দুই দলের নাম মিলিয়ে একটি দল, বেডরুমে কার্যালয় - জনতার আওয়াজ
  • আজ ভোর ৫:২৩, শুক্রবার, ১৫ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১লা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৮শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

দুই দলের নাম মিলিয়ে একটি দল, বেডরুমে কার্যালয়

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: বৃহস্পতিবার, আগস্ট ১৪, ২০২৫ ১১:২২ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: বৃহস্পতিবার, আগস্ট ১৪, ২০২৫ ১১:২২ অপরাহ্ণ

 

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
ছবি: সংগৃহীত
বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের সময়কার নির্বাচন কমিশন আওয়ামী স্বৈরতন্ত্রের অন্যতম হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার হয়ে এসেছিল বলে অভিযোগ করেছেন বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি (একাংশ)। দলটির নেতারা বলছেন, জুলাই অভ্যুত্থান উত্তর নতুন বাংলাদেশে প্রজাতন্ত্রের নির্বাচন কমিশন তার পুরোনো খোলস থেকে বের হয়ে আসবে প্রত্যাশা ছিল জাতির। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখজনকভাবে অপ্রিয় সত্য যে, নির্বাচন কমিশন সেই বিশ্বাস ও প্রত্যাশা পূরণে অনেকটা ধোঁয়াশা তৈরি করেছে।

বৃহস্পতিবার (১৪ আগস্ট) এক বিবৃতিতে বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির নির্বাহী সভাপতি মাওলানা একে এম আশরাফুল হক, মহাসচিব মাওলানা মুমিনুল ইসলাম, সহকারী মহাসচিব মাওলানা যোবায়ের হোসেন নেজামী, সহকারী মহাসচিব মাওলানা সাইফুল ইসলাম ও সংগঠন সচিব মাওলানা আনোয়ার হোসেন আনসারী এসব কথা বলেন।

বিবৃতিতে তারা বলেন, নির্বাচন কমিশনের বাছাইয়ে ২৪-এর ডামি নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী এবং ২০০৮ সালে খুনি হাসিনাকে ‘রাবিয়া বসরী’ উপাধি প্রদানকারীদের ‘জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম ও নেজামে ইসলাম পার্টি’ এবং বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি (অপর অংশ) নামে নিবন্ধনের তালিকা রাখার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।

২০২৪-এর নির্বাচনের আগে স্বৈরাচার সরকার সক্রিয় রাজনৈতিক দল বাদ দিয়ে রাজনৈতিক কোনও সক্রিয়তা নেই, এমন অনেক দলকে নিবন্ধন দিতে দেখা গেছে বলে অভিযোগ করেন তারা।

নেজামে ইসলাম পার্টির নেতারা বলেন, বর্তমান নির্বাচন কমিশনও এমন অপকৌশলের পথে হাঁটছে। নেজামে ইসলাম পার্টি নামে যাদের আমলনামায় কোনও রাজনৈতিক সংক্রান্ত কিছু নেই, এমন লোকজনকে নিবন্ধন বাছাইয়ে উত্তীর্ণ করা হয়েছে। আমরা জানতে পেরেছি যে, জুলাই অভ্যুত্থানে যাত্রাবাড়ীতে ছাত্রজনতার নির্মম হত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলার ৩ নম্বর আসামিকেও ‘জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম ও নেজামে ইসলাম পার্টি’ নামে নিবন্ধন প্রক্রিয়ায় রাখা হচ্ছে। যদি বিষয়টি এমনি হয় তাহলে এই নির্বাচন কমিশনও ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের দোসর হিসেবে চিহ্নিত হবে এবং তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।

নির্বাচন কমিশনের নির্বাচনের নিবন্ধনের প্রক্রিয়ায় থাকা ২২টি দলের মধ্যে একটি হচ্ছে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম ও নেজামে ইসলাম পার্টি। কমিশনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, রাজধানীর পুরান ঢাকার বাংলাবাজার এলাকায় একটি গলির মধ্যে এম আর প্লাজার ১০ম তলায় জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম ও নেজামে ইসলাম পার্টির কার্যালয়। কিন্তু সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ভবনটি ৯ তলা।

ঢাকা পোস্টের জবি প্রতিনিধি মাহতাব লিমন জানান, ভবনের বাইর থেকে বোঝার উপায় নেই এখানে কোনও রাজনৈতিক দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয় আছে। দলটির নেই কোনও সাইনবোর্ড। আশপাশের ব্যবসায়ীদের কাছে জানতে চাইলে, তারাও এখানে রাজনৈতিক দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয় থাকার কথা জানাতে পারেনি।

তিনি আরও বলেন, ভবনের ছাদে গিয়ে দেখা যায়, এক কর্নারে ছোট্ট একটি কক্ষের বাইরে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম ও নেজামে ইসলাম পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয় লেখা একটি ব্যানার। যদিও রুমটির দরজা তালা দেওয়া ছিল। পরে ভবনের দারোয়ান এসে রুমটি খুলে দেন।

সরেজমিনে দলটির কার্যালয় হিসেবে ব্যবহৃত রুমের মধ্যে একটি বেড, একটি ড্রেসিং টেবিলসহ ১০-১২টি চেয়ার, একটি সোফা, ফাইল রাখার একটি কেবিনেট দেখা গেছে। কিছুক্ষণ পরে সেখানে রবিউল ইসলাম নামে এক ব্যক্তি উপস্থিত হয়ে নিজেকে দলের যুগ্ম মহাসচিব পরিচয় দিলেও দলের কার্যক্রম সম্পর্কে কিছুই জানাতে পারেননি।

প্রসঙ্গত, বর্তমান নির্বাচন কমিশনের ২৩ নম্বর নিবন্ধিত দল জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ। আর নিবন্ধনের জন্য প্রাথমিকভাবে বাছাইয়ে থাকা ৫ নম্বর দল বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ