ট্রাম্প আত্মস্বীকৃত দুর্বৃত্ত হিসেবে ভূমিকা পালন করছে: আনু মুহাম্মদ - জনতার আওয়াজ
  • আজ রাত ১২:২৩, শুক্রবার, ১৫ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১লা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৮শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

ট্রাম্প আত্মস্বীকৃত দুর্বৃত্ত হিসেবে ভূমিকা পালন করছে: আনু মুহাম্মদ

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: বৃহস্পতিবার, মার্চ ২০, ২০২৫ ৩:৫১ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: বৃহস্পতিবার, মার্চ ২০, ২০২৫ ৩:৫১ অপরাহ্ণ

 

জনতার আওয়াজ ডেস্ক

ট্রাম্প মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের সর্বশেষ আত্মস্বীকৃত দুর্বৃত্ত হিসেবে ভূমিকা পালন করছে বলে মন্তব্য করেছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক ও অর্থনীতিবিদ ড. আনু মুহাম্মদ।

বৃহস্পতিবার (২০ মার্চ) জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে ফিলিস্তিন সংহতি কমিটি বাংলাদেশ কর্তৃক যুদ্ধ বিরতি লঙ্ঘন করে গাজায় ইসরায়েলি গণহত্যার প্রতিবাদে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে তিনি এ মন্তব্য করেন।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক ও অর্থনীতিবিদ ড. আনু মুহাম্মদ বলেন, গাজায় কয়েকদিন আগে একটা যুদ্ধবিরতির নাটক হয়েছিল। অনেকেই বলছিলেন, ট্রাম্প ক্ষমতায় এসে বাইডেনের সমালোচনা করেছেন এবং বাইডেন যেহেতু সরাসরি এই যুদ্ধে ইসরাইলকে সমর্থন করেছেন ট্রাম্প এসে এই যুদ্ধের অবসান ঘটাবেন এবং যুদ্ধ থামবে। ট্রাম্প যেহেতু রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধের কথা বলছেন সেহেতু ফিলিস্তিনের পক্ষে ও তার একই রকম ভূমিকা থাকবে। কিন্তু কাগজে কলমে যুদ্ধ বিরতি আছে। সেটার উপর ভরসা করে গাজার অনেক নারী শিশু গাজায় ফিরে এসেছিলেন, এবং নতুন করে এই ধ্বংসস্তুপে জীবন খোজার চেষ্টা করছে। তখনই ট্রাম্পের সঙ্গে নেতানিয়াহু পরিষ্কার আলাপ আলোচনা করে সম্মতি নিয়ে একটা বড় পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ইজরায়েল আবার বর্বর হামলা শুরু করেছে।

তিনি বলেন, ট্রাম্প মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের আত্মস্বীকৃত সর্বশেষ আত্মস্বীকৃত দুর্বৃত্ত হিসেবে ভূমিকা পালন করছে। সারা পৃথিবীর সকল আইন ভঙ্গ করে, সকল সিদ্ধান্ত অমান্য করে এমনকি নিরাপত্তা পরিষদের সিদ্ধান্ত অমান্য করে ইসরাইলের ক্ষমতা ছিল না একের পর এক এমন বর্বরতা চালানো। তার পক্ষে এটা সম্ভব হয়েছে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের প্রত্যক্ষ সমর্থনের কারণে। মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের কৌশলগত স্বার্থের কারণে। গাজা অঞ্চলে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ যুদ্ধ চালাচ্ছে নিজের বসতি তৈরি করা ও তার মুনাফার সন্ধানে এবং গাঁজা অঞ্চলে তারা আধিপত্যটা নিশ্চিত করার জন্য।

তিনি আরও বলেন, ফিলিস্তিনের উপর ইসরায়েলের যে আগ্রাসন সেটা হচ্ছে সাম্রাজ্যবাদ, পুঁজিবাদের আগ্রাসন। এটা ধর্মীয়ভাবে ব্যাখ্যা করা যাবে না। ধর্মীয়ভাবে যদি আগ্রাসন মোকাবেলা করা সম্ভব হতো তাহলে সৌদি আরব শহর আরব দেশগুলো এরকম নিষ্ক্রিয় ভূমিকা পালন করতোনা এবং সাম্রাজ্যবাদের সহযোগী ভূমিকা পালন করত না। আজকে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের একহাত যদি হয় ইসরাইল, তাহলে আরেক হাত আমরা দেখতে পাচ্ছি সৌদি আরব। তাদের নিষ্ক্রিয়তার ফলেই ইসরাইলের পক্ষে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের সহায়তায় এমন বর্বর হত্যাযজ্ঞ চালানো সম্ভব হয়েছে।

আনু মুহাম্মদ বলেন, জাতিসংঘ সম্পূর্ণ একটা অকার্যকর প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। জাতিসংঘ এখনো মার্কিন সাম্রাজ্যবাদী বিশ্ব ব্যবস্থায়। এই সাম্রাজ্যবাদী বিশ্ব ব্যবস্থার পতন না হলে সারা বিশ্বের কোন মানুষ, কোন অঞ্চল নিরাপদ নয়। আর অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাছে আমাদের স্পষ্ট বক্তব্য, যদি বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক রূপান্তর করতে হয়, তাহলে ভারতের আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে লড়াই এবং মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে লড়াই একসঙ্গে যুগপৎভাবে অগ্রসর করতে হবে।

ফিলিস্তিন সংহতি কমিটি বাংলাদেশের আহ্বায়ক ইমেরিটাস অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, ফিলিস্তিনে যে হত্যাকাণ্ড চলছে, গতকাল এই সংখ্যা ছিলো ৪১৩ জন আজকে ১ হাজারে পৌঁছেছে। এর পেছনে যে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের সমর্থন আছে এটা স্পষ্ট। ডোনাল্ড ট্রাম্পের কারনে আজকে এই নৃশংসতার ঘটনা ঘটছে। আমাদের কাছে এটা পরিস্কার, এই গণহত্যা হচ্ছে সাম্রাজ্যবাদী, পুঁজিবাদী গণহত্যা। আমরা আমাদের দেশে যেভাবে শিশু হত্যা দেখি, শিশু ধর্ষণ দেখি, ধর্ষনের পর শিশুকে হত্যা করতে দেখি সেই একই কান্ড দেখছি জায়নবাদী ইসরায়েলীরা করছে ফিলিস্তিনে।

তিনি বলেন, ফিলিস্তিনের যে লড়াই সে লড়াই আমাদেরও লড়াই। পুঁজিবাদ, সম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে লড়াই। আমাদের যে সমর্থন সেটা পুঁজিবাদের বিরুদ্ধে সংগ্রামের প্রতি সমর্থন। আর আমরা এটা পরিস্কার বুঝতে পারছি পুঁজিবাদ, সম্রাজ্যবাদকে যদি বিদায় করতে না পারা যায় এই ধরনের ঘটনা ঘটতেই থাকবে। ক্রমাগত ঘটতে থাকবে এবং পরের ঘটনা আগের ঘটনাকে ছাপিয়ে যাবে। যেটা আমরা ফিলিস্তিনে দেখতে পাচ্ছি।

বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সভাপতি মোহাম্মদ শাহ আলম বলেন, আজকে এই বাংলাদেশে পুঁজিবাদ, সাম্রাজ্যবাদ, জায়নবাদের বিরুদ্ধে আমাদের এই লড়াই তীব্র এবং শক্তিশালী করতে হবে। তাই আমি বলতে চাই ফিলিস্তিন সংহতি কমিটি বাংলাদেশের ব্যানারে কালকে হোক বা পরশু হোক গোটা বাংলাদেশে যেনো প্রতিবাদ মিটিং মিছিল যেনো ঘোষণা করা হয়।

তিনি আরও বলেন, আগের সরকারও গাজায় যে হত্যাকাণ্ড চলছিলো তার তীব্র প্রতিবাদ তারা করে নাই। বর্তমান সরকারও আমাদের গণতন্ত্রের ছবক, সংস্কারের ছবক শোনাচ্ছে। তাদের ভূমিকা কি ?

ফিলিস্তিন সংহতি কমিটির পক্ষে ডা. হারুন উর রশীদ সমাবেশ থেকে আগামী রবিবার সারাদেশে ফিলিস্তিনে সাম্রাজ্যবাদী ও জায়নবাদী হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভের আহ্বান জানান। এসময় সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স, প্রেসিডিয়াম সদস্য আব্দুল্লাহ আল কাফি রতন, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির সভাপতি মোশরেফা মিশু, বাসদ (মার্ক্সবাদী) আহ্বায়ক মাসুদ রানা প্রমুখ। সমাবেশ শেষে তারা জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে থেকে একটি মিছিল নিয়ে পল্টনের দিকে অগ্রসর হয়।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ