সারাজীবন বিএনপির কর্মী হয়ে থাকতে চাই - ফখর উদ্দিন বাচ্চু - জনতার আওয়াজ
  • আজ রাত ৩:৫৬, বৃহস্পতিবার, ১৪ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩১শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৭শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

সারাজীবন বিএনপির কর্মী হয়ে থাকতে চাই – ফখর উদ্দিন বাচ্চু

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: শনিবার, সেপ্টেম্বর ৭, ২০২৪ ৫:০০ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: শনিবার, সেপ্টেম্বর ৭, ২০২৪ ৫:০০ অপরাহ্ণ

 

মোঃ রফিকুল ইসলাম রফিক,ম ময়মনসিংহ থেকে
সদ্য বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত ময়মনসিংহ (দঃ) জেলা বিএনপির যুগ্ম-আহবায়ক ও ভালুকা উপজেলা বিএনপির আহবায়ক ফখর উদ্দিন আহমেদ বাচ্চু বলেছেন আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ তোলা হয়েছে তা দলীয় ভাবে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানাই।

তিনি বলেন দল আমাকে সম্মানিত করেছে আমি এ দলের একজন কর্মী হিসেবে আজীবন থাকতে চাই। সংবাদ সম্মেলনে দেয়া বক্তব্যটি হুবহু তুলে ধরা হলো ঃ

১৯৮৪ইং সাল থেকে ছাত্রদলের রাজনীতির মাধ্যমে রাজনীতিতে যুক্ত হয়ে থানা ছাত্রদলের যুগ্ম- আহবায়ক জেলা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক, ভালুকা উপজেলা বিএনপি’র আহ্বায়ক, উপজেলা বিএনপি’র নির্বাচিত সভাপতি, জেলা বিএনপি’র সহ-সভাপতি, বিএনপি’র
জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছি। সর্বশেষ ২০২৪ ইং পর্যন্ত ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা বিএনপি’র যুগ্ম-আহবায়ক ও ভালুকা উপজেলা বিএনপির আহবায়ক এর দায়িত্ব পালন করেছি। গণতন্ত্রের মাতা বিএনপির শ্রদ্ধেয় চেয়ারপারসন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আমাদের প্রিয়নেতা ভবিষ্যৎ
রাষ্ট্রনায়ক দেশনায়ক জনাব তারেক রহমানের আস্থা ও বিশ্বাস অর্জন করে বিগত ২০০৬, ২০০৮ ও ২০১৮ সনে ময়মনসিংহ (১১) ভালুকা নির্বাচনী এলাকা থেকে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী হিসাবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছি। স্বৈরাচার এরশাদ বিরোধী আন্দোলনের সময়ে ৩ বার ও ১৯৯৬ এর পর শেখ হাসিনা সরকারের আমলে ২ বার গ্রেফতার হয়ে কারাভোগ করেছি। বিগত ১৭ বছর স্বৈরাচার সরকারের সময় মোট ৪৪টি মামলার প্রধান আসামী হয়েছি এবং মোট ৫ বার অন্যায়ভাবে আমাকে জেল হাজতে আটক রাখা হয়েছে। ২০১৪ সনে ৫ই জানুয়ারী নির্বাচনের পূর্বে বিএনপির চলমান আন্দোলনে ভালুকার রাজপথে মিছিল করার সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ছুড়া গুলিতে আহত হয়েছিলাম। সর্বশেষ জুলাই আগষ্টের ছাত্রজনতার আন্দোলনে কেন্দ্রীয় বিএনপির নেতৃবৃন্দের নির্দেশনায় ভালুকার সর্বস্তরের দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে ছাত্রজনতার সাথে আন্দোলনে অংশগ্রহন করে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছি।
বিগত ২৫শে জুলাই মায়মনসিংহ শহরে ছাত্রজনতার মিছিলে অংশ গ্রহণের পর পুলিশের লাঠিচার্জে আমার পায়ে আঘাত লাগে এবং পা ভেঙ্গে গুরুতর আহত হই। ৫ই আগষ্ট ছাত্রজনতার আন্দোলনে বাংলাদেশ ২য় বার স্বাধীনতা লাভ করার পর ভালুকা বিএনপির আহবায়ক হিসাবে দলীয় প্রধান বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান দেশনায়ক জনাব তারেক
রহমানের দিক নির্দেশনায় ভালুকার আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় দলীয় নেতাকর্মী সহ সেনাবাহিনী, পুলিশ এবং প্রশাসনের সাথে সমন্বয় করে কাজ করি। আল্লাহর রহমতে ভালুকাতে কোন অরাজকতার পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে দেইনি। এবং ভালুকা উপজেলায় হিন্দু, বৌদ্ধ, খৃষ্টান ধর্মাবলম্বীদের উপর কোন আঘাত আসতে দেইনি। ৫ই আগষ্ট পরিবর্তিত পরিস্থিতির পর দলীয়
নেতাকর্মী সহ উপজেলা পরিষদ, থানাসহ সরকারী স্থাপনা দুর্বৃত্তদের হাত থেকে রাক্ষার জন্য দলীয় নেতাকর্মী দিয়ে পাহাড়া বসিয়েছি। বিনাভোটে নির্বাচিত আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসী ও ভোটচোর এম.পি উপজেলা চেয়ারম্যান, পৌর মেয়র জনপ্রতিনিধিরা পালিয়ে যাওয়ার পর বিগত আন্দোলনে হামলাকারী সন্ত্রাসী ও দুর্বৃত্তদের বিরুদ্ধে ৫/৬টি মামলা
দায়েরের ব্যাবস্থা করেছি। ভালুকা উপজেলা একটি শিল্প ও কলকারখানা অধ্যুষিত এলাকা। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে যাতে কোন বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না হয় তার জন্য স্থানীয় সবপক্ষ একত্রিত হয়ে প্রকৃত ব্যবসায়ী এবং বিএনপির সাথে সম্পৃক্ত নেতৃবৃন্দ শিল্প প্রতিষ্ঠানে বৈধভাবে ব্যবসা করার জন্য আমার নিকট সুপারিশের আবেদন করেন। আর আমি স্থানীয় সমস্ত দলীয় নেতৃবৃন্দ ও প্রকৃত ব্যবসায়ীদের বৈধভাবে ও কোম্পানীর নিয়মের মধ্যে ব্যবসা পরিচালনার সুপারিশ করেছি মাত্র। এখানে উল্লেখ্য যে, আমার পরিবারের এবং আত্মীয়স্বজনের কাউকে এ ব্যবসায় যুক্ত করি নাই। এ বিষয়ে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর পরামর্শ ছিল। যাতে আইনশ্খৃলা পরিবেশে কোন বিশৃঙ্খলা তৈরি না হয়। আমি কোন শিল্প প্রতিষ্ঠানে স্বশরীরে যাইনি এমনকি টেলিফোনে বা লোক পাঠিয়ে হুমকি প্রদান করিনি। এখানে আরো উল্লেখ্য যে, আমার বিরুদ্ধে বাটারফ্লাই কার্যালয়ের হামলার যে ভিডিও
উত্থাপন করা হয়েছে তা মূলত ৬ আগস্টের ঘটনা। ঐ সময়ে অনেক ঘটনাই নিয়ন্ত্রণের বাইরে ছিল। এছাড়াও পরবর্তীতে ভিডিও ফুটেজ যাচাই করে ঐ ঘটনার সাথে দলীয় কোন নেতাকর্মীর জড়িত থাকার প্রমাণ মিলেনি। ভালুকাবাসী, ময়মনসিংহ জেলা ও কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের অনেকেই অবগত আছেন যে কতিপয় বিএনপি নেতৃবৃন্দ দীর্ঘদিন যাবৎ বিগত স্বৈরাচার হাসিনা সরকার ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের সাথে লিয়াঁজো করে আমার বিরুদ্ধে সবসময় মিথ্যা ও বানোয়াট কাহিনী বানিয়ে বিরুদ্ধাচারণ করে আসছে। তারই ধারাবাহিকতায় এই সুপারিশকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও কিছু পত্র-পত্রিকায় অতিরঞ্জিত করে নিউজ করে আমার ব্যাক্তিগত ও দলীয় ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করা হয়েছে।
পরবর্তী সময়ে বিষয়টি দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান দেশনায়ক জনাব তারেক রহমানের দৃষ্টিগোচর হলে তিনি দলের পক্ষ থেকে আমার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করার নির্দেশ প্রদান করেন। ঐ সুপারিশটি আমি সরল মনে করেছি। আমার অন্য কোন উদ্দেশ্য ছিলনা। এই ঘটনায় দলীয় ভাবমূর্তি যদি ক্ষুন্ন হয়ে থাকে, ভালুকাবাসী ও দেশবাসী যদি মনে কষ্ট পেয়ে থাকেন আমি বিনীত ভাবে দুঃখ প্রকাশ করছি এবং ক্ষমা প্রার্থনা করছি। আমি দীর্ঘদিন বিএনপির একজন পরীক্ষিত কর্মী। দীর্ঘদিন যাবৎ বিএনপি
করে সামাজিক ভাবে সম্মানিত হয়ে আজকের এপর্যায়ে এসেছি। আমাকে সম্মানিত করায় এবং বিভিন্ন সময় দলের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব প্রদান করায় এবং তিনতিনবার বিএনপি দলীয় মনোনীত প্রার্থী করায় বিএনপির শ্রদ্ধেয় চেয়ারপার্সন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও বিএনপির সম্মানিত ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান প্রিয়নেতা দেশনায়ক জনাব তারেক রহমানের প্রতি
চির কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। এ পর্যন্ত আমার বিরুদ্ধে নেয়া দলীয় সিদ্ধান্ত আমি মাথা পেতে নিয়েছি। যে ঘটনাকে কেন্দ্র করে আমার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে সে বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান প্রিয়নেতা দেশনায়ক জনাব তারেক রহমান এর নিকট একটি নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটির মাধ্যমে যাচাই বাছাই করে আমি
নির্দোষ প্রমাণিত হলে আমার বিরুদ্ধে নেওয়া সাংগঠনিক ও আইনগত ব্যাবস্থা প্রত্যাহারের অনুরোধ করছি। আমি বিএনপির একজন পরিক্ষিত কর্মী। যতদিন বেচে থাকবো বিএনপির একজন কর্মী হিসাবে মানুষের সেবা করে যাব এবং সামাজিক কাজ করে যাবো।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ