আমি একটা ভালো নির্বাচন চাই : মাহমুদুর রহমান মান্না - জনতার আওয়াজ
  • আজ রাত ১০:০৩, বুধবার, ১৩ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩০শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৬শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

আমি একটা ভালো নির্বাচন চাই : মাহমুদুর রহমান মান্না

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: সোমবার, জানুয়ারি ২০, ২০২৫ ৬:০২ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: সোমবার, জানুয়ারি ২০, ২০২৫ ৬:০২ অপরাহ্ণ

 

জনতার আওয়াজ ডেস্ক

নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না বলেছেন, আমি একটা ভালো নির্বাচন চাই। আপনিতো নাম কামাতে পারবেন না, পুলিশ ঠিক করতে পারবেন না, ছিনতাই-রাহাজানি শুরু হয়ে গেছে না ? অতএব তাড়াতাড়ি ভোট দিয়ে বিদায় হোন। মানুষ যদি রাস্তায় নামে যে চালের দাম কমান, তাহলে আপনাদের বিপদ হতে পারে।

সোমবার (২০ জানুয়ারি) জাতীয় প্রেস ক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে বাংলাদেশ সংস্কার পার্টির প্রথম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে ‘৫ আগস্টের বিজয় ও ভবিষ্যতের বাংলাদেশ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

সরকারের উদ্দেশ্যে মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, আপনি প্রেসিডেন্ট বদলাতে চেয়েছেন, বিএনপি গিয়ে বলেছে সংবিধানের বাইরে গিয়ে এটা আপনি করতে পারেন না। আপনারা করতে পারেননিতো। এখন পর্যন্ত বিএনপি যে যে ব্যাপারে আপত্তি করেছে সরকার সেই ব্যাপারে কোনো কাজ করতে পেরেছে? অথচ একেকটা বাসস্ট্যান্ড দখল হয়ে গিয়েছে, একেকটা বিশ্ববিদ্যালয় দখল হয়ে গিয়েছে, সমস্ত শিক্ষা ব্যবস্থা দখল হয়ে গিয়েছে। কিন্তু সরকার কিছুই করতে পারেনি। তার মানে কি সরকারের কোন ক্ষমতা নাই? এক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আটকে ছিলেন দীর্ঘদিন, তিনি বের হয়ে বলেছিলেন জাতীয় সংগীত বদলাতে হবে। উনি বলবার কয়েকদিন পর যখন বিতর্ক তৈরি হয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার বললেন এই বিতর্ক এখন চাই না আমরা। তার পরেরদিন থেকে সেটা বন্ধ হয়ে গিয়েছে। ড. ইউনূস বা এই সরকারের বোঝা উচিত ছিলো ‘দে আর আর দ্য গভর্মেন্ট’। তাদের কথা না শুনে আমাদের উপায় নেই।

তিনি বলেন, পৃথিবী থেকে সোভিয়েত ইউনিয়নের কর্তৃত্ব চলে গেছে, সারা পৃথিবী এখন আমেরিকার কর্তৃত্বে। আওয়ামী লীগ চলে গেছে এখন রাজনৈতিক কর্তৃত্ব হচ্ছে বিএনপির হাতে। ভালো লাগুক খারাপ লাগুক, আপনার হাত সে দখল করছে, আপনার বাসস্ট্যান্ড সে দখল করেছে। যেখানে যেখানে সম্ভব চাঁদাবাজি করেছে। চাঁদা না দিলে থাকতে পারবেন না সেই পরিস্থিতি তৈরি করেছে। কিছু করতে পারছেন? কমপ্লেন করবার কেউ আছে? এই যে সরকার আছে, তার কাছে কমপ্লেন করতে পারছেন? কমপ্লেন করলে সে (সরকার) শুনছে? কোনো জায়গায় আপনার রিকোয়েস্ট থাকছে না। কিন্তু ওরা (বিএনপি) যখন বলছে তখন থাকছে। আর অফিসার, পুলিশরা দেখছে। তারা ভাবছে এখন যদি ওদের (বিএনপি) কমপ্লেনের সাথে ঝগড়া করি তাহলে একবছর পর যখন ওরা ভোটে জিতবে তখনতো আমাদের চাকরি থাকবে না। তাই সকলেই তাদের (বিএনপি) কথা শুনছে। যদি এইরকমই হয় তাহলে বুঝতে হবে আপনার সামনে বড় দ্বায়িত্ব আছে।

ডাকসুর সাবেক এই ভিপি বলেন, কেউ কী ভেবেছেন এইবারের অভ্যূত্থানের পর রাজনৈতিকভাবে সবচেয়ে লাভবান হয়েছে কারা? স্বয়ং জামায়াতে ইসলামী। ৫ তারিখের (আগস্ট) বৈঠকের পর প্রধান সেনাপতি বললেন কারা কারা যোগ দিয়েছিলো। অনেকের নাম বলেছেন অনেকের নাম বললেন না। কিন্তু সবার আগে জামায়াতে ইসলামীর নাম বললেন, তাও দুইবার। ২৮ তারিখে যখন ওইখানে টিয়ারগ্যাস মেরে ছত্রভঙ্গ করে দেয়া হয়েছে তারপর প্রত্যেকদিন আমরা মাঠে ছিলাম। আমরা মানে গণতন্ত্র মঞ্চ। তখন বিএনপির নেতাদের খুঁজে পাই নাই, জামায়াতে ইসলামীও ছিলো না। কাউকে পাইনি। কিন্তু আমরা যারা যারা ছিলাম তাদেরতো নামই নাই। যারা এই জিনিসটা তৈরি করছে তারাই এই জিনিসটা সামনে এনে দিলো। কিন্তু পরিবর্তনের জন্যে মানুষের কাছে এই কথা সরাসরি বলে দাঁড়াবার মতো শক্তি কিন্তু নাই।

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উদ্দেশ্যে মান্না বলেন, এখন বিতর্ক তৈরি হয়েছে আগে সংস্কার না আগে নির্বাচন। এটা একটা ফালতু বিতর্ক। সংস্কারের কোন সীমা পরিসীমা আছে নাকি? আমাদের মানব সভ্যতার যাত্রা যখন থেকে, তখন থেকে সংস্কার শুরু। আপনারা অন্তর্বর্তী সরকার। এক সরকার থেকে আরেক সরকারে যেতে যত কাজ আছে তার সবই আপনারা করতে পারেন। কেউ আপনাকে বলতে পারবে না যে আপনিতো অন্তর্বর্তী সরকার আপনি করেন কেন। অতএব যখন সংস্কারের প্রশ্ন আসছে তখন স্পষ্ট করে বলতে হবে আপনারা কি সংস্কার করতে চান।

বাংলাদেশ সংস্কার পার্টির নির্বাহী সভাপতি মেজর (অব:) আমীন আহমেদ আফসারীর সভাপতিত্বে এসময় আরও বক্তব্য রাখেন শিক্ষাবিদ প্রফেসর ড. দিলারা চৌধুরী, ২১শে পদকপ্রাপ্ত শিক্ষাবিদ প্রফেসর ড. সুকোমল বড়ুয়া, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান প্রমুখ।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ