পুরোনো রেপ্লিকা প্লেনে প্রশিক্ষণ: কত প্রাণ গেলে থামবে এই আত্মঘাতী উদাসীনতা? - জনতার আওয়াজ
  • আজ রাত ৮:৫২, শুক্রবার, ১৫ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১লা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৮শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

পুরোনো রেপ্লিকা প্লেনে প্রশিক্ষণ: কত প্রাণ গেলে থামবে এই আত্মঘাতী উদাসীনতা?

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: সোমবার, জুলাই ২১, ২০২৫ ৮:৪২ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: সোমবার, জুলাই ২১, ২০২৫ ৮:৪২ অপরাহ্ণ

 

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
ছবি:সংগৃহীত
বাংলাদেশে বিমানবাহিনীর প্রশিক্ষণ মিশনে প্রাণ হারালেন আরেক স্কোয়াড্রন লিডার। এবারের নাম তাওকির ইসলাম সাগর। অভিযোগ উঠেছে, ভাঙারি অবস্থায় থাকা একটি প্রশিক্ষণ বিমানের যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে।

প্রশ্ন এখন, ১৯৬৬ সালের চাইনিজ রেপ্লিকা প্লেনে এখনো কি প্রশিক্ষণ চালিয়ে যাওয়া হবে? এই প্রশ্ন শুধু বিমানবাহিনী নয়, সরকারের প্রতিও। কারণ, আজকের প্রাণহানির দায় কেউ এড়াতে পারে না।

এর আগে ৯ মে ২০২৪ স্কোয়াড্রন লিডার আসিম জাওয়াদ প্রাণ হারান এক ট্রেনিং মিশনে। সেদিনও প্লেনটি যান্ত্রিক ত্রুটির শিকার হয়। শেষ মুহূর্তে জনবহুল এলাকা থেকে বিমান সরিয়ে দিয়ে বড় দুর্ঘটনা এড়ান তিনি। আর আজ, স্কোয়াড্রন লিডার তাওকির ইসলাম সাগর সেই একই ব্যবস্থার গলদে জীবন দিলেন।

যখন একটি রাষ্ট্র নিজের সবচেয়ে মেধাবী পাইলটদের এভাবে হারায়, তখন সেটা নিছক দুর্ঘটনা নয়, এটা অবহেলা। আর অবহেলা থেকে জন্ম নেয় অপরাধ।

বাংলাদেশের আকাশে এখনো যে প্রশিক্ষণ বিমানগুলো উড়ছে, সেগুলোর উৎপাদন ও প্রযুক্তি সত্তরের দশকের। বহু উন্নত দেশ এগুলো গত ৩০ বছর আগেই বাতিল করে দিয়েছে বা রিসাইক্লিং কারখানায় পাঠিয়েছে। অথচ বাংলাদেশে এখনো এসবই ব্যবহার হচ্ছে প্রশিক্ষণের নামে।

যখন দেশের ভবিষ্যৎ সেরা মেধাবীদের হাতে আপনি ভাঙারি বিমান তুলে দেন, তখন শুধু তাদের নয় বরং আপনি দেশের সামরিক ভবিষ্যৎকেও ঝুঁকির মুখে ফেলছেন।

প্রতিবারই দেখা যায়, কেউ হাসপাতালে যাবেন, পরিবারকে সহানুভূতির কিছু কথা বলবেন, হয়তো সামান্য আর্থিক অনুদানও দেওয়া হবে। এরপর আবার সব আগের মতো চলতে থাকবে। নতুন করে টেন্ডার হবে পুরোনো প্লেন “আধুনিকায়নের” নামে, যেখানে আসলে আরেকটি জীবন ঝুঁকির মুখে পড়বে।

এই মৃত্যুর দায় কোনো ‘মেইনটেন্যান্স টিম’ কিংবা ‘মরিচা ধরা যন্ত্রাংশের’ নয়। এই দায় সেই কর্মকর্তাদের, যারা সিদ্ধান্ত নেন, বাজেট বরাদ্দ দেন, তদারকি করেন আর প্রতিবার নিরব থাকেন।

এবার চুপ থাকবেন না। এবার প্রশ্ন তুলুন। আরও একটি প্রাণ হারানোর আগেই ব্যবস্থা নিন।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ