সরকার সরাতে বিএনপির সঙ্গে যুগপৎ আন্দোলন করবে গণঅধিকার পরিষদ
নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ:
বুধবার, আগস্ট ৩, ২০২২ ২:৫০ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ:
বুধবার, আগস্ট ৩, ২০২২ ২:৫০ অপরাহ্ণ

সরকার সরাতে বিএনপির সঙ্গে যুগপৎ আন্দোলন করবে গণঅধিকার পরিষদ। এ বিষয়ে বিএনপির সঙ্গে একমত পোষণ করেছে দলটি। বুধবার (৩ আগস্ট) দুপুরে গণ অধিকারের পরিষদের নেতাদের সঙ্গে সংলাপের পর বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ কথা জানান।
তিনি বলেন,আওয়ামী লীগের অধীনে কোনো নির্বাচনে অংশ নেয়া হবে না। সরকারকে পদত্যাগে বাধ্য করে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের উদ্যোগ নেয়া হবে। জয়ী হলে সকলকে নিয়ে জাতীয় সরকার গঠন করা হবে রাষ্ট্র মেরামতের জন্য।
মির্জাপুর ফখরুল বলেন, আমরা গণঅধিকার পরিষদের সাথে আলোচনা সভায় সন্তুষ্ট হয়েছি। তারা আমাদের সাথে প্রায় সব বিষয়েই একমত পোষণ করেন। বিশেষ করে এই সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচন নয়। আমরা এই বিষয় একমত হয়েছি যে, এই সরকারকে আর ক্ষমতায় থাকতে দেওয়া যাবে না।
তিনি আরও বলেন, এই সরকার অত্যন্ত সচেতনতার সাথে আমাদের অর্জনগুলো ছিলো,গণতন্ত্র বাকস্বাধীনতা ধ্বংস করেছে। এই কারণে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে একটা আন্দোলন করার জন্য একমত হয়েছি।
বিএনপির মহাসচিব বলেন,আমাদের কথা বলার স্বাধীনতা, বাকস্বাধীনতা, সংবাদ ও সাংবাদিকতা, ও ন্যায় বিচারের স্বাধীনতা ধ্বংস করেছে এসব কারণে জনগণকে সাথে নিয়েই সংসদ ভেঙে দেওয়া হবে। নিরপেক্ষ সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করে শক্তিশালী নির্বাচন কমিশন গঠন পূর্বক গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠান করে সরকার গঠন করতে হবে।
তিনি বলেন, সরকার গঠনের পরেই সবাইকে নিয়ে একটা জাতীয় সরকার গঠন করবো। আমরা মনে করি এ বিষয়ে একটা পরিবর্তন হওয়া দরকার।
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে ধন্যবাদ জানিয়ে গণঅধিকার পরিষদের সদস্য নুরুল ইসলাম নূর বলেন, বিএনপির সাথে আমাদের খুব একটা পার্থক্য নাই।
তিনি বলেন, আমরা বিভিন্ন বিষয় আলোচনা করেছি, প্রায় ১০ টা বিষয় উঠে এসেছে। ভোটাধিকার ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় জনগণের ভোটবিহীন জোর জবরদস্তি করে ক্ষমতায় থাকা ফ্যাসিবাদ সরকার সরাতে গণঅধিকার পরিষদ ও অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে একমত। সে ক্ষেত্রে আমাদের দ্বিমত নেই।
তিনি আরও বলেন, ‘আপনারা জানেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে লক্ষ লক্ষ মামলা দিয়েছে। ঐকমত্যের ভিত্তিতে বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে রাজপথে আন্দোলন সংগ্রাম করেই সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে অন্তবর্তীকালীন সরকার গঠনে সবাই একমত।
বিএনপির সাথে গণঅধিকার পরিষদের যে ১০ টি বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে তা হলো-

১/ ভোটাধিকার ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় জনগণের ভোটবিহীন জোরজবরদস্তি করে ক্ষমতায় থাকা বর্তমান ফ্যাসিবাদী সরকার হঠাতে যুগপৎ বা ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন সংগ্রাম।
২/অবাধ, সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে বর্তমান সরকারকে পদত্যাগে বাধ্য করে, রাজনৈতিক দলগুলোর ঐক্যমতের ভিত্তিতে একটি অর্ন্তবর্তীকালীন সরকার ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা। নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিদের সমন্বয়ে নির্বাচন কমিশন পুর্নগঠন, ইভিএম বাতিল করে স্বচ্ছ ব্যালট বাক্সে ভোটগ্রহণ।
৩। রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক রূপান্তর ও কার্যকর সংসদ প্রতিষ্ঠায় প্রধানমন্ত্রী, রাষ্ট্রপতির ক্ষমতার ভারসাম্য আনায়নসহ সংবিধানের প্রয়োজনীয় সংস্কার।
৪/বিচার বিভাগকে নির্বাহী বিভাগ থেকে সম্পূর্ণরূপে আলাদা করে প্রধান বিচারপতিসহ বিচারক নিয়োগে একটি স্বাধীন কমিশন গঠন।
৫/বাক, ব্যক্তি ও সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা, সভা-সমাবেশ করার অধিকারসহ নাগরিকদের সংবিধান স্বীকৃত সকল অধিকার প্রতিষ্ঠা।
৬/ খালেদা জিয়াসহ সকল রাজবন্দী ও ধর্মীয় নেতাদের নিঃশর্ত মুক্তি ও মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার। ভিন্নমতের উপর রাষ্ট্রীয় দমন, পীড়ন, গুম, খুন, নির্যাতন-নিপীড়ন, হামলা মামলা বন্ধে পদক্ষেপ।
৭/ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন, বিশেষ ক্ষমতা আইনসহ সকল গণবিরোধী ও নিপীড়নমূলক আইন বাতিল করা।
৮/ বর্তমান সরকারের গত ১৩ বছরের দুর্নীতি ও অর্থ পাচারের শ্বেতপত্র প্রকাশ করে দুর্নীতি ও অর্থপাচার রোধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ।
৯/ মেগা প্রকল্প ও কুইক রেন্টালের নামে হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাটের সাথে জড়িতদের চিহ্নিত করে বিচার নিশ্চিত করা এবং দীর্ঘমেয়াদী জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে আইন করে বাপেক্সেকে শক্তিশালী স্বায়ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলা।
১০/রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন,বিদেশি রাষ্ট্রের সাথে বাংলাদেশের চুক্তি, প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দেশ,দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বসহ জাতীয় স্বার্থে জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠা।
বিএনপি তিন সদস্যের প্রতিনিধি দলের মধ্যে অন্যদের মধ্যে স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির হোসেন চৌধুরী এবং মিডিয়া সেলের আহবায়ক জহির উদ্দিন স্বপন সংলাপে অংশ নেন।
জনতার আওয়াজ/আ আ