জনগণকে নিয়ে নিজেই মেয়রের চেয়ারে বসার হুমকি ইশরাকের - জনতার আওয়াজ
  • আজ বিকাল ৫:১৩, শুক্রবার, ১৫ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১লা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৮শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

জনগণকে নিয়ে নিজেই মেয়রের চেয়ারে বসার হুমকি ইশরাকের

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: মঙ্গলবার, জুন ৩, ২০২৫ ৭:১৯ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: মঙ্গলবার, জুন ৩, ২০২৫ ৭:১৯ অপরাহ্ণ

 

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের সকল ঢাকাবাসী, ভোটার ও জনগণকে সাথে নিয়ে শহীদ মিনারে শপথের মাধ্যমে নিজেই মেয়রের চেয়ারে বসার হুমকি দিলেন বিএনপি নেতা ইশরাক। মঙ্গলবার (৩ জুন) টানা আন্দোলনে একাত্মতায় অংশ নিয়ে ও নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করতে এসে তিনি এ কথা বলেন।

ইশরাক বলেন, আমি একজন রাজনীতিবিদ, আপনাদের সহযোদ্ধা হিসেবে সরকারের উদ্দেশে বলতে চাই, এই নগর ভবন বিগত দুই সপ্তাহ যাবৎ আমাদের নিয়ন্ত্রণে ছিল। আমরাই নিয়ন্ত্রণ রেখেছি, আমরাই দখল করে রেখেছি। এই শপথটা যখন যদি তারা নাও করায়, আমি গিয়ে আমার চেয়ারে বসতে পারি। দুই মিনিটও লাগবে না। ঢাকা শহরের জনগণ বারবার আমাকে আহ্বান জানিয়েছে, কেন আমি শহীদ মিনারে গিয়ে ঢাকাবাসীকে সাথে নিয়ে শপথ করে দায়িত্ব পালন বা দায়িত্ব গ্রহণ নিজেই নিচ্ছি না? তখন আমরা বলেছি, আমরা একটি নিয়মতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল। আমাদের দলের পক্ষ থেকেও আমাদের নেতা, বিশেষ করে জনাব সালাউদ্দিন আহমেদ, বারবার বিভিন্ন পর্যায়ে যোগাযোগ করেছেন। আমাদের আইনজীবী নেতারা, যারা রয়েছেন—ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ, খোকন ভাই, শেখ হাসান কামাল, ব্যারিস্টার কাজল—সবাই বারবার নির্বাচন কমিশন এবং স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সাথে যোগাযোগ করেছেন। আমাদের সাবেক সচিব জনাব মনিরুজ্জামান সাহেবও রয়েছেন। কারণ আমরা নিয়মতান্ত্রিক রাষ্ট্র পরিচালনায় বিশ্বাসী। আমরা চাই না কোনো ধরনের বাজে উদাহরণ সৃষ্টি হোক। কিন্তু এখন সরকারকে বাধ্য হয়ে বলতে হচ্ছে, আপনারা যদি অবিলম্বে শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানের ব্যবস্থা না করেন, তাহলে ঢাকা শহরের দক্ষিণের ভোটারদেরকে সাথে নিয়ে আমি নিজেই শপথ করে আমার চেয়ার গ্রহণ করব। এবং নগর ভবন কীভাবে চলবে, সেটা ঢাকাবাসী নির্ধারণ করবে। কোনো বহিরাগত উপদেষ্টা বা বহিরাগত প্রশাসককে এই নগর ভবন পরিচালনা করতে দেওয়া হবে না। হবে না! হবে না! ঠিক, এইটাই আমাদের শেষ কথা, এটাই আমাদের শেষ বার্তা।

ইশরাক বলেন, বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আদালত, মাননীয় আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ সাতজন বিচারপতির উপস্থিতিতে, মাননীয় প্রধান বিচারপতির উপস্থিতিতে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মামলা-সংক্রান্ত বিষয়ে যে রায় আমরা পেয়েছিলাম, তার বিরুদ্ধে আপিল করা হয়েছিল এবং সেটিকে খারিজ করা হয়েছিল। তার পরিপ্রেক্ষিতে যে শুনানি হয়, এর পরে কারো কোনো সুযোগ নেই এখানে আইন জড়িত করতে পারে, কারণ সর্বোচ্চ আদালতের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ এই রিট আবেদন নিষ্পত্তি করে নির্বাচন কমিশনকেই সর্বসম্মতভাবে ক্ষমতা দিয়েছে এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেওয়ার জন্য। অতএব, নির্বাচন কমিশন যে গেজেটটি প্রকাশ করেছিল, ইলেকশন ট্রাইব্যুনালের রায়ের উপর ভিত্তি করে আমাকে ঢাকা দক্ষিণের মেয়র পদে ঘোষণা করেছিল, সেটি বহাল থাকছে এবং সেটিকে আইন হিসেবে মানতে হবে।

আপনারা দেখেছেন, বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এবং তার উপদেষ্টারা পক্ষপাতিত্ব করে আমাদের এই নির্বাচনের রায় নিয়ে টালবাহানা করেছে। দীর্ঘদিন যাবৎ তারা আমাকে শপথ না করানোর মাধ্যমে বাংলাদেশের সংবিধান লঙ্ঘন করেছে, নির্বাচন কমিশনের ক্ষমতাকে অসম্মান করেছে। তারা আইন মানে না, নির্বাচন কমিশন মানে না, সংবিধান মানে না, তাহলে তারা মানে কী?

তিনি আরও বলেন, এই বাংলাদেশের মানুষ যদি আগামীকাল থেকে তাদেরকে না মানা শুরু করে, তাহলে কি তাদের দায়িত্ব থাকবে? এই অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে বসানো হয়েছিল ছাত্র-জনতার রক্তাক্ত গণ-অভ্যুত্থানের পরে, বাংলাদেশের সকল রাজনৈতিক দল এবং সর্বোচ্চ শ্রেণির পেশার মানুষ, ছাত্রদের উপস্থিতিতে। যাতে তারা শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের হাতে ক্ষমতা তুলে দিতে পারে। কিন্তু আমরা লক্ষ্য করলাম, আদালতের সর্বোচ্চ রায়ের পরেও এখনো শপথ করানোর জন্য তারা টালবাহানা করছে। তারা কিভাবে আগামী দিনে তাদের অধীনে একটি জাতীয় নির্বাচন নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু করতে পারবে?

বিএনপি নেতা ইশরাক বলেন, এই সরকার তার নিরপেক্ষতা হারিয়েছে। আদালতের রায় এবং গেজেট প্রকাশের পরে আমরা সরকারের কাছে বারবার আবেদন জানিয়েছি, লিখিতভাবে জানিয়েছি। কিন্তু তারা কোনো কাজ করেনি। এরপর দক্ষিণ ঢাকা শহরের সর্বস্তরের ভোটাররা রাজপথে নেমে আসে। দীর্ঘদিন যাবৎ আপনারা আন্দোলন করছেন। এরপর আমরা আমাদের দাবি আদায়ে নগর থেকে বের হয়ে যমুনা ঘেরাও দিয়ে সেখানে দুইদিন অবস্থান করি। তখন আমরা দেখলাম, জাতির সামনে একটি নতুন নাটক মঞ্চস্থ করা হলো—পদত্যাগের নাটকের মাধ্যমে জাতিকে ইমোশনাল ব্ল্যাকমেইল করা হলো। এরপর আমাদের বলা হলো সমাধান হবে, এবং জনগণের কথা চিন্তা করে আমরা রাজপথ ছেড়ে দিই। কারণ আমরা ভেবেছিলাম সরকার একটি সমাধান দেবে।

আমরা স্পষ্টভাবে বলতে চাই, রাষ্ট্র পরিচালনা আবেগের বিষয় নয়। এখানে আঠারো কোটি মানুষের জীবনযাত্রা ও জীবিকা নির্বাহ জড়িত। আবেগ দিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনা, যখন মন চায় ইরান, যখন বেজার হলাম তখন পদত্যাগ করে চলে গেলাম—এই কর্মকাণ্ড জনগণের কল্যাণ বয়ে আনবে না। বাংলাদেশের রাষ্ট্রকে কোনো ভালো জায়গায় নিয়ে যাবে না।

আজ পর্যন্ত আমাদের দল বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মাননীয় প্রধান উপদেষ্টা ড. মোহাম্মদ ইউনূস সাহেবের প্রতি পূর্ণ আস্থা রেখেছে। গতকাল আমাদের দলের পক্ষ থেকে একটি প্রতিনিধি দল বৈঠক করেছে। সেখানে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য জনাব সালাউদ্দিন আহমেদ সাহেব আমাদের বার্তাগুলো স্পষ্টভাবে দিয়েছেন। কিন্তু তারপরও আমরা দেখতে পেলাম, তারা শপথ নিয়ে টালবাহানা করে তাদের রুক্ষতা উন্মোচন করেছে। বাংলাদেশের বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যে আগামী জাতীয় নির্বাচনের সময় নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারবে, সেটা শুধু প্রশ্নবিদ্ধ হয়নি, বরং জনগণের সামনে তা প্রতিপন্ন হয়েছে। বর্তমান উপদেষ্টা পরিষদ দিয়ে সেটি অর্জন সম্ভব নয়। তাই আমাদের দলের পক্ষ থেকে তিনজন উপদেষ্টার পদত্যাগ দাবি করা হয়েছে। তারা জাতি ও গণতন্ত্রের জন্য হুমকি স্বরূপ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এখন পর্যন্ত তাদের বিষয়ে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

আপনারা জানেন, আমাদের সামনে কোরবানির ঈদ। জনগণের ভোগান্তি ও জানমালের বিষয় চিন্তা করে আমরা আমাদের বর্তমান নগর ভবন অবরোধ ও ঘেরাও কর্মসূচি কিছুটা শিথিল ও বিরতি নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। ঈদের ছুটির পরে যদি সরকারের পক্ষ থেকে শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান বিষয়ে স্পষ্ট বার্তা না আসে, আমরা তখন ঢাকা দক্ষিণ শহরের সমস্ত জনগণ ও ভোটারদের নিয়ে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তুলব। ঢাকাবাসীর ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠা করব। এটা আমার একার মেয়র হওয়ার বিষয় নয়। এটা আমার ক্ষমতায় যাওয়ার বিষয় নয়।

আমি দুঃখ প্রকাশ করতে চাই যে জনদুর্ভোগের সৃষ্টি হয়েছে সিটি কর্পোরেশনকে স্থবির করে দেওয়ার মাধ্যমে। জনগণের সেবায় বিঘ্ন ঘটেছে, যার দায় পুরোপুরি বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এবং স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপদেষ্টা ও কর্মকর্তাদের উপর বর্তায়। তারা সরাসরি সংবিধান লঙ্ঘন করে আমার শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানটি করতে না দিয়ে আইনকে অবজ্ঞা করেছে, সর্বোচ্চ আদালতের অবমাননা করেছে।

তাই আমরা যদি চাই, বাংলাদেশে একটি সুষ্ঠু, সঠিক, অংশগ্রহণমূলক, গ্রহণযোগ্য ও নিরপেক্ষ জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হোক, তাহলে এই নগর ভবনকেন্দ্রিক আন্দোলনকে চূড়ান্ত লক্ষ্যে না নেওয়া পর্যন্ত মাঠ ছাড়ব না।

আমরা স্পষ্ট ঘোষণা দিতে চাই, কোনো বহিরাগত প্রশাসন বা উপদেষ্টাকে নগর ভবনে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। এটাই আমাদের সিদ্ধান্ত।

দক্ষিণ করপোরেশনের সর্বস্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ, নির্বাচিত কাউন্সিলর, ওয়ার্ড কমিশনার এবং ঢাকার সব ভোটাররা এখানে উপস্থিত রয়েছেন। আমরা সবাই ঢাকার স্থানীয় জনগণ। অতএব, আমাদের নির্দেশনা ছাড়া নগর ভবনের কার্যক্রম চলতে দেওয়া হবে না। অন্তর্ভুক্ত কর্মকর্তাদের বুঝতে হবে, এখনো আদালতের রায়ে নির্বাচিত মেয়র হিসেবে আতিকুল ইসলাম বহাল রয়েছেন। অতএব, যা কিছু করতে হবে আমাদের অনুমতি ও সিদ্ধান্ত অনুযায়ী করতে হবে। প্রয়োজনে আন্দোলন হবে। যতদিন পর্যন্ত আগামী নির্বাচন অনুষ্ঠিত না হচ্ছে, ততদিন পর্যন্ত আইনগতভাবে সর্বোচ্চ ক্ষমতার অধিকার কেবল আমাদের কাছেই রয়েছে।

এটাই হলো আমাদের শেষ কথা। আমরা আন্দোলন ছেড়ে যাচ্ছি না। এই আন্দোলন চলমান থাকবে, ইনশাআল্লাহ।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ