২৪-এর গণঅভ্যুত্থানকে একটি পক্ষ ভাগ-বাটোয়ারা করার ষড়যন্ত্র করছে: সাইফুল হক - জনতার আওয়াজ
  • আজ রাত ১২:২২, শুক্রবার, ১৫ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১লা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৮শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

২৪-এর গণঅভ্যুত্থানকে একটি পক্ষ ভাগ-বাটোয়ারা করার ষড়যন্ত্র করছে: সাইফুল হক

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: শনিবার, আগস্ট ২, ২০২৫ ৬:৫৩ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: শনিবার, আগস্ট ২, ২০২৫ ৬:৫৩ অপরাহ্ণ

 

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
ছবি: সংগৃহীত
একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে যেমন একটি পক্ষ দখল করে নিয়ে ধ্বংস করে দিয়েছে, তেমনি ২৪-এর গণঅভ্যুত্থানকে একটি পক্ষ ভাগ-বাটোয়ারা করার ষড়যন্ত্র করছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক।

শনিবার (২ আগস্ট) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ)-তে বাংলাদেশ বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির উদ্যোগে, ছাত্র-শ্রমিক-জনতার গণঅভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তিতে জাতীয় নেতৃবৃন্দ, সাংবাদিক ও জুলাই যোদ্ধাদের অংশগ্রহণে “ফিরে দেখা রক্তঝরা জুলাই-আগস্ট: প্রত্যাশা আর প্রাপ্তি” শীর্ষক কথকতায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

সাইফুল হক বলেন, আমরা এর আগেও বলেছি যে, জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থান শুধু ছাত্র-জনতা নামে হবে না। এর নাম দিতে হবে ছাত্র-শ্রমিক-জনতা। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে যেমন একটি পক্ষ দখল করে নিয়ে ধ্বংস করেছে, তেমনি ২৪-এর গণঅভ্যুত্থানকে একটি পক্ষ ভাগ-বাটোয়ারা করার ষড়যন্ত্র করছে।

তিনি বলেন, এখনো জানা যাচ্ছে না এই দেশে আগামী ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে কিনা। আমাদের রপ্তানি আয়ের শুল্ক মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কিসের বিনিময়ে ১৫ শতাংশ কমিয়েছে—তা এই সরকারকে জাতির সামনে উন্মুক্ত করার আহ্বান জানান তিনি।

জুলাইয়ের সনদ সময়মতো ঘোষণা করার প্রস্তাব রাখেন। তিনি বলেন, এটি নিয়ে যদি জাতীয় নির্বাচন ব্যাহত হয়, তার জবাব এই অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে দিতে হবে। নতুন রাষ্ট্র গঠনের জন্য সকল রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তিনি।

গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি ফ্যাসিবাদবিরোধী লড়াইয়ের সকল যোদ্ধাদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। তিনি বলেন, এ সরকারের কথা আমাদের প্রতিটি প্রোগ্রামে বলতে হচ্ছে। তাদের প্রথম কাজ ছিল গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের তালিকা করা এবং তাদের পরিবারকে পুনর্বাসন করা। শহীদদের সংখ্যা আমরা প্রথমে শুনেছিলাম ২০০০ (দুই হাজার), তারপর শুনেছি ১৬০০, পরে সরকারি হিসাবে পত্রিকায় দেখেছি ৮০০ (আট শত)। আমরা যেমন মুক্তিযুদ্ধের চেতনা হারিয়ে ফেলেছি, তেমনি এই শহীদদের গল্পও হারিয়ে ফেলেছি।

তিনি বলেন, আমরা বিচার এবং সংস্কারে কিছুটা এগোতে পেরেছি। একটি ঐক্যমত কমিশন গঠন করতে পেরেছি। তবে সবচেয়ে বড় ভুল ছিল ২৪-এর ৬/৭/৮ আগস্টে সকল রাজনৈতিক দল ঐক্যবদ্ধ হয়ে এক জায়গায় দুই ঘণ্টা বসে ফ্যাসিবাদ বিলুপ্তির সিদ্ধান্ত না নিয়ে তড়িঘড়ি করে সেনাবাহিনীর কাছে এবং বঙ্গভবনে গিয়ে একটি সরকার গঠন করা। এর ভোগান্তি আমাদের অক্ষরে অক্ষরে পেতে হবে।

গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর বলেন, গণঅভ্যুত্থান নিয়ে এই দেশের সকল পেশার মানুষের কোনো না কোনো ভূমিকা রয়েছে। আমরা ৩১টি রাজনৈতিক দল ঐক্যমত কমিশনের আলোচনায় অংশগ্রহণ করে মতামত দিয়েছি। কিন্তু এর বাইরে আরও বড় একটি অংশ রয়েছে। আগামীর বাংলাদেশ গঠনের জন্য সেই সমস্ত মানুষের মতামত ঐক্যমত কমিশনে প্রয়োজন।

তিনি প্রধান উপদেষ্টার প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, শুধু বৈষম্যবিরোধী ছাত্রদের মধ্য থেকে গুটিকয়েকজনকে নিয়ে চা-কফি পান করে ঐক্যমত কমিশন সফল হবে না। আমরা দেখেছি, আন্দোলনের আগে এই দেশে জেলখানায় কয়েদি ছিল ৮৮ হাজার। আর বর্তমানে ৭৮ হাজার। তাহলে ফ্যাসিবাদ আর এই সরকারের মধ্যে পার্থক্য কোথায়? এখনো নিরীহ মানুষ জেলখানায় বন্দি রয়েছে, গোপালগঞ্জে গুলি করে মানুষ হত্যা করা হয়েছে। এখন আমরা এসব দেখতে চাই না।

তিনি বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য আব্দুল মঈন খানকে প্রশ্ন রেখে বলেন, ২০২৩ সালে বিএনপির ঘোষিত আন্দোলনে ঢাকায় চারটি পয়েন্ট নির্ধারণ করা হয়েছিল। এর মধ্যে আব্দুল মঈন খান দায়িত্ব পেয়েছিলেন উত্তরাঞ্চলে। কিন্তু সেই আন্দোলনে আধাঘণ্টাও বিএনপি রাজপথে দাঁড়াতে পারেনি। এরপর ২৪ জুলাই-আগস্টে আমরা দেখেছি, ঢাকার যাত্রাবাড়ী, উত্তরা, মোহাম্মদপুর, গাবতলী, মিরপুর—প্রতিটি পয়েন্টে বন্দুকের নলের সামনে দাঁড়িয়ে রাস্তা অবরোধ করেছে এ দেশের ছাত্র-জনতা। রাস্তায় গুলি খেয়ে শহীদ হয়েছে, লাশের ছড়াছড়ি আমরা দেখেছি। এক পর্যায়ে আন্দোলনের মুখে ফ্যাসিবাদী সরকার দেশ ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছে। এখন আমরা চিন্তা করছি কিভাবে নির্বাচন করে ক্ষমতা দখল করব, অন্য কিছু নয়।

বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু বলেন, শেখ মুজিব একাত্তরের মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে বেইমানি করেছেন এবং তার কন্যা শেখ হাসিনা দেশের জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করে ভারতের দালাল হিসেবে ভারতে পালিয়ে রয়েছেন। তাকে এই দেশের জনগণ কোনোদিন ক্ষমা করবে না। তাকে প্রকাশ্যে এসে জনগণের কাছে ক্ষমা চাইতে হবে, তা না হলে এ দেশে তার কবর হবে না।

সভায় আরও বক্তব্য রাখেন বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান, ভাষানী জনশক্তি পার্টির চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু, নাগরিক ঐক্যের সাধারণ সম্পাদক শহিদুল্লাহ কায়সার, এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু, কামাল উদ্দিন পাটোয়ারী (জাসদ–জেএসডি–এর সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক), শফিক আহমেদ (সিইও, একাত্তর টেলিভিশন), বাসিত আল জামান (সাংবাদিক নেতা), বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির রাজনৈতিক পরিষদের সদস্য কমরেড আকবর খান প্রমুখ।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ