পথসভায় যে দুটি মুহূর্ত মনে গভীর দাগ কেটেছে তাসনিম জারার - জনতার আওয়াজ
  • আজ সন্ধ্যা ৭:৫৯, শুক্রবার, ১৫ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১লা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৮শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

পথসভায় যে দুটি মুহূর্ত মনে গভীর দাগ কেটেছে তাসনিম জারার

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: সোমবার, মে ২৬, ২০২৫ ৩:৫০ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: সোমবার, মে ২৬, ২০২৫ ৩:৫০ অপরাহ্ণ

 

জনতার আওয়াজ ডেস্ক

বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন ও শেখ হাসিনার পতনে নেতৃত্ব দেওয়াদের নিয়ে গড়া তরুণ রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) তাদের দলের প্রচারণায় রোববার চট্টগ্রাম জেলার বিভিন্ন উপজেলায় পথসভা করেছে। যেখানে দলের অন্য নেতাকর্মীদের সঙ্গে ছিল এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব ও জনপ্রিয় স্বাস্থ্যবিষয়ক কনটেন্ট ক্রিয়েটর ডা. তাসনিম জারা। পথসভায় জনসংযোগ করতে গিয়ে এদিন দুটি বিষয় তার মনে গভীরভাবে দাগ কেটেছে বলে জানান তিনি।

রোববার সারাদিন পথসভা শেষে রাতে ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে দুটি মুহূর্তের কথা জানান তাসনিম জারা। সেই সঙ্গে জানান, আগামীকাল আবারও পথসভায় অংশ নেবেন তিনি। সেই সঙ্গে গল্প শুনবেন সাধারণ মানুষের।

তাসনিম জারা তার পোস্টে লিখেছেন, ‘আজ (রোববার) চট্টগ্রামের নয়টি জায়গায় গিয়েছি। মানুষের কথা শুনেছি, তাদের উদ্বেগ জেনেছি, আর দেশ নিয়ে আমাদের পরিকল্পনার কথা বলেছি। তবে দিনের দুটি মুহূর্ত আমার মনে গভীর দাগ কেটেছে।’

প্রথম ঘটনার কথা তুলে ধরে তাসনিম জারা লিখেছেন, ‘প্রথমটি ছিল এক ছোট্ট মেয়ে সুহানাকে ঘিরে। সে এখন ক্লাস ফাইভে পড়ে। আমি এক স্থানীয় ফার্মেসিতে ঢুকেছিলাম দোকানদার ভাইয়ের সঙ্গে কথা বলার জন্য। হঠাৎ সুহানা আমাকে চিনে ফেলে। বলে উঠল, ‘‘ছাত্রদের দলকে আমি চিনি!’’ কোনো দ্বিধা না করেই সামনে এগিয়ে এসে সেলফি তুলল। আমি স্বপ্ন দেখি এমন এক বাংলাদেশের, যেখানে সুহানা নির্ভয়ে, নিরাপদে, সম্মানের সঙ্গে আর আনন্দে বড় হতে পারবে।’

দ্বিতীয় ঘটনার কথা তুলে ধরে তাসনিম জারা লিখেছেন, ‘দ্বিতীয় মুহূর্তটি ছিল দিনের শেষে। শহীদ ওমরের মায়ের সঙ্গে দেখা হলো বোয়ালখালীতে। তিনি এসেছিলেন ছেলের কবর তৈরির খোঁজ নিতে। শুনেছেন আমরা কিছুক্ষণ পর আসছি, তাই থেকে গিয়েছিলেন। কী দৃঢ়তা তার কণ্ঠে। বললেন, তিনি ছেলের মৃত্যু মেনে নিয়েছেন। এটাকে তিনি মহৎ উদ্দেশ্যে আত্মত্যাগ হিসেবে দেখেন। কিন্তু ওমরের বাবার এখনও মেনে নিতে কষ্ট হচ্ছে। জীবনের প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছেন, এমনকি দৈনন্দিন কাজও করতে পারেন না।’

তাসনিম জারা আরও লিখেছেন, ‘ওমর ছিল এক মেধাবী তরুণ। পড়াশোনা প্রায় শেষ করে ফেলেছিল। বাংলাদেশ বিমানে যোগ দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। অথচ মুহূর্তেই রাষ্ট্র তার জীবন কেড়ে নিয়েছে।’

পোস্টের শেষাংশে রাজনীতি নিয়ে নিজের ভাবনার কথা তুলে ধরেন তাসনিম জারা। বলেন, ‘আমরা প্রায়ই হাই পলিটিক্স (অর্থাৎ জটিল তত্ত্ব, রাষ্ট্রের সংস্কার) নিয়ে কথা বলি। কিন্তু একটা রাষ্ট্র কখনোই যেন এমন অবস্থায় না ফিরে যায়, যেখানে সে নিজের সন্তানদের হত্যা করতে পারে – এ বিষয়ে তো আমাদের সবার একমত হওয়া উচিত। এটাই আমাদের দায়িত্ব; ওমরের কাছে, তার পরিবারের কাছে, আর প্রতিটি শহীদের কাছে, যারা তাদের জীবন দিয়েছেন।’

‘আজকের দিনটা এখানেই শেষ করছি। আগামীকাল আরও গল্প শুনবো।’ জানিয়ে তাসনিম জারা তার পোস্টের ইতি টানেন।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ