ছাত্রীদের জন্য নিরাপদ ক্যাম্পাসের দাবি জাবি ছাত্রশিবিরের - জনতার আওয়াজ
  • আজ রাত ৮:৫১, শুক্রবার, ১৫ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১লা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৮শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

ছাত্রীদের জন্য নিরাপদ ক্যাম্পাসের দাবি জাবি ছাত্রশিবিরের

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: রবিবার, নভেম্বর ৩, ২০২৪ ৯:৫৯ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: রবিবার, নভেম্বর ৩, ২০২৪ ৯:৫৯ অপরাহ্ণ

 

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) নারী শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ ক্যাম্পাস নিশ্চিতসহ বিশ্ববিদ্যালয় সংস্কারে ৪১ দফা প্রস্তাবনা দিয়েছে ইসলামী ছাত্রশিবির জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখা।

রবিবার (৩ নভেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রের (টিএসসি) কনফারেন্স কক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব প্রস্তাবনার কথা জানান সংগঠনটির নেতৃবৃন্দ।

এসময় ইসলামী ছাত্রশিবির জাবি শাখার প্রচার সম্পাদক আবদুল্লাহ আল মামুন সাকির সঞ্চালনায় শাখা সভাপতি হারুনুর রশিদ রাফি ও সেক্রেটারি মুহিবুর রহমান মুহিব লিখিত প্রস্তাবনা পাঠ করেন।

শিবিরের উল্লেখযোগ্য প্রস্তাবগুলো হলো, গণ-অভ্যুত্থানে আহত ব্যক্তির স্বাস্থ্যসেবা ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করা; ছাত্র-জনতার আন্দোলনে হামলায় অংশগ্রহণকারী প্রত্যেককে অপরাধের মাত্রা ও সীমা অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনে বহিষ্কার, সনদ বাতিল, ভর্তি বাতিল, পদ বাতিল, নিয়োগ বাতিল বা প্রাসঙ্গিক সাজা দেওয়ার পাশাপাশি মামলা করে রাষ্ট্রীয় আইনে বিচারের আওতায় আনা; ১৬ জুলাইকে সন্ত্রাস প্রতিরোধ দিবস ঘোষণা করা; ফ্যাসিবাদী শাসনব্যবস্থার মূল কারিগর শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের অপ্রাসঙ্গিক ব্যক্তিদের নামে সব স্থাপনার নাম পরিবর্তন করে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের শহীদদের নামে নামকরণ।

প্রস্তাবনার মধ্যে আরও আছে, জাকসু, হল সংসদ ও বিভাগওয়ারি শিক্ষার্থী সংসদ নির্বাচনের ব্যবস্থা করা; সাবেক উপাচার্য ফারজানা ইসলামের আমলের উন্নয়ন প্রকল্পে দুর্নীতিসহ স্বৈরাচার আমলের সব উপাচার্যের দুর্নীতির শ্বেতপত্র প্রকাশ; ফ্যাসিবাদী আমলে ক্যাম্পাসে সংঘটিত সব ছাত্র নিপীড়ন, র‍্যাগিং ও নির্যাতনমূলক ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ও রাষ্ট্রীয় আইনে যথাযথ বিচারের ব্যবস্থা করা; বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে সংঘটিত প্রতিটি খুন ও শিক্ষার্থী হত্যার পূর্ণাঙ্গ বিচারের ব্যবস্থা করা; আবাসিক হলের নিয়মতান্ত্রিক আসন বণ্টন নিশ্চিত করা; গত ১৬ বছরে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের অবৈধভাবে হল দখলের ঘটনাকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিচারের আওতায় আনা ও মাদকমুক্ত ক্যাম্পাস নিশ্চিত করা।

এছাড়া শুধু মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষক ও কর্মকর্তা নিয়োগের পদ্ধতি অবিলম্বে বাতিল; ফ্যাসিস্ট সরকারের বিগত ১৫ বছরে সব অবৈধ নিয়োগ বাতিল করার লক্ষ্যে উচ্চতর তদন্ত কমিটি গঠন; নারী শিক্ষার্থীদের জন্য সর্বোচ্চ নিরাপদ ক্যাম্পাস তৈরি; ছাত্রী হলগুলোয় দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকসহ অন্য কর্মকর্তাদের শিক্ষার্থীবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা; পোশাকের কারণে কোনো শিক্ষার্থী যেন শ্রেণিকক্ষে ও ক্যাম্পাসে শিক্ষক, সহপাঠী বা অন্যদের দ্বারা নিগৃহীত না হন, এটা নিশ্চিত করার জন্য সুস্পষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন করা; নারী নির্যাতন ও নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে যৌন নির্যাতনবিরোধী সেলের দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের অপসারণ করে অবিলম্বে নতুন কমিটি গঠন করা।

সংবাদ সম্মেলনে প্রস্তাবনা পাঠ শেষে শিবির নেতৃবৃন্দ বলেন, আমরা আমাদের আন্দোলনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে এই প্রস্তাবনা উপস্থাপন করেছি। আমাদের মূল লক্ষ্য একটি সুষ্ঠু, নিরাপদ এবং আধুনিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে ছাত্র সংগঠন হিসেবে কাজ করে যাওয়া, যেখানে সকল শিক্ষার্থীর জন্য সমান সুযোগ ও সম্মান থাকবে।

তারা আরও বলেন, আমাদের প্রস্তাবনাগুলো বাস্তবায়িত হলে শিক্ষার্থীদের জীবনযাত্রার মান উন্নত হবে, ক্যাম্পাসের পরিবেশ হবে নিরাপদ ও আনন্দময় এবং শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত হবে।

একইসাথে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়কে একটি আদর্শ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রূপে গড়ে তুলতে প্রস্তাবনাগুলো বাস্তবায়নে সকল শিক্ষার্থীদের সহযোগিতা ও সমর্থন প্রত্যাশা করেন তারা।

এর আগে, গত ২৯ অক্টোবর ক্যাম্পাসে সকল দলের অংশগ্রহণে সুস্থ ধারার রাজনৈতিক চর্চার কথা জানিয়ে প্রকাশ্যে আসে ছাত্রশিবির জাবি শাখার শীর্ষ তিন নেতা।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ