এখন একটাই দফা,এক দাবি এই মুহূর্তে পদত্যাগ করো: মির্জা ফখরুল - জনতার আওয়াজ
  • আজ রাত ১২:০২, শুক্রবার, ১৫ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১লা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৮শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

এখন একটাই দফা,এক দাবি এই মুহূর্তে পদত্যাগ করো: মির্জা ফখরুল

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: শুক্রবার, জুলাই ২৯, ২০২২ ২:৪৬ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: শুক্রবার, জুলাই ২৯, ২০২২ ২:৪৬ অপরাহ্ণ

 

সিনিয়র করেসপডেন্ট
দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আর সময় নেই। এখন জেগে উঠতে হবে। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে এই ফ্যাসিবাদী, ভয়ঙ্কর দুর্নীতিবাজ সরকারকে একটা ধাক্কা দিয়ে পতন ঘটাতে হবে।

শুক্রবার (২৯ জুলাই) দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বিদ্যুতের লোডশেডিং ও বিদ্যুৎ খাতের অব্যবস্থাপনার প্রতিবাদে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপি আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। সমাবেশে মহিলা দলের নেত্রীরা হারিকেন হাতে নিয়ে নানা স্লোগান দেন।

‌মির্জা ফখরুল ব‌লেন, এখন আর অনেক দফাটফা নাই। এখন একটাই দফা,এক দাবি এই মুহূর্তে পদত্যাগ করো। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করো। একটি নিরপেক্ষ সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করে এই সংসদ বাতিল করো এবং নতুন নির্বাচন কমিশনের অধিনে একটা গ্রহণযোগ্য নির্বাচন দিয়ে জনগণের ক্ষমতা,জনগণের হাতে ফিরিয়ে দাও।

আওয়ামীলীগের পতন ঘণ্টা বাজতে শুরু করেছে উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, এখন বিদ্যুৎ, এর পরে জ্বালানি তেল, এর পর দেখবেন খাজাঞ্চিখানা শুন্য হচ্ছে, রিজার্ভ শেষ হচ্ছে। দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি পাচ্ছে আকাশচুম্বী হয়ে।’

সমাবেশে লোডশেডিংয়ের প্রতিবাদে হাতে হ্যারিকেন নিয়ে এসেছিলো বিএনপি নারী নেত্রী ও কর্মীরা। তাদের উদ্দেশ্য করে বিএনপি এই নেতা বলেন, এই হ্যারিকেনটা গণভবনে হাসিনার কাছে পাঠিয়ে দেন। তার হাতে হ্যারিকেন ধরিয়ে দেন। শুধু এই মিটিংয়ের মধ্যে হ্যারিকেন নিয়ে আসলে হবে না। যখনি অন্ধকার আসবে,যখনি লোডশেডিং হবে তখনই হ্যারিকেন আর মোমবাতি নিয়ে বের হবেন। কারণ এই মোমবাতি ও হ্যারিকেন নিয়ে বের না হলে আমরা আলোকিত হব না।’

এই সরকার বিদ্যুতের জন্য হাজার হাজার কোটি টাকা লুট করেছে। লুট করে বিদেশে পাঠিয়েছে। ২০২১ থেকে ২০২২ সালে শুধু বিদ্যুৎখাতে লোকসান হয়েছে আঠাইশ হাজার কোটি টাকা। অন্যান্য বছর মিলিয়ে লক্ষ কোটি টাকা এই লোকসান ছাড়িয়ে গেছে। কয়েক দিন আগেই আওয়ামী লীগের নেতা, মন্ত্রীরা হাতিরঝিলে আতশবাজি ফুটিয়ে উৎসব করে ঘোষণা দিলো দেশে শতভাগ বিদ্যুতায়নের ফলে লোডশেডিং মুক্ত হলো। আর এখন শহরে দুই,তিন ঘণ্টা বিদ্যুৎ যায় আর গ্রামে যেখানে এখন বোরোর মৌসুমে সব চেয়ে বেশি সেচের দরকার, যার জন্য বিদ্যুৎ দরকার।সেখানে সাত আট ঘণ্টা কোন বিদ্যুৎ থাকে না।

কারা এই টাকাগুলো নিয়েছে প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, সামিট গ্রুপ এক বছরে নিয়ে নয় হাজার দুইশত আটাত্তর কোটি টাকা,ক্যাপাসিটি চার্জ বাবদ। বিদ্যুৎ উৎপাদন করে না,বিদ্যুৎ দেয় না কিন্তু ক্যাপাসিটি চার্চের টাকা নিয়ে চলে যায়। আরেক দিয়ে রয়েছে ন্যাশনাল, ৬ হাজার ৯শ ৭০কোটি টাকা। দ্য পাওয়ার হোল্ডিং ছয় হাজার নয়শত বিশ কোটি টাকা,ইউনাইটেড গ্রুপ চার হাজার আটশত একাশি কোটি টাকা কেপিপিএল নিয়ে তিন হাজার ছয়শত তেত্রিশ কোটি টাকা। এমন দশটা কোম্পানি আওয়ামী লীগ ও শেখ হাসিনার সঙ্গে ওতপ্রতভাবে জড়িত, তারাই শত শত কোটি টাকা বিদ্যুৎ উৎপাদন না করেই নিয়ে চলে গেছে।

এই বিদ্যুৎ আনার জন্য আওয়ামী লীগ সরকার কুয়েক রেন্টাল পাওয়ার প্ল্যান্ট করেছিলো। এই পাওয়ার প্ল্যান্টগুলো নিয়ে এসেছিলো কোন টেন্ডার না করেই হাজার হাজার কোটি টাকা বেশি ব্যায় এবং এইটার জন্যে কোন মামলা হবে না, ইনডেমনিটি আইন তৈরী করেছে এই সরকার।এক দিকে ট্যানেল নির্মাণ করছে অন্য দিকে মানুষের খাওয়ার টাকা নাই। শতকরা ৪২ ভাগ মানুষ দুবেলা খাবার পায় না বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

অর্থমন্ত্রীর বক্তব্য উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরা আইএমএফ থেকে টাকা ধার নেব না। আমরা এখনো খুব শক্তিশালী আছি অর্থনীতির মধ্যে। কিন্তু কালকে আমরা পত্রিকায় দেখলাম সারে চারশত বিলিয়ন ডলার তারা ধার চেয়েছেন আইএমএফ’এর কাছে থেকে। আমরা দেখবেন এই সরকার মুখে এইসমস্ত কথা বলে,অনর্গল মিথ্যা কথা বলে। মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে বোকা বানিয়ে রাখে কিন্তু ভেতরে ভেতরে তারা শুন্য হয়ে গেছে।

ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহবায়ক আমানউল্লাহর সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব আমিনুল হকের সঞ্চালনায় বিক্ষোভ সমাবেশে এই বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। বক্তব্য রাখেন বিএনপির কেন্দ্র ও মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ শাখার নেতাসহ বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতারা।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ