শরীয়তপুর-২বিএনপি ও জামায়াত দল গুচ্ছাছেন
নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ:
শনিবার, জুন ২১, ২০২৫ ১:৪১ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ:
শনিবার, জুন ২১, ২০২৫ ১:৪১ অপরাহ্ণ

মোঃ আবুল হোসেন সরদার ,শরীয়তপুর থেকে
আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে শরীয়তপুর-২ (নড়িয়া-সখিপুর) আসনে দলীয় মনোনয়ন পেতে তৎপর হয়ে উঠেছেন বিএনপি, জামায়াত, জাতীয় পার্টিসহ বিভিন্ন দলের মনোনয়ন প্রত্যাশীরা। তবে নির্বাচন নিয়ে সবচেয়ে বেশি তৎপর রয়েছে বিএনপি ও জামায়াত। আওয়ামী লীগসহ সমমনা দলগুলোর নেতাকর্মীরা মাঠে নেই বললেই চলে। অন্য আসন গুলোর মতো শরীয়তপুর-০২ (নড়িয়া-সখিপুর) আসনে ও নির্বাচন কেন্দ্রিক দলীয় ও সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদার করেছেন সম্ভাব্য প্রার্থী ও তাদের কর্মী সমর্থকরা। অন্যান্য দলের প্রার্থীদের মাঝে মধ্যে এলাকায় এসে সভা সমাবেশ করলে ও তেমন একটা মাঠে নেই।জেলার উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত এ আসনটি নড়িয়া উপজেলা ও ভেদরগঞ্জ উপজেলার সখিপুর থানা নিয়ে গঠিত।এ আসনে নড়িয়া উপজেলার ১৪টি ইউনিয়ন,১টি পৌরসভা এবং সখিপুর থানার ৯টি ইউনিয়ন রয়েছে। ১৯৭৩ সালে দেশের প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নুরুল হক হাওলাদার এ আসন থেকে সাংসদ নির্বাচিত হন। তিনি নির্বাচিত হওয়ার কিছুদিন পরেই নিজ বাড়িতে আততায়ীর গুলিতে নিহত হন। এরপর একই বছর উপ-নির্বাচনে এই আসনে আ‘লীগের প্রাক্তন এমএনএ ডাক্তার আবুল কাশেম নির্বাচিত হন। ১৯৭৯ সালে দ্বিতীয় সংসদ নির্বাচনে আ‘লীগের কর্নেল (অব.) শওকত আলী, ১৯৮৬ সালে তৃতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টির টিএম গিয়াস উদ্দিন আহমেদ, ১৯৮৮ সালে ৪র্থ নির্বাচনে জাতীয় পার্টির টি এম গিয়াস, ১৯৯১ সালে ৫ম সংসদ নির্বাচনে আ‘লীগের কর্নেল শওকত আলী, ১৯৯৬ সালে ১৫ ফেব্রæয়ারী অনুষ্ঠিত ৬ষ্ঠ সংসদ নির্বাচনে বিএনপি‘র ডাক্তার কে.এ জলিল, ১৯৯৬ সালের ১২ জুন ৭ম সংসদ নির্বাচনে আ‘লীগের কর্নেল শওকত আলী, ২০০১ সালে ৮ম সংসদ নির্বাচনে আ‘লীগের শওকত আলী, ২০০৮ সালে ৯ম নির্বাচনে শওকত আলী এবং ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারী ১০ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ও পুনরায় আ‘লীগ থেকে কর্নেল শওকত আলী নির্বাচিত হয়। ২০১৮ সালে একাদ্বশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ,কে,এম এনামুল হক শামীম নির্বাচিত হয়।দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ও একেএম এনামূল হক শামীমনির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।
এ আসনটি মুলত প্রবাসি নির্ভর এলাকা। এ আসনে বিএনপি দুটি ধারা রয়েছে। একটি ধারায় রয়েছে শরীয়তপুর জেলা বিএনপির সভাপতি, বিএনপির নির্বার্হী কমিটির সদস্য আলহাজ শফিকুর রহমান কিরন। অপরটিতে রয়েছেন শরীয়তপুর জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি ও বাংলাদেশ কৃষকদলের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি কর্ণেল (অবঃ) এস এম ফয়সাল। এরা দুজনই এ আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী।
বিএনপি থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী শফিকুর রহমান কিরণ বর্তমান শরীয়তপুর জেলা কমিটির সভাপতি ও কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য। তিনি স্কুল জীবনে রোভার স্কাউটের গ্রæপ লিডার হওয়ার সুবাদে ১৯৭৯ সালে জিয়াউর রহমানের সান্নিধ্য লাভ করেন। সেই থেকে তৎকালিন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে ভালবেসে তার দলের প্রতি আকৃষ্ট হন। তার জন্ম পার্শবর্তী চাঁদপুর জেলায়। তার পিতা হাবিবুল্লাহ চোকদার পাকিস্তানের গোড়ার দিকে চাঁদপুর পৌরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন। তাদের পুরনো পৈত্রিক নিবাস ভেদরগঞ্জে উপজেলার সখিপুরের তারাবুনিয়া এলাকায়।তিনি একজন সফল মানব সম্পদ রপ্তানীকারক। ১৯৯১ সালে তিনি শরীয়তপুর-৩ আসনে বিএনপি প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনী প্রচারনার মাধ্যমে শরীয়তপুরে বিএনপি রাজনীতিতে আবির্ভূত হন। ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রæয়ারী নির্বাচনে কিরণ শরীয়তপুর-৩ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হন। এরপর ১৯৯৬‘র ১২ জুনের নির্বাচনে এবং ২০০১ সালের নির্বাচনে একই আসন থেকে আওয়ামীলীগের কেন্দীয় নেতা আব্দুর রাজ্জাকে সাথে পরাজিত হন। ২০০৮ সালে তিনি শরীয়তপুর-২ থেকে সর্বশেষ বিএনপি প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দিতা করে পরাজিত হন। একাদ্বশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও তিনি একই আসন থেকে প্রতিদ্বন্দিতা করেছিলেন। শফিকুর রহমান কিরন ১৯ বছর জেলা বিএনপির সহসভাপতি ছিলেন। তিনি একবার জেলা বিএনপি‘র যুগ্ম আহবায়ক একবার সদস্য সচিব ও এক বার সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। ২০১৩ সাল থেকে টানা দ্বিতীয় মেয়াদে জেলা বিএনপির সভাপতির দায়িত্ব পালন করে আসছেন। আগামী নির্বাচনে তিনি এই আসন থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী। তার বিশ্বাস, এই আসনে দল তাকে মনোনয়ন প্রদান করবে।
কর্নেল (অব:) এস এম ফয়সাল দীর্ঘ দিন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে কর্মরত ছিলেন। ২০০৯ সালে তিনি স্বশস্ত্র বাহিনীর চাকুরী থেকে অবসর গ্রহন করে বিএনপির রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত হন এবং ঢাকায় ব্যবসা শুরু করেন। ২০১৪ সালে তাকে শরীয়তপুর জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি মনোনীত করা হয়। বর্তমানে তিনি জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। কর্নেল ফয়সাল শরীয়তপুরের চরাঞ্চলের একটি ঐতিহ্যবাহী সম্ভ্রান্ত পরিবারের সন্তান। তার বড় ভাই সৈয়দ আমির খসরু বিএনপির প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই একজন নিবেদিত প্রান ও কর্মী হিসেবে কাজ শুরু করেন। ১৯৮২ সালে জেনারেল এরশাদ সামরিক শাসন জারি করার পর অনেক প্রভাবশালী বিএনপি নেতা যখন জনদল/জাতীয় পার্টিতে যোগদান করেন তখন আমির খসরু শরীয়তপুরে বিএনপি পূনর্গঠনে ব্যাপক কাজ করেছেন। মূলধারার বিএনপিকে তিনি সংগঠিত করে রাখেন। তার চেষ্টায় এ অঞ্চলে বিএনপি সচল থাকে। নির্মোহ ও ত্যাগী নেতা আমির খসরুর ছোট ভাই এবং প্রকৃত বিএনপি ভাবধারার ক্লিন ইমেজের লোক হিসেবে কর্নেল ফয়সাল আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন পাবেন বলে প্রত্যাশা করেন।
এ আসন থেকে জামায়েতের প্রার্থী অধ্যাপক ডাঃ মাহমুদ হোসাইন। জাতীয় পাটির-থেকে, ম ম ওয়াসিম খোকন। এ আসনের ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সম্ভাব্য প্রার্থী এডভোকেট মানিক মিয়া সরদার, মাওলানা শওকত আলী।
এ ব্যাপারে অধ্যাপক ডাঃ মাহমুদ হোসাইন বলেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী থেকে আমাকে শরীয়তপুর ০২ আসন (নড়িয়া- সখিপুর) থেকে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন করার জন্য মনোনীত করা হয়েছে। আমাদের মনোনয়ন পাওয়ার জন্য কোন লবিং তদবির থাকে না। এখন আমরা নির্বাচনের জন্য কাজ করে যাচ্ছি।
জেলা বিএনপির সভাপতি সাবেক এমপি শফিকুর রহমান কিরণ বলেন, আমাদের আসলে দলে কোন গ্রæপিং নেই। এটা নেতৃত্বের প্রতিযোগীতা। এটা থাকবেই। আমি দলের জন্য যে কাজ করেছি তার মুল্যায়ন করলে আমি আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শরীয়তপুর ০২ আসন থেকে মনোনয়ন পাবো।
কর্ণেল অবঃ এস এম ফয়সাল বলেন,এ যুগধরে এলাকায় স্বৈরাচার হাসিনা বিরোধী আন্দোলনে নেতাকর্মীদের নিয়ে মাঠে দলের পক্ষে জীবনবাজি রেখে কাজ করে আসছি। আশাকরি দল কাজের মুল্যায়ন করে আমাকে মনোনয়ন দিবেন।
জনতার আওয়াজ/আ আ