অর্থনীতির গতি ফিরছে মানুষের দুর্দশা কমেনি: মান্না
নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ:
বৃহস্পতিবার, নভেম্বর ১৪, ২০২৪ ৪:৩১ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ:
বৃহস্পতিবার, নভেম্বর ১৪, ২০২৪ ৪:৩২ অপরাহ্ণ

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, ড. ইউনূস আছেন বলে আমাদের অর্থনীতির একটু গতি ফিরছে। আগের সরকারকে কেউ বিশ্বাস করত না। বিদেশ থেকে কেউ টাকা দিত না। দিলেও সেটা ব্যাংকে দিতো না। চুরি করে দিতো, ফলে রিজার্ভে প্রভাব পড়তো না। আমাদের ব্যাংক আগের চাইতে ভালো হচ্ছে। তবে জিনিসের দাম কমে না। জনগণের কষ্ট কমেনি। মানুষের দুর্দশা কমেনি।
বৃহস্পতিবার (১৪ নভেম্বর) দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের ‘দেশ বাঁচাও মানুষ বাঁচা আন্দোলন’ আয়োজিত অন্তর্বর্তী সরকারে আওয়ামী সুবিধাভোগীদের উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ ও ফ্যাসিবাদের দোসরদের পুর্নবাসনের প্রতিবাদ সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
মান্না বলেন, এই সরকারের প্রধান কাজ হচ্ছে গণতন্ত্রের জন্য একটা গ্রহণযোগ্য নির্বাচন ব্যবস্থা করা। যত তাড়াতাড়ি নির্বাচন দিতে পারবেন চেষ্টা করুন। সংস্কার বলেন, যাই বলেন, এই অন্তর্বর্তী সরকার চাপিয়ে দেওয়ার অধিকার রাখে না। ধান্দাবাজ লোকদেরকে আপনি উপদেষ্টা বানাবেন, ধান্দাবাজ লোকদের বড় বড় অফিসার দেবেন সেটা করলে হবে না। রাষ্ট্রপতি থাকতে পারবে না হলুস্থুল হয়ে গেল না? কেন আছেন? কেন থাকতে পারবেন না, কিছু বলেছেন? আছেন বা কেন? চলে যাবে কেন? কিছুই তো বলেননি?
তিনি বলেন, আমরা দিন দিন বেশ বড় রকম সংকটের মধ্যে পড়ে যাচ্ছি। কত রকম আশা-আকাঙ্ক্ষা নিয়ে মানুষ ড. ইউনূসকে প্রস্তাব করে, বিদেশ থেকে ডেকে এনে সংবর্ধনা দিয়ে দায়িত্ব দিলো। উনি আহতদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে পারলেন না। উনাকে সবাই বলে বড় পারফর্মার, পরে দেখিয়েছেন গ্রামীণ ব্যাংক করে। কিন্তু ক্ষমতা নেওয়ার পরে এই ১০০ দিনে আমাদের মধ্যে বা মানুষের মধ্যে আশা তেমন সঞ্চয় তিনি করতে পারেননি।
ক্ষমতা নিয়ে ছেলে খেলা করছে দাবি করে তিনি আরও বলেন, কিরকম করে এই দুজন মানুষকে নিলেন? কার বুদ্ধিতে নিলেন। এই সরকার কোন প্রশ্নের জবাব দেওয়া প্রয়োজনীয়তা মনে করেন না। এই দুইজন মানুষ কী করে উপদেষ্টা পরিষদে আসলো? আমাদের দেশে উপদেষ্টা নিয়োগ হয় কিভাবে? একমাত্র প্রধান উপদেষ্টা সে ব্যাপারে চূড়ান্ত কথা বলতে পারেন। এই সরকারকে আমি দ্বিধান্বিত দেখি। ফ্যাসিবাদের পরাজয় করে বাংলাদেশের গণতন্ত্র কি রকম করে রাখবেন? গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা কি রকম প্রতিষ্ঠা করবেন? একটা ভালো নির্বাচন কি রকমভাবে করবেন? এমন কোন স্পষ্ট ধারণা আমাদেরকে দিতে পারেননি। কোন কথাও বলেননি।
সংস্কার শেষ হওয়ার জিনিস নয় জানিয়ে গণফোরাম সভাপতি বলেন, একটা রাষ্ট্রকে আপনি প্রতিনিয়ত উন্নত করতেই থাকবেন। একটা বিষয়ের উপর কাজ করবেন, সেটা আরো সুন্দর দেখাবার জন্য। এটা শুরুও নেই, শেষও নেই। পৃথিবী এরকম করে বদলাচ্ছে। মানুষ এরকম করে বদলাচ্ছে। সংস্কার শেষ করার কথার কোন জায়গা নেই। আমরা তাদেরকে বলতে পারি আপনি কি কারণে কতটুকু সংস্কার করবেন?
তিনি আরো বলেন, আহত যারা, যাদের জীবন গেছে তাদের সাহায্য করা, চিকিৎসার জন্য সাহায্য দেওয়া, এগুলো দিতে পারছেন না কেন? কতগুলো আহত লোক এখন হাসপাতালে আছে? তালিকা যদি করেন তাহলে ১৫ হাজার! এক কোটি টাকা করো যদি দেন তাহলে ১৫ হাজার কোটি টাকা। ৭ লাখ/ ৮ লাখ কোটি টাকার বাজেট আমার দেশে, যারা জীবন বাজী রেখে দেশ রক্ষা করল তাদের টাকা দিতে এত সময় লাগবে কেন? কেন পারলেন না?
দেশ বাঁচাও মানুষ বাঁচা আন্দোলনের সভাপতি কে এম রকিবুল ইসলাম রিপনের সভাপতিত্বে প্রতিবাদ সভায় আরো বক্তব্য রাখেন বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আব্দুস সালাম, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব অ্যাড. আব্দুস সালাম আজাদ, গণফোরামের সহ-সভাপতি অ্যাড. সুব্রত চৌধুরী, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান লায়ন ফারুক রহমান, জাগপার সহ-সভাপতি রাশেদ প্রদান, কৃষক দল নেতা এসকে সাদী। প্রতিবাদ সভাটি সঞ্চালনা করেন সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক রাজু আহমেদ।
জনতার আওয়াজ/আ আ