান্ডে ফ্যাসিবাদ সরকার জড়িত। পাশাপাশি সাংবাদিকদের কন্ঠ বন্ধ করার জন্য যত কালা-কানুন আছে, তা সব বাতিল করতে হবে। আমরা যেমন সাংবাদিক সুরক্ষা আইন চাই, ঠিক একইভাবে আর কোন রাজনৈতিক দলের কর্মসূচিতে যেন কোন সাংবাদিক আহত না হয় সেটাও চাই।

ত্যাগী সাংবাদিকদের নামে মিথ্যা খবর ছড়িয়ে সাংবাদিক সামাজকে কলুষিত করা হচ্ছে উল্লেখ করে বিএফইউজে’র এই মহাসচিব বলেন, ফ্যাসিবাদের পতনের আগেও রাস্তায় থেকে গুলির সামনে দাঁড়িয়ে আমরা সমাবেশ করেছি। তখন বলেছিলাম, ছাত্রদের উপর গুলি বন্ধ কর, নাহয় আমাদের উপর গুলি কর। কোনোদিন সাংবাদিকতা করতে গিয়ে, কারো অফিসে এক কাপ চা ও খাইনি। শুধুমাত্রই সাংবাদিকতা করেছি, সত্যের পেছনে ছুটেছি। রাজনৈতিক দলের প্রতি সমর্থন করলেও কোনোদিন দলদাশের মতো কাজ করিনি। তারপরও কিছু লোক আছে ত্যাগী সাংবাদিকদের কলুষিত করছে। একটি পত্রিকা আমার নামে বড় করে পত্রিকার প্রথম পাতায় লিখেছে আমি নাকি চাঁদাবাজি করি।

কাদের গণি চৌধুরী বলেন, এত কিছু করার পরও এমন খবর শুনলে কষ্ট লাগে। আমার বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ যাচাই করে প্রমান করা যায় তাহলে নাকে খত দিয়ে দেশ থেকে চলে যাব। এসকল খবর যখন আমার স্ত্রী-বাচ্চারা সহ আত্নীয় স্বজন পরেন এবং আমাকে জিজ্ঞাসা করেন এসব কি করেছি। তখন আর সোসাইটিতে মুখ দেখাতে পারি না। এটাই কি সাংবাদিকতা। আমি আল্লাহর কাছে বলব, এই অভিযোগের একটিও যদি সত্য হয়ে থাকে, তাহলে আমি যেন ধ্বংস হয়ে যাই।

সমাবেশে বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস) এর প্রধান প্রতিবেদক মোরসালিন নোমানি বলেন, আমি তিনটি বিষয়ে কথা বলতে চাই। প্রথমটি হচ্ছে সাগর-রুনির হত্যাকান্ড। এই হত্যাকান্ডের ১২ বছরের বেশি সময় পার হয়েছে। হত্যাকান্ডের সময় বলা হয়েছিল ৪৮ ঘন্টার মধ্যে খুনিদের ধরা হবে। কিন্ত এত দিনেও তা ধরা হয়নি। আমার দাবি হচ্ছে, সাগর-রুনির হত্যাকান্ডের সময় তৎকালীন যে পুলিশ প্রধান ছিল। তাকে গ্রেফতার করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হোক। দ্বিতীয়টি হচ্ছে, স্বৈরাচার সরকারের পতনের সময় যে চারজন সাংবাদিক নিহত হয়েছে। তাদের পরিবারের দায়িত্ব সরকারকে নিতে হবে। আর তৃতীয়টি হচ্ছে, ১৬ বছর ফ্যাসিস্ট সরকারের ক্ষমতার সময় যে সকল সাংবাদিক তেল দেয়ার কাজ করেছিলো তাদের চিহ্নিত করতে হবে। যাতে করে আর তারা কোন সংবাদ সম্মেলন না করতে পারে।

এসময় আরো বক্তব্য রাখেন, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) সাংগঠনিক সম্পাদক সাইদ খান, ডিইউজে কোষাধ্যক্ষ খন্দকার আলমগীর হোসেন, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) সাংগঠনিক সম্পাদক এরফানুল হক নাহিদ, বিএফইউজে সিনিয়র সহকারী মহাসচিব বাসির জামান, রংপুর সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি সালেক খান, সাংবাদিক নেতা শাহিন হাসনাত, চট্রগ্রাম মেট্রপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি শাহনেওয়াজ, বিএফইউজে সাবেক সহ-সভাপতি জাহিদুল করিম কচি, বিএফইউজে’র সহ সভাপতি খায়রুল বাশার, ডিইউজের সাধারণ সম্পাদক খুরশিদ আলম, সাংবাদিক নেতা ও বিএনপি চেয়াপারসনের উপদেষ্টা কবি আবদুল হাই সরকার প্রমূখ।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ