ভিড় ঠেলে শেষ মুহূর্তের কেনাকাটায় নগরবাসী
নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ:
রবিবার, মার্চ ৩০, ২০২৫ ৯:৫১ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ:
রবিবার, মার্চ ৩০, ২০২৫ ৯:৫১ অপরাহ্ণ

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
রাত পেরোলেই ঈদ আর চাঁদ রাতের এমন সময়ে নগরবাসী মেতে উঠেছেন শেষ মুহূর্তের কেনাকাটায়। বিপণিবিতান থেকে ফুটপাতে দেখা গেছে ঢাকাবাসীর উপচেপড়া ভিড়।
রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার বিপণিবিতান এবং ফুটপাত ঘুরে দেখা যায়, সন্ধ্যার পর থেকেই শেষ মুহূর্তের কেনাকাটা সারতে ভিড় বাড়তে শুরু করেছে। অনেকেরই মূল কেনাকাটা শেষ হয়ে গেলেও বাকি রয়ে গেছে টুকিটাকি অনেক কিছু। আর তাইতো আরেক দফা কেনাকাটা করতে বেরিয়েছেন তারা।
ঢাকার শান্তিনগরের বাসিন্দা আইরা মুমতাহা কানের দুল কিনতে এসেছেন মৌচাক মার্কেটে। বলেন, ‘সব কেনাকাটা শেষ করার পর মনে হলো ড্রেসের স মিলিয়ে কানের দুল কেনা হয়নি। আর তাইতো দুল কিনতে ইফতারের পর বেরিয়ে পড়লাম। ভেবেছিলম ভিড় হবে না। মার্কেটে এসে দেখি মারাত্মক ভিড়।’
রাজধানীর মতিঝিল থেকে আনারকলি শপিং সেন্টারে ওড়না আর মেয়ের জন্য জামা কিনতে এসেছেন পারভীন আক্তার। বলেন, ‘রোজার শুরুতে মেয়ের জন্য জামা কিনেছিলাম। তখন অত গরম ছিল না বলে মোটা জামা কিনেছি। দুই দিনের গরম দেখে মনে হলো যাই মেয়ের জন্য আরেকটা পাতলা জামা কিনে আনি। আসলমই যখন নিজের জন্যই সুতির ওড়না দেখছি।’
শপিং সেন্টারগুলোর বিক্রেতারা বলছেন, ‘প্রতিবারের মতো এবারো চাঁদরাতে ক্রেতাদের উপচেপড়া ভিড়। এবার আগে আগে ছুটি শুরু হওয়ায়, তাদের অনেকেই ভেবেছিলেন চাঁদ রাতে তেমন একটা ভিড় হবে না। কিন্তু সন্ধ্যার পর থেকেই ভিড় বাড়তে শুরু করেছে।’
মৌচাক মার্কেটের সিটি গোল্ডের গহনার দোকানি সাব্বির বলেন, ‘টুকিটাকি গহনা বিক্রি হচ্ছে। কানের দুল, হাতের আংটি, নাকের নথ এসবই কিনছেন ক্রেতারা। অনেকে আবার পোশাকের সাথে মিলিয়ে গহনা ঠিক করছেন।’
আরেক দোকানি শিবলি বলেন, ‘শুধু পোশাক না, তোয়ালে, টিস্যু, ন্যাপথলিন বিক্রি হচ্ছে প্রচুর। অনেকে এসেছেন বিছানার নতুন চাদর কিনতে। সব মিলিয়ে চাঁদ রাতে এসে বেচাবিক্রি জমে উঠেছে।’
রাজধানীর বড় বড় বিপণিবিতানে চাঁদরাত উপলক্ষ্যে চলছে মেহেদি উৎসব। রীতিমতো লাইন দিয়ে অপেক্ষা করে হাতে নকশাদার মেহেদি লাগাচ্ছেন নারীরা। এদের একজন সুমাইয়া বলেন, ‘নানা দামে নানা ডিজাইনে মেহেদি লাগানো হচ্ছে। সন্ধ্যার পর থেকে এত বেশি ভিড় যে অনেকের মেহেদি দিতে দিতে মধ্যরাত হয়ে যাবে।’
শপিং সেন্টারের দোকানিরা জানান, ‘চাঁদ রাত হওয়ায় গভীর রাত পর্যন্ত মার্কেট খোলা থাকবে। রাত ২টা-আড়াইটা পর্যন্ত চলবে বেচাকেনা এবং মেহেদি লাগানো।’
রাজধানীর ফুটপাতে নারীদের তুলনায় পুরুষদের ভিড় অনেকটাই বেশি। রামপুরার ফুটপাত থেকে জিন্সের প্যান্ট কিনছিলেন শামীম। তিনি বলেন, ‘রাতের বাস ধরে গ্রামে যাবো। এরমধ্যে ছোটভাই ফোন দিয়ে বললো ওর জন্য শার্টের পাশাপাশি যেন জিন্সের প্যান্টও কিনে আনি। তাই শেষমুহূর্তে আবার প্যান্ট কিনতে আসলাম।’
আরেক ক্রেতা লিটন বলেন, ‘পরিবারের সবার কেনাকাটা শেষ হয়ে গেলেও আমারটা বাকি। আমরা মধ্যবিত্ত পুরুষরা নিজেদের কেনাকাটার বাজেট রাখি সবার কেনাকাটা শেষ হলে। হাতে যা টাকা আছে, তা দিয়ে এখন ব্র্যান্ডের শার্ট কেনা যাবে না। তাই ফুটপাত থেকেই ভালো মানের শার্ট নিচ্ছি।’
রাজধানীর কয়েকটি বিপণিবিতান ঘুরে সাইজ এবং পছন্দের মিল ঘটেনি আরমানের। তিনি বলেন, ‘দুই দিন ধরে বসুন্ধরা-যমুনা ঘুরে নিজের সাইজমতো শার্ট পেলাম না। বেশিভাগই এক সপ্তাহ ধরে স্টক আউট। তাই এবার ফুটপাতে এসেছে শার্ট কিনতে।’
বাড্ডা লিঙ্ক রোডের ফুটপাত ব্যবসায়ী মিন্টু বলেন, ‘ফুটপাতের আসল বিক্রিই হয় ঈদের আগের দিন। আগের ঈদে শুধু চাঁদ রাতে ৫০ হাজার টাকার শার্ট-প্যান্ট বিক্রি করেছি। এবারো বেঁচাবিক্রি ভালো হচ্ছে।’
প্রিয়জনের সাথে নতুন পোশাকে ঈদ কাটাতে, নিজেকে শেষ সময়ে পরিপাটি করতে শেষ সময়ে সবটুকু দিয়ে কেনাকাটায় পূর্ণতা টানছেন ক্রেতারা। আর বিক্রেতাদেরও ইচ্ছে ভালো মুনাফা করে সকালে পরিবারের সাথে ঈদ আনন্দ ভাগাভাগি করা।
জনতার আওয়াজ/আ আ