দেশত্যাগ নয়, ‘আপসহীনতায়’ খালেদা জিয়া বেছে নিয়েছিলেন কারাগার - জনতার আওয়াজ
  • আজ রাত ১১:০৫, বৃহস্পতিবার, ১৪ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩১শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৭শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

দেশত্যাগ নয়, ‘আপসহীনতায়’ খালেদা জিয়া বেছে নিয়েছিলেন কারাগার

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: শনিবার, ফেব্রুয়ারি ৮, ২০২৫ ১২:৫৬ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: শনিবার, ফেব্রুয়ারি ৮, ২০২৫ ১২:৫৬ অপরাহ্ণ

 

কারাবরণের ৭ বছর পূর্তি
জনতার আওয়াজ ডেস্ক

দেশত্যাগ অথবা কারাগার— আওয়ামী লীগ সরকারের এমন শর্তের বিপরীতে বিএনপি চেয়ারপারসন দেশনেত্রী খালেদা জিয়া কারাবাসকেই বেছে নিয়েছিলেন।
বেগম খালেদা জিয়া বিদেশে চলে গেলে, জেলে যেতে হতো না তাঁকে। কিন্তু সমঝোতায় না গিয়ে আবারও নিজের আপসহীনতার স্বাক্ষর রেখেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন। আওয়ামী লীগের শাসনামলে কারাবরণের ৭ বছর পূর্তিতে আজ। কেবল ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার প্রতিহিংসার শিকার হয়েই বিনা অপরাধে কারাগারে যেতে হয়েছিল সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে।
এক-এগারো সময়ের সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দায়ের করা ষড়যন্ত্রমূলক জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট ও চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি দেয়া ফরমায়েশি রায়ে খালেদা জিয়াকে ৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেন বিশেষ জজ আদালতের বিচারক আকতারুজ্জামান। উচ্চ আদালতে সেই সাজা বেড়ে হয় ১০ বছর। যাকে কেবলই শেখ হাসিনার ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটে।
দেশবরেণ্য আইনজীবীদের মতে, বিরোধী দল ও সেই দলের প্রধান নেতৃত্বকে কলুষিত করা— এই সার্বিক ব্যাপারটা ঘটেছিল শেখ হাসিনার সরাসরি তত্ত্বাবধানে। তার স্বৈরাচারী মনোভাবের প্রেক্ষাপটেই একটি রায় দাঁড় করানো হয়েছিল।
আইন-আদালতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে, রায় ঘোষণার দিন আদালতে উপস্থিত ছিলেন খালেদা জিয়া। ৭ বছর আগের এই দিনে সাজা ঘোষণার পর দ্বিতীয়বারের মত কারাগারে যান বিএনপি চেয়ারপারসন। পুরান ঢাকার নাজিম উদ্দিন রোডের নির্জন সেই কারাগারের একমাত্র কয়েদি হিসেবে ছিলেন খালেদা জিয়া।
পরবর্তীতে অসুস্থ খালেদা জিয়াকে বিদেশে চিকিৎসার দাবি নিয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে সরকারের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকেও ছিল একইরকম শর্ত। কিন্তু কোনোভাবেই দেশ, নেতাকর্মী ও জনগণকে ছেড়ে যেতে রাজি হননি বিএনপি চেয়ারপারসন।
এরশাদ বিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে ২০১৮ সালে খালেদা জিয়ার কারাবরণ, এটি খালেদা জিয়ার আপসহীন ব্যক্তিত্বের বহিঃপ্রকাশ। এবিষয়ে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, এই যে তিনি জেনেশুনে আপসহীন ছিলেন, এটা এরশাদ আমল থেকেই শুরু হয়েছে, যা এখন প্রমাণিত। দেশি-বিদেশি একাধিক মারফতে বিভিন্ন প্রস্তাবও এসেছিল। রাজনীতি ছেড়ে দিলে বা বিদেশে চলে গেলে তাকে শাস্তির আওতায় আনা হবে না। তাকে শাস্তি দেয়া হয়েছিল মিথ্যা-বানোয়াট মামলায়। তাকে শাস্তি দিলেও তিনি মাথানত করবেন না বলে সেসময় মন্তব্য করেছিলেন খালেদা জিয়া।
দলের স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য সালাউদ্দিন আহমেদ বলেন, খালেদা জিয়াকে জেলবন্দি করতে পারা ছিল বাংলাদেশের গণতন্ত্র ও সার্বভৌমত্বকে অন্তরীণ করা। তাকে রাজনৈতিকভাবে নিষ্ক্রিয় করে দেয়ার পাঁয়তারা ছিল এটি।
কোভিড মহামারি চলাকালীন ২০২১ সালের ২৫ মার্চ, ৩ বছরের বেশি সময় কারাগারে থাকার পর নির্বাহী আদেশে হাসপাতাল থেকে বাসায় ফেরেন খালেদা জিয়া। এরপর থেকে হাসপাতাল থেকে বাসা আর বাসা থেকে হাসপাতালে আসা-যাওয়ার মধ্যেই কেটেছে প্রায় চার বছর।
উল্লেখ্য, গত বছরের আগস্টে গণ অভ্যুত্থানে আওয়ামী সরকার পতন ও রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের শুরুর দিনই জাতির উদ্দেশে দেয়া ভাষণে খালেদা জিয়াকে মুক্তি দেয়া হচ্ছে বলে জানান রাষ্ট্রপতি। চলতি বছরের ১৫ জানুয়ারি খালেদা জিয়ার সাজা পূর্ণাঙ্গভাবে বাতিল হয়। এরপর আপিল বিভাগের রায়ে খালাস পান সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ