অনির্বাচিত সরকার দীর্ঘদিন দেশ পরিচালনায় থাকতে পারে না: মির্জা ফখরুল - জনতার আওয়াজ
  • আজ দুপুর ১:১৩, শুক্রবার, ১৫ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১লা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৮শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

অনির্বাচিত সরকার দীর্ঘদিন দেশ পরিচালনায় থাকতে পারে না: মির্জা ফখরুল

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: শনিবার, ডিসেম্বর ২৮, ২০২৪ ২:৩৭ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: শনিবার, ডিসেম্বর ২৮, ২০২৪ ২:৩৭ অপরাহ্ণ

 

জনতার আওয়াজ
অনির্বাচিত সরকার দীর্ঘদিন দেশ পরিচালনায় থাকতে পারে না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

শনিবার (২৮ ডিসেম্বর) জাতীয় প্রেস ক্লাবের আবদুস সালাম হলে জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি’র (জাগপা) উদ্যোগে আয়োজিত বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তা, স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষা ও ২৪ এর ছাত্র জনতার অভ্যুত্থানের চেতনায় সকলকে ঐক্যবদ্ধ করে সকল ষড়যন্ত্র প্রতিহত করার শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, সংস্কার কোন নতুন ধারা নয়। কেউ যদি দাবি করে যে আমরাই প্রথম সংস্কার নিয়ে আসছি তাহলে এটা ভুল। সংস্কার একটি চলমান প্রক্রিয়া। প্রতি মুহূর্তেই সংস্কার হচ্ছে। সংস্কারের ধারা চলতে থাকবে। সেজন্য তো নির্বাচন বন্ধ হয়ে থাকতে পারে না। দিনের পর দিন একটি অনির্বাচিত সরকারের হাতে আমরা তো দেশ পরিচালনা করতে দিতে পারি না। সেজন্যই আমরা নির্বাচনকে তাড়াতাড়ি চাই।

তিনি বলেন, আমাদের সম্পর্কে একটা ভুল ব্যাখ্যা দেওয়া হয়। সেটা হলো, বিএনপি নাকি ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য তাড়াতাড়ি নির্বাচন চাচ্ছে। কিন্তু, ক্ষমতায় তো আমরা আগেও ছিলাম। দুই-তিনবার ছিলাম। আল্লাহ চাইলে আবার ক্ষমতায় আসব। কিন্তু ক্ষমতার জন্য আমরা রাজনীতি করি না। সংস্কার প্রক্রিয়া প্রথম শুরু করেছিলেন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান। একদলীয় শাসনব্যবস্থা বাকশাল কায়েম করেছে আওয়ামী লীগ। সেখান থেকে জিয়াউর রহমান বহুদলীয় গণতন্ত্র বের করে এনেছেন।

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূসকে উদ্দেশ্য করে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আপনি ছয়টি কমিশন করেছেন। সেই কমিশনগুলো কাজ করছে। কিন্তু এই কমিশনগুলো কাদের সঙ্গে কাজ করছেন। তারা কয়জন পন্ডিত ব্যক্তিকে নিয়ে এসেছেন। আমরা তাদেরকে শ্রদ্ধা করি। কিন্তু, জনগণ কি চায়, আপনারা জনগণের কাছে যান, তারা কি চায় সেটা জানুন।

অন্তর্বর্তী সরকারের উদ্দেশ্য তিনি আরও বলেন, আমরা বলেছি—আপনারা সংস্কার করুন, আমাদের কোনো আপত্তি নেই। কিন্তু, যে বিষয়টা নিয়ে বাংলাদেশে সবচেয়ে বড় সমস্যা তৈরী হয়েছে সেটি হলো অস্থিরতা। একটি নির্বাচিত সরকার থাকলে এই সমস্যা অনেক কমে যাবে। কারণ, নির্বাচিত সরকারের শক্তিটা অন্যরকম। জনগণ তার পেছনে থাকে। এই কথাটা আমাদের সবসময় মনে রাখতে হবে।

বিএনপির এই মহাসচিব বলেন, আমরা সংস্কার চাই। আমরা সংস্কার সবচেয়ে বেশি চাই। কিন্তু, দীর্ঘকাল অনির্বাচিত সরকারের হাতে ক্ষমতা থাকা উচিত নয়। আজকে সংকট বেড়েই চলেছে। সবচেয়ে বড় সংকট সাধারণ মানুষের। সবকিছুর দাম এমনভাবে বেড়েছে, সাধারণ মানুষের জীবন এখন অতিষ্ঠ হয়ে গেছে। এটার দিকে তাদের (অন্তর্বর্তী সরকার) কোনো খেয়ালই নেই।

তিনি বলেন, আপনারা হচ্ছেন অন্তর্বর্তী সরকার। আপনারা সংস্কার করতে চাইলে সংস্কার করবেন। সেইসঙ্গে একটা নির্বাচন করবেন, যে নির্বাচনটা সকলের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে। এটাই হচ্ছে প্রধান কাজ। নির্বাচিত সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে হবে। রাজনৈতিক দলগুলো আপনাদের (অন্তর্বর্তী সরকার) প্রতিপক্ষ নয়। রাজনৈতিক দলগুলো আপনাদেরকে সহযোগিতা করছে।

জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি’র (জাগপা) সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা খন্দকার লুৎফর রহমানের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন রিয়াজের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় ১২ দলীয় জোটের প্রধান মোস্তফা জামাল হায়দার, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমানুল্লাহ আমানসহ আরও অনেক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ