আ'লীগ সরকারের উন্নতি শেষ পর্যন্ত ঘরে ঘরে মোমবাতি: গয়েশ্বর - জনতার আওয়াজ
  • আজ রাত ৪:৪৭, শুক্রবার, ১৫ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১লা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৮শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

আ’লীগ সরকারের উন্নতি শেষ পর্যন্ত ঘরে ঘরে মোমবাতি: গয়েশ্বর

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: বুধবার, জুলাই ২৭, ২০২২ ৩:৪৯ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: বুধবার, জুলাই ২৭, ২০২২ ৩:৪৯ অপরাহ্ণ

 

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

বিএন‌পির স্থায়ী কাম‌টির সদস্য গ‌য়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেছেন, ‘রাতের আধারে ভোট চুরি করে হওয়া প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন- তার বাড়ি ঘেরাও করতে গেলে তিনি ছাদে আপ্যায়ন করাবেন, আপনার বাড়ি যদি কখনো কেউ ঘেরাও করতে যায় চায়ের জন্য যতটুকু পানি প্রয়োজন ততটুকু পানি মজুদ আছে তো? নাই। চায়ের দাওয়াতের জন্য নয় যদি এদেশের জনগণ কখনো গণভবন ঘেরাও করতে যায় তাহলে আপনার জিনিসপত্র গুছিয়ে গাড়িতে তুলে দিতে যাবে। আপনাকে বিদায় জানাতে যেতে পারে। হয়তো একটা সময় আপনি স্বেচ্ছায় না গেলে এমন ঘটনা ঘটতে পারে এটা মনের অজান্তেই হয়তো বলেছেন ঘেরাও করতে গেলে চা খাওয়ানোর।’

সরকারের নানা অনিয়ম ও দুর্নীতি চিত্র তুলে ধরে স্থায়ী কমিটির এই সদস্য বলেন, ‘এখন বিদ্যুৎ যায় না মাঝে মাঝে আসে। বিদ্যুৎ বলে আমি জীবিত আছি এখনো মরি নাই। এই আওয়ামী লীগ সরকারের উন্নতি শেষ পর্যন্ত ঘরে ঘরে মোমবাতি। এই সরকার ঘরে ঘরে জনগণের হাতে হারিকেন ধরিয়ে দিয়েছে।

বুধবার (২৭ জুলাই) জাতীয় প্রেসক্লাবের মিলনায়তনে এক স্মরণ সভা এসব কথা বলেন তিনি। স্বেচ্ছাসেবক দলের প্রয়াত সভাপতি শফিউল বারী বাবু দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে এ স্মরণ সভার আয়োজন করেছে স্বেচ্ছাসেবক দল।

তিনি বলেন, ‘গতকাল ওবায়দুল কাদের বলেছেন- খালেদা জিয়াকে টুস করে ফেলে দেওয়া এটা একান্তই হিউমার মশকরা- অর্থাৎ শেখ হাসিনা ঠাট্টা করতেও জানে। ঠাট্টা খালেদা জিয়ার সাথে করেন কিন্তু জাতির সঙ্গে যেটা মশকরা শুরু করেছেন ১৪ বছর ধরে হিসাব একদিন না একদিন জনগণের কাছে দিতেই হবে।’

নির্বাচন কমিশন ও প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) তীব্র সমালোচনা করে গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেছেন, ‘নির্বাচন কমিশন এটা ঠাট্টা মশকরা করার জায়গা। সকালে এক কথা বিকালে আরেক কথা বলে সাবেক নির্বাচন কমিশনার নূরুল হুদাকে ইতিমধ্যে হার মানিয়ে দিয়েছেন। যার কাজ সে করবে নির্বাচন কমিশন এত কথা বলেন কেন?

তিনি বলেন, ‘কে নির্বাচনে আসবে কে আসবে না তাতে কিছু আসে যায় না। এত দায়িত্ব আপনাদের (নির্বাচন কমিশন) দেয় নাই । হু আর ইউ? আপনি কে এই কথা বলার। রাজনৈতিক সমস্যার মীমাংসা হবে রাজনৈতিকভাবে, সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন- সরকার চিন্তা করবে কিভাবে তারা জনগণের সঙ্গে মীমাংসা করবে। কিভাবে জনগণের পথ ফেরত দিবে সেই বিষয়। এই কাজ ঠুঁটো জগন্নাথ নির্বাচন কমিশনের নয়। আমি আশা করব নো টক। শেখ হাসিনা যেদিন থাকবে না তখন কি আপনাদেরকেও তাড়াতে হবে? কোন দিক দিয়ে পালাবেন, যতদিন দায়িত্বে আছেন চুপচাপ বসে থাকেন বেতন ভাতা খান। নির্বাচন রাজনীতি ও রাজনৈতিক দল, গণতন্ত্র নিয়ে ছবক দেওয়ার অধিকার সাংবিধানিক এই পদে বসে আপনাকে দিতে কেউ দেয় নাই। আশা করি বাংলা কথাটা বুঝতে আপনার কষ্ট হবে না। আমরা যা করব রাজপথে ফয়সালা করব, যা বলেছি হাসিনা কেউ ক্ষমতায় রেখে নির্বাচনে যাব না। হাসিনাকে রেখে নয় ক্ষমতা থেকে ফেলেই নির্বাচন করব।’

দলের স্থায়ী কমিটির এই সদস্য বলেন, বিদ্যুৎ নাই তাহলে বিদ্যুৎ উৎপাদনের নামে টাকা গেল কোথায়? বিদ্যুতের জন্য যে টাকা ব্যাংক থেকে ঋণ করা হয়েছে লুট করা হয়েছে এর দায়ভার তো জনগণকে পরিশোধ করতে হবে। প্রশ্ন হচ্ছে বিদ্যুৎ পাবনা তাহলে আমরা সেই দিন পরিশোধ করবো কেন? যে সকল কোম্পানিকে কুইক রেন্টাল বেসিসে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য নিয়োগ দিয়েছেন তাদেরকে ব্যাংক থেকে কত টাকা ঋণ দিয়েছেন, তাদের কত বিদ্যুৎ উৎপাদন করার কথা ছিল কতটুকু তারা করতে পেরেছেন কতটুকু সরকারের কাছে হস্তান্তর করেছেন তার শ্বেতপত্র প্রকাশ করতে হবে। জনগণের সেই হিসাব চাওয়ার অধিকার আছে।’

‘প্রধানমন্ত্রী কোন কোন প্রজেক্টে আপনি কত টাকা ব্যয় করেছেন তার সামগ্রিক উৎপাদন ক্যাপাসিটি কত, আপনি পেয়েছেন কত এখন ঋণ আছে কত, এটা জাতির সামনে সুস্পষ্ট ভাবে বলেন। যদি না বলেন তাহলে ধরে নিতে হবে সকল প্রজেক্ট এর এই দুর্নীতি ও লাভের অংশ আপনার আঁচলের গিয়াছে, আপনার আত্মীয়স্বজন নিয়েছে।’

অর্থমন্ত্রীকে আদম বেপারী আখ্যা দিয়ে গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ‘উনি বলেন আইএমএফ এর কাছে টাকা চাওয়া হয়নি। পত্রিকায় দেখলাম ভিতরে ভিতরে আবার তাদের কাছে টাকা চাওয়া হয়েছে। আর আই এম এফ বলেছে- আপনারা কোন খাতে কত টাকা ব্যয় করেছেন তার একটা হিসাব দেন।’

নির্বাচন ইস্যুতে বিএনপির অবস্থান তুলে ধরে তিনি বলেন, জনগণের ভোট জনগণ দিবে যাকে খুশি তাকে দিবে দিনের ভোট দিনে দিবে। ভোটকেন্দ্রে গিয়ে নিরাপদে ভোট দিব। একটা ফয়সালা করতে হবে রাজপথে। এর জন্য আমাদেরকে সেভাবেই এগোতে হবে।

জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমানের সভাপ‌তি‌ত্বে স্বরণসভায় আরও বক্তব্য রাখেন─ বিএনপির ভাইস চেয়ারম‌্যান শামসুজ্জামান দুদু, যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, ঢাকা মহানগর বিএনপি নেতা হাবিবুর রশিদ হাবিবসহ প্রমুখ।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ