ঢাবি নয়, নিজেদের পরিচয় দিতেই গর্ববোধ করি: ইডেন শিক্ষার্থী
নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ:
রবিবার, সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৪ ৪:৩৯ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ:
রবিবার, সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৪ ৪:৩৯ অপরাহ্ণ

ঢাকা কলেজ প্রতিনিধি
সাত কলেজের বর্তমান সংকটময় পরিস্থিতি ও সংস্কার নিয়ে জরুরি সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এসময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়র সাথে সাত কলেজের বৈষম্যগুলো তুলে ধরা হয়।
রবিবার (২২ সেপ্টেম্বর) ঢাকা কলেজ ক্যাম্পাসের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এসময় শিক্ষার্থীরা “আধিপত্য না মুক্তি, মুক্তি মুক্তি”, ” আমার সোনার বাংলায়, বৈষম্যের ঠাই নেই” ইত্যাদি স্লোগান দেন।
এসময় সংবাদ সম্মেলনকরী ঢাকা কলেজর শিক্ষার্থী আব্দুর রহমান বলেন, সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা আজ নিষ্পেষিত। সাত কলেজ শিক্ষার্থীরা কর্মজীবনে অনেক ভালো করছে। স্বাধীনতার পরবর্তী পর্যায়ে এদেশে রাজনীতিবিদ ও শিক্ষাবিদরা সাত কলেজের মানোন্নয়নে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেন নি। যার ফলশ্রুতিতে এখন পর্যন্ত বিভিন্ন সিস্টেমের মধ্যে যেতে হয়েছে, এতে আমাদের কোনো মানোন্নয়ন হয় নি। সাত কলেজের শিক্ষার্থীদের সর্বোচ্চ সুযোগ সুবিধা না দিলেও তারা নিজেদের যোগ্যতায় অনেক পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের থেকেও এগিয়ে গেছে। আমরা জানি, এদেশের নীতি নির্ধারনীতে উচ্চ শিক্ষা অর্জনে সাত কলেজের শিক্ষার্থীদে অবদান অনেক।
এসময় সংবাদ সম্মেলনকারী ইডেনের শিক্ষার্থী স্মৃতি বলেন, আমরা কখনো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পরিচয় দিতে গর্ব করি না বরং আমরা ইডেনের শিক্ষার্থী ইডেনের পরিচয় দিতেই গর্ব করি।
সাত কলেজের সাথে ঢাবির বৈষম্যগুলো:
১. সতন্ত্র প্রাতিষ্ঠানিক পরিচয়হীনতা ভুগছে সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা।
২. ডিপার্টমেন্ট ভিত্তিক ভালো শিক্ষকের গুনগত মানে অপ্রতুলতা।
৩. ঢাবির শিক্ষার্থীরা গবেষণার সুযোগ পায়, সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা তা পায় না।
৪. ঢাবির শিক্ষার্থীদের একাডেমিক ক্যালেন্ডার অনুযায়ী শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হলেও সাত কলেজে তা হয় না।
৫. শিক্ষার্থী অনুপাতে শিক্ষক সংকট। ১২/১৫ শত শিক্ষার্থীর বিপরীতে ৮/৯ জন শিক্ষক।
৬. তীব্র ক্লাসরুম সংকট। অনার্স, মাস্টার্সের জন্য যে পরিমাণ ক্লাসরুম প্রয়োজন তা নেই। ফলে শিক্ষা কাযক্রম ব্যহত হচ্ছে।
৭. সম্পূর্ণ সিলেবাস শেষ করা হয় না।
৮. ফলাফল প্রকাশে বিলম্ব। গত বছরগুলো থেকে দেখা গেছে, ঢাবির ফলাফল প্রকাশের ছয়/সাত মাস পর ফলাফল প্রকাশ হচ্ছে।
৯. পরীক্ষার ফলাফল মূল্যায়নে সময় গণহারে ফেল করানো হয়। অথচ ভর্তি পরীক্ষার মাধ্যমে নির্ধারিত মানের শিক্ষার্থীরা সাত কলেজে পড়ছে।
১০. ঢাবির কতৃপক্ষ প্রতিবছর সাত কলেজ থেকে শত শত কোটি টাকা আয় করছে। অথচ সাত কলেজের উন্নয়নে তারা ব্যয় করে না। অর্থ কোথায় যাচ্ছে? সিস্টেমে সাত কলেজকে ঢাবির ব্যবসাকেন্দ্র বানানো হয়েছে।
১১. সাত কলেজের বিজ্ঞান বিভাগের ল্যাবগুলোতে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নেই। শিক্ষার্থীরা কীভাবে ব্যবহারিক জ্ঞান অর্জন করবে।
১২. হুটহাট পরীক্ষা শুর করা। যার দরুন শিক্ষার্থীরা প্রস্তুতি নিতে হিমশিম খায়। যথেষ্ট প্রিপারেশন নেওয়ার মতো পরিস্থিতি থাকে না।।
১৩. ক্লাস নেয় বিসিএস ক্যাডার শিক্ষক। প্রশ্ন করেন ঢাবির পিএইচডি শিক্ষক। খাতা দেখেন পিএইচডি ডিগ্রির শিক্ষক।( যদিও নিজেরা না দেখে বরং টাকার জন্য ছাত্র দিয়ে দেখায়।) যার দরুণ শিক্ষার্থীরা নিজেদের সেরাটা দিতে ব্যর্থ হচ্ছে।
১৪. এক সেশনের ক্লাস শুরু হলে সব সেশনের ক্লাস বন্ধ থাকে।
১৫. সহশিক্ষা কার্যক্রম বিএনসিসি, আবৃতি সংসদ, রোভার স্কাউটস, বিতর্ক, রেড ক্রিসেন্ট ইত্যাদি অনেক ক্ষেত্রে সাড কলেজ ঢাবি থেকেও এগিয়ে। অথচ কোনো বরাদ্দ নেই।
১৬. স্বান্ধ্য আইনের কারণে শিক্ষার্থীদের কিছু করার সুযোগ নেই। কিন্তু কলেজগুলোতে আমলাতন্ত্রের লাল ফিতার দৌরাত্ম ছাপিয়ে এসব অনুমতি পাওয়া খুবই কঠিন।
১৬. ক্ষমতার বাইরে মাত্রাতিরিক্ত শিক্ষার্থী ভর্তি।
জনতার আওয়াজ/আ আ