আজব এক জাতি আমরা – ব্যারিস্টার রফিক আহমেদ
নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ:
রবিবার, মার্চ ২৩, ২০২৫ ৩:৪৮ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ:
রবিবার, মার্চ ২৩, ২০২৫ ৩:৪৮ অপরাহ্ণ

আমরা এক আজব জাতি। আমাদের রাজনৈতিক, সামাজিক কিংবা অর্থনৈতিক—যেকোনো ইস্যুতেই শুরু হয় এক অসম প্রতিযোগিতা। যেন প্রতিটি বিষয়ে নিজ নিজ মতামত বা স্বার্থের প্রতিফলন ঘটাতেই হবে, অন্যথায় আমরা তা মানতে নারাজ। গণতান্ত্রিক সমাজের নিয়ম হলো, সকলের মতামত বিবেচনায় নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা। কিন্তু বাস্তবে আমাদের আচরণ গণতান্ত্রিক চেতনাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।
একটি গণবিপ্লবের মাধ্যমে পরিস্থিতির পরিবর্তন হলে, স্বাভাবিকভাবে অন্তর্বর্তী সরকারের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় থাকার কথা। কিন্তু আমরা তা না করে নিজেদের দলীয় স্বার্থ, গোষ্ঠীগত চিন্তা এবং ব্যক্তিস্বার্থকে প্রাধান্য দিই। বিভিন্ন দল ও গোষ্ঠী নিজেদের মতামতকে একমাত্র সত্য হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চায়। আর যদি তাদের মতের প্রতিফলন না ঘটে, তাহলে শুরু হয় হুমকি-ধমকি, আন্দোলন, অস্থিরতা। গণতন্ত্র কি শুধুই নিজের মতের প্রতিফলন ঘটানো? নাকি গণতন্ত্র হলো সমগ্র জাতির কল্যাণের জন্য সমন্বিত সিদ্ধান্ত গ্রহণ?
আমাদের মধ্যে সহিষ্ণুতার অভাব প্রকট। মতের অমিল হলেই আমরা একে অপরকে শত্রু মনে করি। ভিন্নমতকে শ্রদ্ধা করার ন্যূনতম শিক্ষা আমাদের নেই। অথচ গণতান্ত্রিক সমাজে সকল মতামতের স্থান থাকা উচিত, সবার কণ্ঠস্বর শোনা উচিত।
আমাদের অনধিকার চর্চার প্রবণতাও কম নয়। রাষ্ট্রের প্রতিটি ক্ষেত্রেই আমরা হস্তক্ষেপ করতে চাই, এমনকি যেখানে আমাদের কোনো ভূমিকা থাকা উচিত নয়। সেনাবাহিনীর অযাচিত হস্তক্ষেপ, রাজনৈতিক দলের স্বার্থান্বেষণ, প্রশাসনে প্রভাব বিস্তার—এসব আমাদের গণতান্ত্রিক বিকাশের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। জাতি হিসেবে আমাদের মধ্যে ঐক্যের অভাবই এই সমস্যা সৃষ্টি করেছে।
একটি সুস্থ, গণতান্ত্রিক ও সভ্য সমাজ গড়তে হলে আমাদের সহিষ্ণু হতে হবে। নিজেদের মত চাপিয়ে না দিয়ে, ভিন্নমতকে সম্মান করতে হবে। প্রতিটি নাগরিকের অধিকারকে স্বীকৃতি দিতে হবে। অন্যথায় আমরা শুধু বিভক্তিই বাড়াব, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার পথে আরও পিছিয়ে পড়ব।
আসুন, আমরা আসল গণতন্ত্রে বিশ্বাসী হই। মতের অমিলকে শত্রুতা নয়, সমৃদ্ধি হিসেবে গ্রহণ করি। তাহলেই আমরা সত্যিকারের সভ্য জাতিতে পরিণত হতে পারব।
জনতার আওয়াজ/আ আ